ছয় বছরের মধ্যেই আলাদা হচ্ছে হাওড়া-বালি পুরসভা! পুরভোটের আগেই ঘুঁটি সাজাচ্ছে তৃণমূল?
ছয় বছরের মধ্যেই আলাদা হচ্ছে হাওড়া-বালি পুরসভা! পুরভোটের আগেই ঘুঁটি সাজাচ্ছে তৃণমূল?
ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বালি এবং হাওড়া পুরসভা। রাজ্যে পরিবর্তনের পরেই বালি পুরসভাকে ভেঙে দেওয়া হয়। আর তা ভেঙে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বছরখানেকের মধ্যেই ফের সিদ্ধান্ত বদল করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভেঙে আলাদা করা হচ্ছে হাওড়া পুরসভা এবং বালি পুরসভা। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল নবান্নে। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই হাওড়া এবং বালি পুরসভাকে আলাদা করার এই সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ক্ষোভ!
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৯ ডিসেম্বর ভোট হতে চলেছে হাওড়া এবং কলকাতা পুরসভাতে। আর এই পুরভোটের আগেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এমনটাই জানা গিয়েছে। কিন্তু ছ'বছরের মধ্যেই কেন এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার? এই বিষয়ে একাধিক কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। আর একাধিক কারনের মধ্যে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল মানুষের ক্ষোভ। যার প্রভাব পড়েছে ভোট বাক্সেও। আর তাই সব ভেবেই নবান্নের এহেন সিদ্ধান্ত বলে খবর।

বালি এবং হাওড়া পুরসভা যুক্ত করা হয়
২০১৫ সালের জুলাই মাসে বালি এবং হাওড়া পুরসভা যুক্ত করা হয়েছিল। বালি পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডকে পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় ১৬টি ওয়ার্ডে নামিয়ে আনা হয়। আর এই সিদ্ধান্তে কার্যত ক্ষোভ তৈরি হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। আর সেই আঁচ পৌঁছয় নবান্নতেও। আর তা ভালোই টের পান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দেখা যায়, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বালি পুরসভা এলাকাতে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে শাসকদল। ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭টি ওয়ার্ডেই শাসক দল হেরে যায়। আর এরপর থেকেই এই বিষয়টি ভাবনা চিন্তা শুরু করা হয়।

কেন ক্ষোভ?
একটা বিশাল অংশের মানুষের বসবাস বালি অঞ্চলে। অনেক প্রবীণ মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু ছোটখাটো একাধিক কাজের জন্যে বালির মানুষকে ছুটতে হয় হাওড়াতে। ট্রেড লাইসেন্স থেকে জমি, বাড়ির মিউটেশন করতে গেলে অনেকটাই দূর হাওড়াতে যেতে হয় সাধারণ মানুষকে। আর তাতেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বালি পুর ভবনে একটি দফতর তৈরি করা হলেও গত পাঁচ বছরে সেখানে আলাদা করে কোনও বরো চেয়ারম্যান ছিলেন না। ফলে আরও ক্ষোভ তরি হয়। আর তাই সবদিক ভেবেই এই পুরভোটের আগে আর কোনও রিস্ক নিতে চায় না সরকার। আর তাই হাওড়ার সঙ্গে বালিকে আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications