মমতাকে ব্ল্যাকমেল করতেন শুভেন্দু, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য বিজেপিতে গিয়েছেন, কটাক্ষ বেচারাম মান্নার
দলে থাকতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্ল্যাকমেল করতেন শুভেন্দু অধিকারী? বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লোভে বিজেপিতে গিয়েছেন শুভেন্দু? এমনই কড়া আক্রমণ করলেন তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্না। সিঙ্গুরে গিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার জেরে রাজ্য রাজনীতি তে জোর চর্চা চলছে।
অমিত শাহের সভার প্রচারে সোমবার সিঙ্গুরে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। টাটার না হওয়া কারখানাকে তিনি হাতিয়ার করেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রতিও তিনি সমর্থন জানান। আর সেখান থেকেই শুরু রাজনৈতিক আঁচকাআচকি।

সিঙ্গুরে গিয়ে কী বলেছিলেন শুভেন্দু? তাঁর কথায়, সিঙ্গুর আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সমর্থন ছিল না। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য উদার। তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী ভদ্র মানুষ। তাঁদের উদারতা ও ভদ্রতার সুযোগ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টাটাকে সিঙ্গুর থেকে তাড়িয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। আর এই বক্তব্য নিয়েই শুরু জোর আলোচনা।
তৃণমূল শুভেন্দুকে আক্রমণে নেমে পড়েছে এই কথার পরেই। সিঙ্গুরের তৃণমূল নেতা বেচারাম মান্না খুল্লমখুল্লা আক্রমণ করেছেন শুভেন্দুকে। নন্দীগ্রামের বিধায়ক মিথ্যা কথা বলছেন। ইডি, সিবিআই, আয়কর দফতরের ভয় দেখাচ্ছেন তিনি। সিপিএমের সঙ্গে শুভেন্দুর একটা বড় আঁতাত ছিল। সেজন্য তিনি কখনও মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন না। এই অভিযোগ বেচারামের।
তৃণমূলে থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্ল্যাকমেল করেছেন শুভেন্দু অধিকারী৷ বৃহত্তর স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লোভে দলত্যাগ করেছিলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ন্ত্রিত্বের লোভেই তিনি বিজেপিতে গিয়েছেন। এমন মারাত্মক অভিযোগ করেছেন বেচারাম।
এখন বিজেপির মধ্যে জনসমর্থন হারাচ্ছেন শুভেন্দু। দলের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে রোষ তৈরি হচ্ছে। সেজন্য এমন চটকদারি কথা বলে বাজার গরম করা চেষ্টা। এই কথাও দাবি করলেন বেচারাম মান্না। শুভেন্দুর কথাতে মোটেও আমল দিতে চাইছে না তৃণমূল। সিপিএমের সঙ্গে শুভেন্দুর যোগসাজশের কথা পালটা তুলে ধরা হচ্ছে।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, এ যেন ভূতের মুখে রামনাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তখন শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন। নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুরে কোনও মানুষের আন্দোলন ছিল না। চক্রান্ত করা হয়েছিল সেইসময়।
কারখানা হয়নি রাজ্যে। এক দশক পেরিয়েও একই রকম বিতর্কে রয়েছে সিঙ্গুরের সেই জমি।












Click it and Unblock the Notifications