১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে জমি সমস্যার সমাধান চাই, হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে কড়া বার্তা মমতার
১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে জমি সমস্যার সমাধান চাই, হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে কড়া বার্তা মমতার
হাওড়ায় পুরভোটের আগে প্রশাসনিক বৈঠকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। জমি সমস্যা কাটাতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। ১৪ ডিসেম্বর হাওড়ায় সিনার্জি হবে। তার আগে সব জমি সমস্যা মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ। বিনিয়োগ নিয়ে কোনও রকম সমস্যা আর তিনি বরদাস্ত করবেন না বলে জানিয়েছেন।

হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক
গতকাল মধ্যমগ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর আজ আবার হাওড়া জেলায় প্রশাসনির বৈঠক করলেন তিনি। সেই বৈঠকেও জেলার উন্নয়নের খতিয়ান নিয়েছেন তিনি। একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেেছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে হওড়া জেলার একাধিক কাজের খতিয়ান নিয়েছেন তিনি। কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ বাকি আসে তা নিয়েও আধিকারীকদের কাছে রিপোর্ট নিয়েছেন। নতুন কোন প্রকল্প এখনও শুরু হয়নি তারও খতিয়ান নিয়েছেন তিনি।

শিল্পের জমি নিয়ে কড়া বার্তা
হাওড়ার শিল্পতালুকের জমি নিয়ে একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে প্রশাসনিক বৈঠকে। হাওড়ায় আগামী ২ বছরে ১০ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেকারণেই হাওড়া শিল্প পার্কের কাজ আগামী ৫ বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই মত আধিকারীকদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই জমি সমস্যা তুলে ধরেছেন বিনিয়োগকারীরা। কেন জমি পেতে দেরি হচ্ছে তা জানতে চান তিনি। জমি নিয়ে কোনও সমস্যা বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। দ্রুত শিল্পায়ন রাজ্যের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়ায় ভূমি সংস্কার দফতরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। আগামী ১৪ ডিসেম্বর হাওড়ায় সিনার্জি আয়োজন করা হবে। তার আগে জমি সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ফায়ার স্টেশনও থাকবেন বলে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই হাওড়া জেলায় ১ লক্ষ ১৬ হাজার কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বলে জানিয়েছেন মমতা।

হাওড়ায় পুরভোট
হাওড়ায় পুরভোট করাতে চাইছে রাজ্য সরকার। সবার আগে হাওড়ার পুরভোট করানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল নবান্ন। ১৯ ডিসেম্বর পুরভোট করার কথা জানানো হয়েছিল। তাতে সিলমোহরও দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলায় বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। এদিকে তার তোরজোর শুরু করে দিয়েছে শাসক দল। সেকারণেই তড়িঘড়ি প্রশাসনিক বৈঠক করে হাওড়া জেলার উন্নয়নের খতিয়ান নিয়েছেন তিনি। যদিও হাওড়া জেলায় চাপে রয়েছে বিজেপি। একের পর এক বিজেপি নেতা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে শুরু করেছেন।

শিল্পায়নে জোর
হাওড়া জেলায় শিল্প তালুক দ্রুত সম্পন্ন করতে মরিয়া মমতা সরকার। কারণ বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে শিল্প বিরোধী সরকার প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। তার উপরে কর্মসংস্থানের চাপ রয়েছে। রাজ্যে কোনও কলকারখানা তৈরির সুযোগ মমতা সরকার তৈরি করছে না বলে প্রচার শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। ২০২৪-র লোকসভা ভোটকে টার্গেট করে এখন থেকেই ঘর সাজাতে শুরু করে দিয়েছেন মমতা। ২০২৪ সালের মধ্যে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার বার্তা গতকালই দিয়েছেন তিনি। পুরএলাকাগুলির ভোটব্যাঙ্ক সুনিশ্চিত করে ফেলতে পারলে লোকসভা ভোটে অনেকটাই সুবিধা হয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেসের। অঙ্ক কষেইএগোতে শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী।












Click it and Unblock the Notifications