মোবাইল সিম ও কসমেটিকস বিক্রেতা থেকে হুগলির প্রতাপশালী নেতা! একনজরে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান-কাহিনী
কুন্তল ঘোষের পরে হুগলির তৃণমূল নেতা শান্তনু ব্যানার্জিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করেছে ইডি। একনজরে শান্তনু ব্যানার্জির উত্থানের কাহিনী।
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেপ্তার বলাগড়ের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির দাবি তাঁর বাড়িতে তল্লাশির সময় কয়েকশো নিয়োগ প্রার্থীর তালিকা উদ্ধার করা হয়েছে। এঁদের কয়েকজন চাকরিও পেয়েছেন। এবার তাঁদেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে তার আগে দেখে নেওয়া যাক, মোবাইল সিম ও কসমেটিকস বিক্রেতা থেকে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতাপশালী হয়ে ওঠার কাহিনী।

কে এই শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়
হুগলি জেলার যুব তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমানে হুগলি জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে মোবাইল সিম ও কসমেটিকস বিক্রি করতেন শান্তনু। বাবা ছিলেন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মী। বাবার মৃত্যুর পর বিদ্যুৎ দপ্তরে কাজ পান শান্তনু। এরপর ধীরে ধীরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনীতিতে রকেট গতিতে উত্থান
প্রথমে জিরাট কলেজে ছাত্র পরিষদের দায়িত্ব পান শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্লকের পাশাপাশি জেলাতেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। এরপর যুব সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পান জেলায়। এরপরেই তাকে রাজ্য যুব তৃণমূলের সহ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে হুগলি জেলা ছাড়াও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যুবর অবজারভারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

অভিষেক ঘনিষ্ঠতা
ব্লক কিংবা জেলায় মূলত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হুগলি জেলাপরিষদে তারকেশ্বর থেকে জয়ী হয়ে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব পান।

রাজনীতির সঙ্গে বেড়েছে সম্পত্তি ও ব্যবসা
স্থানীয়রা বলেন, রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তিও বাড়িয়েছেন বিস্তর। জিরাটে নিজের বাড়ির কাছে বারুইপাড়ায় রয়েছে 'দ্যা স্পুন' নামে আধুনিক রেস্টুরেন্ট। ২০২১-এ এই রেস্টুরেন্টের পথ চলা শুরু।
রেস্টুরেন্টের বিপরীত দিকে রয়েছে 'ইচ্ছে ডানা' হোম স্টে। স্থানীয়রা দাবি করেন সেটির মালিকও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার ধারে রেস্টুরেন্ট কিংবা হোম স্টে তৈরি করতে যাঁদের জমি নিয়েছিলেন, তাঁদের পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর।
ধাবা- হোম স্টের পাশাপাশি বলাগড়ের চাঁদরা বটতলা অঞ্চলে গঙ্গার পাড়ে বিশাল একটি রিসর্ট রয়েছে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রিসর্টের আশপাশে বেশ কিছু জমি নামে বেনামে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় কিনেছেন বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসীরা।

বিজেপির অভিযোগ
বলাগড় বিজেপি যুব মোর্চার কনভেনর চিরঞ্জিত রায়ের অভিযোগ নিয়োগ দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা শান্তনুর কাছে এসেছে। সেই টাকা দিয়ে ধাবা, রিসোর্ট, হোম স্টে, একাধিক ফ্ল্যাট, গাড়ি এবং প্রচুর জমি কিনেছিলেন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক .দামি গাড়িতে চড়তেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।












Click it and Unblock the Notifications