সোনা, টাকা সাফ করে নিয়ে গেল, ভুয়ো আয়কর হানা শ্রীরামপুরে
শীতের রাত। তায় আবার জগদ্ধাত্রী পুজোর ধুমধাম। কাজেই ওই এলাকায় লোকজন খুব একটা বেশি ছিল না। তখন কটাই বা আর হবে? রাত আটটা বাজবে মনে হয়। দোকানের ভিতরেই সোনা গলানোর কাজ চলছিল। সেই সময় বাইরে গাড়ি দাঁড়ানোর শব্দ।
চার ব্যক্তি৷ ধোপদুরস্ত জামাকাপড়, পায়ে জুতো। খোলতাই চেহারা। দোকানে এসেই কাগজপত্র দেখতে চাইলেন। দোকানে রেইড হয়েছে। তারা আয়কর দফতরের কর্মী। এই কথা শুনেই দোকানে মালিক ও কর্মীদের মধ্যে ভয় ধরে যায়। আর ওতেই কাল হয়।

কী মনে করছেন? সেই অক্ষয় কুমার, অনুপম খের অভিনীত স্পেশাল ২৬ এর চিত্রনাট্য? প্রায় একদম একইরকম ঘটনা। ওটা ঠিক সিনেমা। আর এটা ঘোর বাস্তব। কলকাতার কাছেই শ্রীরামপুরে এই ঘটনা ঘটেছে৷ ভুয়ো আয়কর হানার ঘটনা ঘটেছে এক সোনা গলানোর দোকানে।
স্পেশাল ২৬ এর কায়দাতেই সোনা গলানোর দোকানে লুট। আয়কর আধিকারিক পরিচয় দিয়ে শ্রীরামপুর কুমিরজলা রোডে একটি সোনা গলানোর দোকানে নকল অভিযান চালায় চারজন। ঠিক যেমন বলিউড ছবি স্পেশাল ২৬ এ অক্ষয় কুমার অনুপম খেররা হাজির।
গতকাল মঙ্গলবার রাত আট টা নাগাদ হঠাৎ শুটবুট পরে চারজন কুমিরজলা রোডের ওই দোকানে হাজির হয়। প্রত্যেকের গলায় আইটি অফিসারের আই কার্ড ঝোলানো ছিল। তারা পরিচয় দিয়েই তল্লাশি শুরু করে।ওই দোকান মালিক মহারাষ্ট্রের যুবক অজয়। তিনি এমন ঘটনায় হতভম্ব হয়ে যান। চাপা আতঙ্ক, ভয়ও কাজ করে আয়কর হানার ঘটনায়।
আরও কয়েকটি দোকান রয়েছে ওই কুমিরজলা রোডে।ওইসব দোকানে মূলত সোনা গলানোর কাজ হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীরা সোনার বার দিয়ে যান গলানোর জন্য। সেখানে কোনও কাগজ থাকে না। সেই সুযোগ নিয়ে অজয়কে ভয় দেখায় ওই চারজন। নগদ টাকা ও সোনা নিয়ে যায় নকল আই টি অফিসাররা।
যাওয়ার সময় অজয়কে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। দিল্লি রোডের কাছে নামিয়ে দেয়। আয়কর অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে জানা যায় তারা ভুয়ো। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পুলিশকে জানায় বিষয়টি। শ্রীরামপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আয়কর অফিসার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা আসলে কারা? খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি থেকে পাওয়া ফুটেজে নকল রেইডের ছবি ধরা পরেছে।












Click it and Unblock the Notifications