জিএসটি সমর্থন করা বড় ভুল ছিল, সিঙ্গুরের বুকে দাঁড়িয়ে কেন একথা বললেন মমতা
জিএসটি সমর্থন করা বড় ভুল বলে মনে করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সিঙ্গুরে রাস্তাশ্রী-পথশ্রী প্রকল্পের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্র জিএসটির টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে। একটা টাকাও দিচ্ছে না রাজ্যকে। তা সত্ত্বেও আমরা উন্নয়ন করে চলেছি। রাস্তা করেছি, আবাসন করেছি।

কেন্দ্রকে নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুধু ছবি দিলে হয় না, বুদ্ধি খরচ করতে হয়। কেন্দ্রের সরকার কোনো বুদ্ধি খরচ করছে না। রাজ্যকে বঞ্চনা করছে। সেই বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা ১২ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তার পরিকল্পনা নিয়েছি। সরকারে আসার পর ১ লক্ষ কিমি রাস্তা তৈরি করেছি। ১০০ দিনের ২৬ দিন কাজ হয়ে গিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই সব রাস্তা তৈরিতে কাজ পাবেন ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড হোল্ডাররা। এই মর্মে তিনি সিঙ্গুরের বুকে ২৬ দিন আমরণ অনশনের কথা তুলে ধরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের ধরনায় বসার কথা জানালেন। তিনি আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধরনায় বসবেন কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই সিঙ্গুরের বুকে আন্দোলন আজ ইতিহাস। সিঙ্গুরের সেই কৃষক আন্দোলনের কথা পাঠ্যসূচিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। বাংলার কন্যাশ্রী সারা বিশ্বের মডেল হয়েছে আজ। বাংলার দুর্গাপুজো সারা ভারত তথা বিশ্বের কাছে মডেল। আগামী দিনে মেধাশ্রীও বিশ্বের মডেল হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, সিঙ্গুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি শেষের পথে। কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা একের পর এক কাজ করে চলেছি। কোনো কাজই আমরা থামিয়ে দিইনি। গ্রামবাংলার উন্নয়নে আমরা অগ্রণী। বাংলার রাস্তাঘাট, সৌন্দর্যায়ন তার প্রমাণ। আগে কাঁচা বাড়া, মাটির রাস্তা ছিল। সেইসব এখন পাকা হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ পাকাবাড়ি হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আগের সব রাস্তা ছিল ঢেউ খেলানো। সেখান মাছ চাষও করা যেত। এখন সেই ছবি বদলে গিয়েছে। এখন আবার বড় ট্রাক গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলাচল করে রাস্তা ভেঙে দিচ্ছে। গ্রামবাসীরা এক হন, বড় ট্রাক গ্রামের রাস্তায় ঢুকতে দেবেন না। ছোটো গাড়ি, বাইক চলাচল করুক, তাতে কোনও সমস্যা নেই।
মমতা বলেন, মালবাহী ট্রাকের জন্য বড় রাস্তা রয়েছে। গ্রামের রাস্তায় তা যেন প্রবেশ না করে। রাস্তা তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমরা পুরস্কার পেয়েছি। গ্রামবাংলার চেহারাই পাল্টে গিয়েছে। এদিন তিনি গ্রামের রাস্তার কথা বলতে গিয়ে ছোটোবেলার স্মৃতি রোমন্থনও করেন। বলেন, ছোটোবেলায় পরীক্ষার ছুটির পর একমাস গ্রামে গিয়ে থাকতাম। তখন দেখতাম গ্রামের রাস্তাগুলোর কী অবস্থা। এখন গ্রামের রাস্তা কত সুন্দর!












Click it and Unblock the Notifications