সভা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তে নওশাদের পাশে! বিজেপির সঙ্গীত উৎসবে অনুমতি না দেওয়ার মমতাকে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর
Suvendu Adhikari: ফের একবার আবাস যোজনা নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শ্রীরামপুরে তিনি বলেন, মোদীজি ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ত্রিশ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে ।শহর এবং গ্রাম মিলিয়ে এই টাকা দিয়েছে। গরিবের মাথায় ছাদ দেওয়ার জন্য। এরা টাকা লুট করেছে। গরিব মানুষ টাকা পায়নি, কিন্তু এরা টাকা তুলে নিয়েছে। বিজেপির সংগীত উৎসবে পুলিশের অনুমতি না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন।
প্রিন্সেপ ঘাটে বঙ্গ বিজেপির সংগীত উৎসবে পুলিশের অনুমতি না দেওয়া প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, কী করা যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই গান করবেন। হাব্বা রাম্বা কাম্বা, এপাং ওপাং ঝপাং আমরা সবাই কোলা ব্যাঙ। ওনার সঙ্গে লতা মঙ্গেশকরের কথা হয়, আশা ভোঁসলের কথা হতো, সন্ধ্যাদি ওনাকে গান শিখিয়েছেন, অনুপ ঘোষাল সুর দিতেন ইত্যাদি। অন্য লোককে গান শুনতে তিনি দেবেন না। উনি যাঁদেরকে মনোনীত করবেন তারাই করবেন।

তিনি বলেন, একমাস আগে প্রস্তুতি নেওয়া বাতিল করল গায়ের জোরে। তিনি উদ্যোক্তাদের বলেছেন, সরস্বতী আমাদের আরধ্য দেবী। বাগদেবীর পুজোর পরে একটা ইনডোর প্রোগ্রাম করে যে শিল্পীদের সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল, তাঁদের সম্বর্ধনা দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও হল বুকিং করে সেটা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিরোধিতা করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটাবে, যাতে রাম মন্দির দেখতে যেতে না পারে। এই সরকার পুলিশ দিয়ে এসব করছে, অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আমরণ অনশন প্রসঙ্গে বলেন, ওদের দাবি যুক্তিসঙ্গত। সরকারি কর্মীরা আমরণ অনশনে যাতে না যাযন তার জন্য মুখ্যসচিব বা সরকার অবিলম্বে তাঁদেরকে ডেকে আলোচনা করুক, তিনি সেই আবেদন করেন। তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিবের পাশাপাশি রাজ্যপালের কাছে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন করেন, যাতে কোনও সরকারি কর্মীকে আমরণ অনশন করতে গিয়ে অকালে চলে যেতে না হয়। যেহেতু তারা সরকারকে সময় দিয়েছেন, সেখানে নিশ্চয়ই সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত, বলেন তিনি।
নওশাদ সিদ্দিকির সভা প্রসঙ্গে বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত। তিনি আদালতের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে বলেছেন, পুলিশ যেভাবে মামলা সাজিয়ে আদালতে দিয়েছে, নওশাদ সিদ্দিকিকে গত বছরের ঘটনার জন্য দায়ী করেছে, তা নক্কারজনক। নওশাদের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ারও সময় নেই। তিনি বলেন, নওশাদ ভাইদের সঙ্গে তাদের বিরোধ আছে, থাকবে। ওদের প্রতিষ্ঠা দিবস ওদের মতো করে করবে। তিনি এব্যাপারে ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে স্বাগত জানাতে পারছেন না বলে জানিয়েছে বিরোধী দলনেতা।
ইন্ডিয়া ব্লকের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে বলেন, কংগ্রেস-সিপিএম-সোনিয়া-গান্ধী-রাহুল গান্ধী-সীতারাম ইয়েচুরি বলতে পারবেন। জ্যাঠা-কাকারা এর উত্তর দিতে পারবেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, দিল্লিতে কংগ্রেস এ-টিম হলে তৃণমূল আর সিপিএম বি-টিম। পশ্চিমবাংলায় তৃণমূল এ-টিম হলে সিপিএম আর কংগ্রেস বি-টিম। বিজেপির সঙ্গে এদের কোনও লেনাদেনা নেই।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন শ্রীরামপুরে বিজেপি জেলা কার্যালয়ে গিয়ে ডানকুনির কান্ডে গ্রেফতার হওয়া বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা কেমন আছেন, খোঁজ খবর নেন। আইনি লড়াই চলবে বলে জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী পরিবারগুলির পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।












Click it and Unblock the Notifications