অপরাধের দুয়ারে পড়ুক কাঁটা, মন্ত্রোচ্চারনে পুলিশকে ভাইফোঁটা পড়ুয়াদের
অপরাধের দুয়ারে পড়ুক কাঁটা, মন্ত্রোচ্চারনে পুলিশকে ভাইফোঁটা পড়ুয়াদের
পেশাগত ব্যস্ততার জেরে অনেক পুলিশকর্মীরই দিদি বা বোনের থেকে সরাসরি ফোঁটা নেওয়ার সুযোগ হয়না। তবে বর্তমানে অনেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাইফোঁটায় সামিল হন। এবার পুলিশ কর্মীদের ভাইফোঁটায় ফোঁটা দিলেন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীরা।

পুলিশ কর্মীদের ফোঁটা
বৃহস্পতিবার ভ্রাতৃদ্বিতীয়ায় উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্র ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ কর্মীদের ফোঁটা দেন ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকালেই থানায় পৌঁছে যান ছাত্রীরা৷ পুলিশ কর্মীদের ফোঁটা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। দেওয়া হয় গোলাপও। পুলিশ কর্মীরাও বোনেদের আশীর্বাদ করেন। এদিনের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উলুবেড়িয়া ছাত্র পরিষদের সভাপতি সৌমেন ঘোষ, সংগঠন সদস্য রফিকুল ইসলাম, লিজা মন্ডল, মিরাজুল সহ অন্যান্যরা।

বৈদিক সাহিত্য:
'যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা' এখানে যমুনা যমের ভগ্নী যমী। যম এবং যমী ছিল সূর্যের যমজ পুত্র ও কন্যা। ঋকবেদ মতে যম এবং যমী মর্ত্যে প্রথম পুরুষ ও নারী। যাইহোক কোন এক নির্জন দ্বীপে এই যম এবং যমী একত্রে থাকার সময়ে যমী যমের অভিলাষিণী হয়ে ওঠে। প্রাককৃষিজীবী সমাজে এই ধরণের 'নিষিদ্ধ' সম্পর্কের প্রচুর নিদর্শন আছে। কিন্তু যম একগোত্রের মিলনজাত বিকলাঙ্গ দুর্বল সন্তান এবং অধর্মের দোহাই দিয়ে যমীকে নিরস্ত্র কর।যমী যমকে রেখে দূরে চলে যায়,পরে ফিরে এসে দেখে যমের দেহে প্রাণ নেই।এই বৈদিক অখ্যানে কিন্তু যমকে যমীর ফোঁটা দেওয়ার কোন নিদর্শন নেই।

পুরাণ:
পরবর্তী বৈদিক সাহিত্য মূলত পুরাণে পাই মৃত্যুর পর যম হলেন প্রেতলোক ও নরকের রাজা। আর যমের বিরহে যমী দু:খে বিগলিত হয়ে নদীতে পরিনত হয়।তার নাম হয় যমুনা।
এদিকে যাদব বংশীয় বলরাম অর্থাৎ কৃষ্ণের দাদা একদিন প্রচুর মদ্যপান করে নেশার ঘোরে উত্তপ্ত শরীরকে শান্ত করার জন্য নদীরূপী যমুনাকে কামনা করে। যমুনার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে হালের দ্বারা নিজের বাহুলগ্না করে বলরাম। যমুনা যাদবকুলের ঘরণী হওয়ার যম ও প্রীত হয়। যমুনা যমকে তার বাড়িতে আমন্ত্রন করে।
যম যেদিন তার বোন যমুনার কাছে এসেছিল সেদিন ছিল কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষ এর দ্বিতীয়া তিথি। যমকে যমুনা প্রচুর মিষ্টি ও সুস্বাদু খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করে। যম তার বোনকে বলে তার মতো যে সব বোন এইদিনে তার ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় তাকে আপ্যায়ন করবে তার ভাইয়ের আয়ু বৃদ্ধি পাবে।
এখানে একটা কথা বোধহয় খেয়াল করতে হবে যেহেতু ঐদিন যম নরক থেকে ছুটি নিয়ে মর্ত্যে বা পৃথিবীতে এসেছিল তাই সেদিন তার যমের দুয়ারে কেউ হাজির হয়নি। একদিনের এই ব্রত বা পার্বণের মাধ্যমে অনেকদিনের যমের দুয়ারে কাঁটার আর্তি ফুটে উঠছে না কি?

কৃষ্ণ ও বিষ্ণুর অখ্যান
এইদিন নাকি শ্রীকৃষ্ণ নরকাসুরকে বধ করেন এবং বোন সুভদ্রার কাছে আসেন।সুভদ্রা কৃষ্ণকে কপালে ফোটাঁ দিয়ে মিষ্টি মুখ করিয়ে বরণ করেন। সেই থেকে ভাই এর মঙ্গল ও বিজয় কামনায় এই প্রথা চালু হয়।
বিষ্ণুকে প্রবল পরাক্রমশালী রাজা বলি কোন এক সময় পরাজিত করে পাতালে বন্দি করে রাখেন। শেষ পর্যন্ত বিষ্ণুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন স্বয়ং লক্ষী। লক্ষী বলি কে ভাই হিসেবে স্বীকার করে নেন এবং তার কপালে তিলক এঁকে দেন। ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বলি লক্ষ্মীকে উপহার দিতে চাইলে লক্ষী বিষ্ণুকে চেয়ে নেন। অনেকের মতে সেই থেকে নাকি ভাইফোঁটার সূচনা।












Click it and Unblock the Notifications