মমতাকে 'ভরসা' করে হুগলিতে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েটের লড়াই! বুমেরাং হতে পারে পঞ্চায়েত ভোটে
চালুনি করে ছুঁচের বিচার। সম্প্রতি যে বিধায়কের বিরুদ্ধে লাঠি হাতে বিজেপির মিছিলে হামলা চালানোর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়েছিল রাজনীতি, সেই বিধায়ক অসিত মজুমদার পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায়ের আচরণের নিন্দা করছেন। অসিত মজুমদার পরি
চালুনি করে ছুঁচের বিচার। সম্প্রতি যে বিধায়কের বিরুদ্ধে লাঠি হাতে বিজেপির মিছিলে হামলা চালানোর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়েছিল রাজনীতি, সেই বিধায়ক অসিত মজুমদার পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায়ের আচরণের নিন্দা করছেন। অসিত মজুমদার পরিষ্কার জানিয়েছেন, তিনি অমিত রায়ের আচরণের কথা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেবেন। হুগলি জেলার রাজনীতিতে শাসকদলের এই দুই নেতার সম্পর্কের বিষয়টি কারও অজানা নয়।

মারমুখী পুরসভার চেয়ারম্যান
সম্প্রতি পুকুর ভরাট রুখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পরে মারমুখী হয়ে ওঠেন হুগলির চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায়। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিহিরলাল তালুকদারকে ধাক্কা মারার ছবি-ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে পরিষ্কার, একজন বৃদ্ধের মুখ লক্ষ্য করে হাত চালাচ্ছেন অমিত রায়। যদিও চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায়ের সাফাই তাকে অশ্রাব্য গালাগাল করেন ওই বৃদ্ধ। তিনি ওই বৃদ্ধকে থামাতে গিয়েছিলেন। কোনওভাবেই মারধর করার কথা অস্বীকার করেছিলেন অমিত রায়।

আক্রান্তের বাড়িতে তৃণমূল বিধায়ক
ঘটনার পরে সেই মিহিরলাল তালুকদারের বাড়িতে যান চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার। চুঁচুড়ার প্রবীণ নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। বিধায়ক জানান, মানবিকতার খাতিতে তিনি দেখা করতে এসেছেন। বাড়িতে এসে শুনেছেন ওই ব্যক্তি অসুস্থ। চুঁচুড়ার যেখানে অন্যায় হবে সেখানেই প্রতিবাদ হবে বলেছেন তিনি। সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষা বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যায় হলে বিএলআরও, ডিএম, পুলিশ আছে। যেখানেই অন্যায় হবে তিনি অত্যাচারিত মানুষের পাশে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। এই ব্যাপারে কোনও রং-দল তিনি দেখবেন না।

লাঠি হাতে আক্রমণ তৃণমূল বিধায়কের
যদিও কয়েকমাস আগে বিধায়ককে দেখা গিয়েছিল লাঠি হাতে খাদিনামোড়ে বিজেপি কর্মীদের মিছিলে এক বৃদ্ধকে মারধর করতে। জানা গিয়েছিল, বিধায়কের হাতে আক্রান্ত সেই বৃদ্ধও অসুস্থ ছিলেন। যদিও তখন বিধায়ক জানিয়েছিলেন, বিজেপি তাঁর গাড়ি ভাঙবে, আর তিনি হাতে চুড়ি পরে বসে থাকবেন, তা হতে পারে না। কেউ তাঁকে দুর্বল ভাবলে, তিনি দুর্বল নন বলেও জানিয়েছিলেন অসিত মজুমদার।

ভরসা সেই মমতাই
অসিত মজুমদারের নাম না করে অমিত রায় বলেছেন, সব নজরে রাখছেন। যাঁরা এইসব করছেন, তাঁদের ব্যাপারেও শহরের সবাই সব জানে। সত্যটা দেরিতে হলেও উদঘাটিত হবে বলেও মনে করেন তিনি। চেয়ারম্যান আরও দাবি করেছেন, তিনি অন্যায়ের সঙ্গে সমঝোতা করেন না। বিধায়ক অতিউৎসাহী হয়ে গিয়েছেন ওই ব্যক্তির বাড়িতে। যেদিন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পুরপ্রধান করেছেন, সেদিন থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, অভিযোগ করেছেন তিনি।

বিজেপির কটাক্ষ
যদিও এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বিজেপি হুগলি জেলা সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেছেন, এটা লোক দেখানো। বিধায়কের সঙ্গে চেয়ারম্যানের বনিবনা নেই। একে অপরকে সহ্য করতে পারেন না। অথচ অমিত রায়কে বিপাকে ফেলতে সহানুভূতি দেখাচ্ছেন অসিত মজুমদার। এটা সকলেই বোঝে, দলের কাছে নিজেকে ভাল প্রমাণ করতেই তিনি সেখানে গেছেন। তৃণমূলের কালচার হচ্ছে পেটানো। কয়েকদিন আগে এই বিধায়ককেই দেখা গেছে তাঁর নিজের পার্টি অফিসের সামনে লাঠি হাতে এক বয়স্ক মানুষকে মারধর করছেন। সামনে পঞ্চায়েত ভোট তাই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই সেখানে গিয়েছেন।

হুগলি তৃণমূলে দ্বন্দ্ব
রাজনৈতিক মহলের দাবি কোনও ড্যামেজ কন্ট্রোল নয়। নিছক লবি-বাজির ফায়দা তুলতেই বিধায়ক অসিত মজুমদার মিহিরলাল তালুকদারের বাড়িতে গিয়েছেন। এই ঘটনাকে সামনে রেখে দলের কাছে অমিত রায়ের ইমেজ খারাপ করার চেষ্ঠা চালাচ্ছেন তিনি। আর অমিত রায়ের বদরাগি তকমা বরাবরের। স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, দুর্নীতি-তোলাবাজি থেকে কয়েক ক্রোশ দূরে থাকা এই মানুষটি কর্তব্য পরায়ন এবং নিষ্ঠাবান হিসেবেই পরিচিত। তাই চেয়ারম্যান হওয়ায় পর থেকে অনেকটাই বেপরোয়া তিনি। দুই নেতার দ্বন্দ্বে হুগলি তৃণমূলেও দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি।












Click it and Unblock the Notifications