শিল্প-কৃষি একসঙ্গে চলবে, সিঙ্গুরে বার্তা মমতার! দিলেন রেলব্রিজ বিতর্কের জবাবও
শিল্প-কৃষি একসঙ্গে চলবে, সিঙ্গুরে বার্তা মমতার! দিলেন রেলব্রিজ বিতর্কের জবাবও
সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে ফের একবার শিল্পায়নের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা সময়ে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন রাজনৈতিক ভাবে মমতা বন্দ্যপাধ্যায়কে অনেকটাই এগিয়ে দেয়। এমনকি রাজ্যে পালাবদল স্পষ্ট হয়ে যায়। ক্ষমতায় এসেছেন নেত্রী মমতা। দীর্ঘ কয়েক বছর পর আজ শুক্রবার ফের একবার সিঙ্গুর যান তিনি। গত লোকসভা নির্বাচনে সিঙ্গুরে ভালো ভোট পায় বিজেপি। যদিও বিধানসভাতে থাকা খেলেও সামনে পঞ্চায়েত ভোট রয়েছে। আর এর আগে ফের একবার সিঙ্গুর পা রাখলেন নেত্রী। যা রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শিল্পায়নের বার্তা-
সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে কৃষি এবং শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বলেন, সিঙ্গুর তো বটেই, আশেপাশে বহু শিল্প হচ্ছে। আর তা হলে ব্যাপক কর্মসংস্থানেরও ইঙ্গিত দেন প্রশাসনিক প্রধান। এদিন তিনি বলেন, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি, কোচ ফ্যাক্টরি সহ আরও অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে। এমনকি হিন্দুস্তান মোটরস অর্থাৎ উত্তরপাড়াতেও কারখানা হবে বলে জানান মমতা। পাশাপাশি খুব শিঘ্রই কোচ ফ্যাক্টারি উদ্বোধন করতে আসবেন বলে জানিয়েছেন। আগামিদিনে সিঙ্গুরের মাটিতে কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি চলবে বলেও মন্তব্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, শিল্প এবং কৃষি একসঙ্গে এগিয়ে চলবে।

শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা
আর এহেন বার্তা ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের দাবি, একের পর এক মিথ্যা বলে যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি নেতা শমিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, গত দশ বছর ধরে শিল্প এবং অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির কথা শুনছি। এমনকি একই কথা বলে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য বিজেপি নেতার। অন্যদিকে সুজন চক্রবর্তীর দাবি, বাংলার মানুষকে প্রতিদিন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এভাবে বেশিদিন চলবে না বলে দাবি হুঁশিয়ারি বামনেতার।

কামারকুণ্ডু রেলব্রিজের উদ্বোধন
অন্যদিকে হুগলির কামারকুণ্ডু রেলব্রিজের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরের মঞ্চে দাঁড়িয়েই ভার্চুয়ালের মাধ্যমে এই রেলব্রিজের উদ্বোধন করেন তিনি। বলেন, 'জমি ও টাকার সিংহভাগ দিয়েছে রাজ্য'। বলে রাখা প্রয়োজন, এই রেলব্রিজ উদ্বোধন করা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রেলের দাবি, ৬০ শতাংশ টাকা রেলের তরফে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা দেওয়া হলেও আমন্ত্রণে বলাই হয়নি। এমনকি উদ্বোধনের বিষয়ে বারবার রাজ্যের কাছে তথ্য তলব করা হলেও কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি অভিযোগ। তবে মঞ্চ থেকে এই বিষয়ে বলে কেন্দ্রকেই বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।

পুজোও উদযাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী
অন্যদিকে এদিন সন্তোষীমাতার পুজোও উদযাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুরের চাষিরা জমি ফিরে পেলে সন্তোষী মাতার মন্দির গড়ে দেওয়া হবে মানত করেছিলেন মমতা। সুপ্রিম নির্দেশে জমি পেয়েছেন চাষিরা। এই অবস্থায় আজ সিঙ্গুরে গিয়ে প্রথমেই সন্তোষী মাতার পুজো করেন এরপর ছোট ছোট বাচ্চাদের খাওয়ান তিনি।












Click it and Unblock the Notifications