ডোবা থেকে উঠে আসেন কালী, পূজিতা হন এই গ্রামের মন্দিরে

ডোবা থেকে উঠে আসেন কালী, পূজিতা হন এই গ্রামের মন্দিরে

হাওড়া দক্ষিণাঞ্চল শ্যামপুর থানা, তার দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে রয়েছে রূপনারায়ণ নদ। ডিহিমণ্ডলঘাট গ্রাম এই নদের ধারের একটি গ্রাম, যেখানে একটি প্রাচীন কালী মন্দিরের অবস্থান। মাঘ মাসের পয়লা থেকে সপ্তাহ ব্যপি মেলা বসে, ঐ সময় বিশেষ পুজা উপলক্ষে। এই মন্দির খুবই পুরানো,মন্দিরের বিগ্রহ কষ্টিপাথরের প্রায় তিন শত বছরের পুরনো।

ডোবায় প্রাপ্তি

ডোবায় প্রাপ্তি

স্হানীয় লোকগাঁথা অনুযায়ী স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হয়ে মন্দিরের উত্তরে ছোট ডোবা(পুকুর) থেকে পাওয়া যায় মূর্তি এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়।স্হানীয় বয়স্কদের মত অনুযায়ী সম্ভবত বাংলা ১১১০-১১১১ সাল, তবে বর্তমানে মন্দিরের ওপর সংস্করণ তারিখ লেখা ১৩৭৭ ও ১৪০৮।

প্রাচীন মেলা

প্রাচীন মেলা

তবে এই মেলা যে অতিপ্রাচীন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা,পাশের বট গাছটি ও তার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। এরই বিপরীতে তমলুক বা প্রাচীন তাম্রলিপ্ত সেখানে ও মা কালীর মন্দির (৫১ পীঠের অন্যতম) তমলুকে পৌষের শেষ দিনে স্নান যা "বারণীর চান" নামে পরিচিত আর তার পরদিন ডিহিমণ্ডল ঘাটের কালীর মেলার ১ লা মাঘের স্নান "কালীর যাতের চান " নামে পরিচিত ।

আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগে পর্যন্ত তমলুক থেকে নৌকায় করে প্রচুর মানুষের সমাগম হত ও এই এলাকার প্রচুর মানুষ বারণীর চানে যেত, নদীর ধার থেকে তমলুক বর্গভীমার মন্দিরের চূড়াও দেখা যেত। কে বলতে পারে এই দুই মন্দিরের মেলবন্ধন ছিল হয়ত আরও সুদৃঢ় ছিল। সবই আজ স্মৃতির অন্তরাল। বর্তমানে তা না হলেও মেলার ঐতিহ্য ও নিষ্ঠা ভরে মাতৃ পূজার চল আজও বর্তমান।

দেবী

দেবী

কালী বা কালিকা হলেন একজন দেবী। তিনি দেবী দূর্গার একটি রূপ । তার অন্য নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। প্রধানত শাক্ত সম্প্রদায় আবশ্যিক কালীপূজা করে থাকে। তন্ত্র অনুসারে কালী দশমহাবিদ্যা-র প্রথম দেবী। শাক্তমতে কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। বাঙালি হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়।

কোনো কোনো মণ্ডপে কালী ও শিবের মূর্তির সঙ্গে সঙ্গে বাংলার দুই বিখ্যাত কালীসাধক রামকৃষ্ণ পরমহংস ও বামাখ্যাপার মূর্তিও পূজিত হয়। কোথাও কোথাও কালীর সঙ্গে সঙ্গে দশমহাবিদ্যাও পূজিত হন। দর্শনার্থীরা সারারাত ধরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে কালীপ্রতিমা দর্শন করেন। কালীপূজার রাতে গৃহে আলোকসজ্জা সাজানো হয় এবং আতসবাজি পোড়ানো হয়।

কলকাতার কালীঘাট মন্দিরে এই দিন দেবী কালীকে লক্ষ্মীরূপে পূজা করা হয়। হাজার হাজার ভক্ত এই দিন কালীঘাট মন্দিরে ভিড় করেন এবং দেবীর উদ্দেশ্যে বলি উৎসর্গ করেন। কলকাতার অপর বিখ্যাত কালীমন্দির দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়িতেও কালীপূজা উপলক্ষে মহাসমারোহ হয়। এইখানেই অতীতে রামকৃষ্ণ পরমহংস কালী আরাধনা করেছিলেন। সেই কারণে এই মন্দিরে কালীপূজা দেখতে প্রচুর পুণ্যার্থী এখানে ভিড় জমান।

বিশেষ সম্মান

বিশেষ সম্মান

মা কালী দেবীর উপাসকরা হিন্দু বাঙালি সমাজে বিশেষ সম্মান পেয়ে থাকেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ, বামাক্ষ্যাপা,রামকৃষ্ণ পরমহংস,স্বামী বিবেকানন্দ, রামপ্রসাদ সেন,কমলাকান্ত ভট্টাচার্য প্রমুখ। মা কালীকে বিষয়বস্তু করে রচিত 'শ্যামাসংগীত' বাংলা সাহিত্য ও সংগীত ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্গ। রামপ্রসাদ সেন, কমলাকান্ত ভট্টাচার্য প্রমুখ কালী সাধকেরা এবং কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় প্রমুখ বিশিষ্ট কবিরা অনেক উৎকৃষ্ট শ্যামাসংগীত লিখেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ 'মৃত্যুরূপা কালী' নামে একটি দীর্ঘকবিতা এবং তার শিষ্যা ভগিনী নিবেদিতা মাতৃরূপা কালী নামে একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

তথ‍্যসূত্র : গুগলমিডিয়া ও উইকিপিডিয়া। ধন্যবাদ।

প্রতীকী ছবি

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+