শিক্ষক দিবসে হাওড়ায় হাতে বাটি নিয়ে ভিক্ষা শিক্ষকদের
বাসস্ট্যান্ডে ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ ডিপোয় দাঁড়ানো বাসেও উঠছেন। হাতে বাটি৷ ভিক্ষা চাইছেন তাঁরা। না, ওঁরা আদপে ভিক্ষুক নন। তাঁদের সামাজিক সম্মান আছে যথেষ্ট। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে তাঁরা কোণঠাসা। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ তাঁদের৷
ওঁরা পেশায় সকলেরই শিক্ষক। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত, ভাবনাচিন্তায় দিন দিন ভাঙছেন। জীবন - জীবিকা টালমাটাল। পরিবার চালানো নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। সেই কারণে আজ ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের দিন ভিক্ষা করতে বেরনোর কর্মসূচি নিলেন তাঁরা।

NSQF ( ন্যাশনাল স্কিল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক) বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানকারী চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের একাংশ এই কর্মসূচি করলেন। বৃহস্পতিবার হাওড়া স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বাটি হাতে ভিক্ষা করেন তাঁরা। এভাবেই নিজেদের প্রতিবাদ জানালেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের সমগ্র শিক্ষা অভিযানের অন্তর্ভুক্ত এই সকল শিক্ষকরা। রাজ্যের কারিগরী দফতরের মাধ্যমে নিয়োগ করা হয় তাঁদের। কিন্তু সেই নিয়োগটি চুক্তি ভিত্তিক। এজেন্সির মাধ্যমে তাঁদের পাওনাগন্ডা পেতে হয়। বিভিন্ন সরকারি ও সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের কারিগরি শিক্ষা প্রদানের কাজে তাঁরা নিযুক্ত।
তাঁদের স্বল্প বেতনে বছরের পর বছর কাজ করানো হচ্ছে। অথচ সামাজিক সুরক্ষার কোনও সুযোগ সুবিধাই পাননা বলে তাঁদের দাবি। এছাড়াও, বিগত বেশ কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরেও কিছু মাস ছাড়া ছাড়াই নাকি তাঁদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার অজুহাতে শিক্ষকদের ছাঁটাই করা হয়।
বর্তমানে রাজ্যে এখন প্রায় ২৯০০ জন NSQF শিক্ষাকর্মী। অতীতে প্রায় ২১৮ জন ল্যাব অ্যাসিস্টেন্ট ছাঁটাই করা হয়েছে। দাবি জানালেও প্রায় ৩৭ মাস হয়ে গেলেও তাঁদের পুনর্বহাল করা হয়নি। অনিয়মিত বেতন, কর্মহীন হয়ে পড়ার আতংকে তাঁরা আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত।
এর আগে বহুবার তাঁরা দাবি নিয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানান। কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। মাতৃত্বকালীন ছুটিও দেওয়া হয় না। কর্মক্ষেত্র থেকে পাকাপাকি সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও হয়। শিক্ষিত হয়ে এভাবে যদি যন্ত্রণার তাঁদের চলতে হয়। তার থেকে ভিক্ষা করা ভালো। এমনই মত তাঁদের৷
তাই তাঁরা এদিন বাটি হাতে ভিক্ষা করতে পথে নামেন। এভাবে শিক্ষকতার চেয়ে ভিক্ষা করা ভালো বলে মনে করছেন তাঁরা। শিক্ষকদের দাবি, সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে স্থায়ীকরণ। মহিলা সহ সমস্ত শিক্ষাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বেতন কাঠামো পরিবর্ধন করতে হবে। ছাঁটাই হওয়া ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টদেরও পুনর্বহাল করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications