মাহেশে ২৮ ঘড়া গঙ্গা জল ও দেড় মণ দুধে স্নান করলেন জগন্নাথ দেব
স্নানযাত্রা হল মাহেশের জগন্নাথ দেবের। প্রতি বছরই মহা সমারোহে এই স্নানযাত্রা চলে৷ আর এবার মোক্ষযোগ৷ সেই কারণে, আরও উচ্ছ্বাস, ব্যস্ততা ভক্তদের মধ্যে। সাত সকালেই প্রচুর মানুষ ভিড় করেছিলেন মাহেশে।
মোক্ষ যোগে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা। সেই কারণে আয়োজনও ছিল ঘটা করে। ২৮ ঘড়া গঙ্গা জল আনা হয় জগন্নাথ দেবের জন্য৷ এছাড়াও দেড় মন দুধ। দুধ আর গঙ্গাজলে মাহেশের জগন্নাথ দেবকে শনিবার স্নান করানো হয়।

রথযাত্রার দিন গোনা শুরু হল শনিবার স্নানযাত্রার মধ্য দিয়ে। ৬২৮ বর্ষে এবার মাহেশের রথ ও স্নানযাত্রা উৎসব। ৪৭ বছর পর মোক্ষ যোগে হল এই স্নানযাত্রা। ফলে আগাগোড়াই উৎসাহ ছিল। ভোর সাড়ে পাঁচটায় জগন্নাথ দেবকে বার করা হয়। প্রাণমঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।
স্নান পিড়ি মাঠে জগন্নাথ দেবকে নিয়ে যাওয়া হয়। সকালে ৬ টা ২০ মিনিট থেকে শুরু হয় স্নানযাত্রা উৎসব। স্নান পিড়িত মাঠে অগণিত ভক্তের সমাবেশ ঘটেছিল আজ। সেজন্য কড়া ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।
রীতি অনুযায়ী স্নানমঞ্চে ২৮ ঘড়া গঙ্গা জল এবং দেড় মণ দুধ দিয়ে স্নান করানো হয় জগন্নাথ দেব, বলরাম ও সুভদ্রাকে। মনে করা হয়,ওই পরিমাণ দুধ-গঙ্গা জলে স্নান করে তিন দেবতার জ্বর আসে। সেই সময় মন্দির বন্ধ রেখে সেবা-শুশ্রূষা চলে। কবিরাজের পাঁচন খেয়ে তাঁরা সুস্থ হন। রথের দিন এগিয়ে আসে। চলে রথ প্রস্তুতির কাজ। এর মধ্যেই ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকেন জগন্নাথ দেব।
রথের দিন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন জগন্নাথ দেব। সাজানো, গোছানো প্রস্তুত রথে ওঠেন জগন্নাথ দেব। বলরাম, শুভদ্রাকেও তাদের রথে তোলা হয়। তাদের মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। রথের দড়ি টানার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়৷ রথের রশি টেনে পূণ্য অর্জনের কথাও বলা হয়৷
অন্যান্য বছর স্নানের পরে তিন বিগ্রহকে মন্দিরের গর্ভগৃহে নিয়ে যাওয়া হয়। এবার দিন ভর তিন বিগ্রহকে স্নানমঞ্চেই রাখা হবে। এ বার স্নানযাত্রার 'মোক্ষ যোগ' রয়েছে। সেই কারণেই জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রাকে দিনভর স্নানমঞ্চেই রাখা হবে। ভক্তদের দর্শনের জন্য গোটা দিন থাকবেন। দিনভর পুজো, ভোগ নিবেদন সেখানেই হবে।












Click it and Unblock the Notifications