মানুষের পাশে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ, হাত ধরে দেখালো পুজো
সারাবছর শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা সহ বহু গুরুদায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডেও পুলিশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বছরভর রক্তদান শিবির, বিভিন্ন সচেতনতা শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে চলেছে পুলিশ।

এবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পুজো দেখাতে অভিনব উদ্যোগ নিল হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ। একশোজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে নিয়ে বিশেষ বাসে পুজো পরিক্রমার আয়োজন করল হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ। মহাষষ্ঠীতে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের পানিয়াড়ার কার্যালয় থেকে এই পুজো পরিক্রমার সূচনা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বয়সের একশো জন বিশেষভাবে সক্ষম শিশু এই পুজো পরিক্রমায় অংশ নিয়েছে। গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন প্রান্তের বেশ কিছু পুজো তাদের দেখানো হবে। এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন থানা, ট্রাফিক গার্ড ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
কেউ এসেছেন ডায়মন্ডহারবার থেকে, আবার কেউ এসেছেন নদীয়া থেকে কেউবা সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে। ওরা প্রত্যেকেই দৃষ্টিহীন। ওদের কেউ বাসে-ট্রেনে গান গেয়ে পেট চালান আবার কেউ ভিক্ষে করে সংসার চালান।
এরকমই কিছু দৃষ্টিহীন মানুষের পাশে দাঁড়াল গ্রামীণ হাওড়ার বাগনানের অন্যতম পুজো কমিটি হারোপ জাতীয় পাঠাগার। বাগনানের হারোপ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হারোপ জাতীয় পাঠাগার। এবার তাদের দুর্গোৎসব ৮০ তম বর্ষে পদার্পণ করল। পুজোয় যেমন চমক থাকে তেমনই প্রত্যেক বছরই বেশ কিছু সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে তারা।
এবার পঞ্চমীতে সেরকমই উদ্যোগে কিছু দৃষ্টিশক্তিহীন মানুষকে হাজির করিয়েছিল তারা। তাদের সাথে পঞ্চমীর দুপুরে একসাথে মধ্যাহ্নভোজ সারেন সংগঠনের সদস্যরা। বেশ কিছুটা সময় তাদের সাথে গানে, আড্ডায় কাটান নির্মল, পার্থ, তপনরা। সবশেষে তাদের হাতে পুজোর উপহার হিসাবে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনের কর্তা নির্মল পাল, প্রত্যেক বছরের মতো এবারও আমরা পুজোর আনন্দকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে ভাগ করে নিতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছি। তারই অঙ্গ হিসাবে আজ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের ৩০ জন দৃষ্টিশক্তিহীন মানুষের সাথে বেশ কিছুটা খুশি আমরা ভাগ করে নিলাম। উল্লেখ্য, হারোপ জাতীয় পাঠাগার প্রতিবছর গ্রামের বুকে রকমারি থিমের প্রকাশ ঘটায়। এবার তাদের ভাবনা 'আটের স্বপ্ন আশিতে, নারায়ণের হাত ধরে আমরা এবার ছেলেবেলাতে'। দৃষ্টিহীনদের জন্য কয়েকটি দুর্গা মণ্ডপে করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।












Click it and Unblock the Notifications