Panchayat Election 2023: সুগন্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান বদল না করার দাবি, মঙ্গলের জনপ্রিয়তার নেপথ্যে কী?
Panchayat Election 2023: হুগলির সুগন্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত। এখানকার প্রধান তৃণমূল কংগ্রেসেরই মঙ্গল ওঁরাও। রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পড়ে গিয়ে কোমরে চোট লাগে। ভারী কাজ করা বারণ।
বাবা-ঠাকুরদার সঙ্গে কৃষিকাজ করতেন। নিজের জমি নেই। অন্যের জমি ভাড়া নিয়েই পেঁপে চাষ করেন মঙ্গল। এলাকার মানুষজনের আপদে-বিপদে সব সময় তিনি হাজির। প্রধানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে গর্বিত গ্রামবাসীরাও।

২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর সুগন্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদের দায়িত্ব পান মঙ্গল। রাজনীতি তাঁর কাছে মানুষের উপকার করা, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন। সেই লক্ষ্যেই টানা পাঁচ বছর দক্ষতার সঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজকর্ম পরিচালনা করেছেন। সাজিয়ে দিয়েছেন গোটা পঞ্চায়েত এলাকা, বিপুল উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন।
পাকা বাড়ি থেকে নিকাশি নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। বেড়েছে গোষ্ঠীর সংখ্যা, ট্রেনিং নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন বহু যুবক যুবতী। সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এলাকা ছেয়েছে ছোট মাঝারি শিল্পে। হয়েছে কর্মসংস্থান। মাথা তুলে শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলেছে সুগন্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত।

মঙ্গল রোজ সকালে চলে যান জমিতে। কয়েকটি জমি লিজ নিয়ে পেঁপে বাগান করেছেন তিনি। প্রতিদিন সেই গাছের পরিচর্যা করেন, তারপর কিছু পেঁপে বাজারে বিক্রিও করেন। এভাবেই কোনওরকমে তিনি চালিয়ে নেন ৬ জনের পরিবার। প্রধানের কাজে সন্তুষ্ট এলাকার মানুষ। মঙ্গলকেই ফের প্রধান হিসেবে চাইছেন।

বরাবরই কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত সুগন্ধা। পোলবা দাদপুর ব্লকের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রশান্ত গোল জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিচিতি অনেকটাই পাল্টেছে। দু'টি বড় রাস্তার দু'পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট মাঝারি শিল্প। গড়ে উঠেছে একাধিক কারখানা। অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে গোটা পঞ্চায়েত এলাকার কোথাও কাঁচা রাস্তা নেই। সর্বত্রই রাস্তায় আলো। জনবহুল জায়গায় হাই মাস্ট লাইট লাগানো হয়েছে। পঞ্চায়েত এলাকার ১৭টি ওয়ার্ডে প্রত্যেক বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছয়। বাকি ৭ ওয়ার্ডে কাজ চলছে।

বিদায়ী প্রধান মঙ্গল ওঁরাও জানিয়েছেন, সংলগ্ন এলাকার মহিলাদের ট্রেনিং দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়েছে। গোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে পাঁচশো ছাড়িয়েছে। ট্রেনিং নিয়ে স্কুলের পোশাক তৈরি করছেন অনেকে। কেউ করছেন মাশরুম চাষ, কেউ আবার পশু পালন বা ধুপ, আচার, পাঁপড় মশলা তৈরি করছেন। এলাকায় বসবাসকারী সমস্ত অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা যোজনার আওতায় আনা হয়েছে।
এ ছাড়া কৃষকদের চাষের জন্য বিনা পয়সায় বীজ, সার থেকে শস্য বীমা এবং কৃষি ঋণ দেওয়া হয়েছে। বেকারদের মৎস্য চাষের ট্রেনিং দেওয়ার পাশাপাশি মাছের খাবার, চারা মাছ এবং ভর্তুকি ঋণ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বেশ কয়েক জনকে রঙিন মাছ চাষের জন্য ঋণ দেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications