মমতার ‘সৈনিক’ বেসুরো তৃণমূলে, অভিমানী বিধায়কের মান ভাঙাতে আসরে মন্ত্রীরা
বামেদের আমলে যখন ঘর থেকে বেরোতে পারতেন না কেউ, ভোট হত বোমা আর বারুদের গন্ধে, সেই সময় থেকে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। অসম সাহসের পরিচয় দিয়ে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে তিনি সিপিএমের সঙ্গে লড়াই চালিয়েছিলেন।
বামেদের আমলে যখন ঘর থেকে বেরোতে পারতেন না কেউ, ভোট হত বোমা আর বারুদের গন্ধে, সেই সময় থেকে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। অসম সাহসের পরিচয় দিয়ে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে তিনি সিপিএমের সঙ্গে লড়াই চালিয়েছিলেন। একা কাঁধে তিনি হাওড়ালর লাল-গড়কে বানিয়েছিলেন সবুজ। সেই তিনিই এখন দলে বেসুরো হয়েছে। তাঁর ফেসবুক পোস্টে বিদায়ের সুর বাজতেই আসরে তৃণমূল।

তিনি উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা। হাওড়া গ্রামীণ জেলার চেয়ারম্যান। তিনি হঠাৎ করেই ফেসবুক পোস্টে বিদায় বার্তা দিয়েছেন। নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গানের একটি লাইন তুলে ধরে দিয়েছেন আবেগঘন বার্তা- 'আমরা যাবার সময় হ'ল দাও বিদায়'। তারপরই শুরু হয়েছে তাঁর মানভঞ্জনের পালা।
তৃণমূল এখন জানতে চাইছে, সমীর পাঁজার মতো লড়াকু নেতা কেন বিদায় নিতে চাইছেন রাজনীতি থেকে। কেন তিনি শুধু শিক্ষকতা করে বাকি জীবনটা কাটাতে চাইছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানার ও বোঝার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। আর এক মন্ত্রী প্রাক্তন জেলা সভাপতি অরূপ রায়ও উদ্যোগী তাঁর সঙ্গে কথা বলে অভিমান দূর করতে। উদ্যোগী হাওড়ার গ্রামীণ জেলার সভাপতি তথা বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেনও।
প্রচারের আড়ালে থাকা সমীর পাঁজা হঠাৎ করেই বেসুরো বাজতে শুরু করবেন তৃণমূল কল্পনাও করেনি। এর পিছনে কী কারণ। কেন তিনি হঠাৎ করে ফেসবুকে বিপ্লব ঘটালেন। তিনি বিল্পব ঘটিয়ে বলেন, মহান নেত্রী আছেন বলেই আমি আজও তৃণমূল দল ছেড়ে যাইনি। কিন্তু কেন তিনি এমন বেসুরো কথা বললেন, তার একটা আভাসও তিনি দিয়েছেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে।
সমীর লেখেন, কত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে ৩৮টা বছর মহান এই নেত্রীর সঙ্গে এক জন সৈনিক হিসেবে কাজ করতে এখন বড়ই বেমানান লাগছে নিজেকে। আমরা যারা অবিভক্ত যুব কংগ্রেসের আমল থেকে আছি, তারা আদৌ কোনও গুরুত্ব পাচ্ছে কি বর্তমানে? সেই প্রশ্ন তুলে তিনি ফেসবুকে বার্তা দিলেন। দিলেন এক আবেগঘন বিদায় বার্তা।
সমীর পাঁজার বার্তা পৌঁছেছে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে। তারপর ফিরহাদ হাকিম বলেন, সমীর আমাদের পুরনো ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে সংগঠন করছে, লড়াই করে দলটাকে ওই এলাকায় শক্তিশালী ভিতের উপর দাঁড় করিয়েছে। কিছু পাওয়া, না পাওয়া থেকে হয়তো তাঁর অভিমান হয়েছে। আমরা তাঁর সঙ্গে কথা বলব। তাঁর সমাধানও করব। সমীর আমাদের সঙ্গেই থাকবে। আমরা একসঙ্গে কাজ করব, এই বিশ্বাস আমাদের আছে। একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে অরূপ রায় ও অরূণাভ সেনের গলাতেও। সবাই-ই চাইছেন তাঁর সঙ্গে কথা বলতে।












Click it and Unblock the Notifications