আনন্দ নাড়ু থেকে তিলের নাড়ু, মহাজজ্ঞে পূজিতা হন দেবী দূর্গা
আনন্দ নাড়ু থেকে তিলের নাড়ু, মহাজজ্ঞে পূজিতা হন দেবী দূর্গা
শিবপুর দীনবন্ধু ডাক্তার বাড়ি। দীনবন্ধু ডাক্তার বাড়ি হাওড়ার বনেদি বাড়ি গুলোর মধ্যে একটি। এই বাড়ি মন্দিরতলা র ষষ্ঠীতলার কাছে। আমাদের বাড়ির মূল আকর্ষণ বাড়ির দুর্গা পুজো। দীনবন্ধু বাবু ছিলেন একজন ডাক্তার এবং উনি বিনামূল্যে সেবা করতেন ,ওনার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হল দীনবন্ধু স্কুল এবং কলেজ।

ওনার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল বাড়ির দুর্গা পুজো। এবারে আসি পুজোর কথায় এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে যুগের নিয়মে তবে এখনো চেষ্টা করা হয় পুরনো নিয়ম নিষ্ঠা মেনে মা এর পুজো করতে। বাড়ির ঠাকুর পুজোর দালানেই তৈরি হয় এবং তা শুরু হয় জন্মাষ্টমী র পরের দিন কাঠামো পুজো করে। মহালয়া থেকে শুরু হয় আনন্দ নাড়ু তিলের নাড়ু মুড়ির নাড়ু খৈ টা ও বাড়ি তেই ভাজা হয়ে থাকে আর তা বাড়ির বৌ মেয়ে রাই করে থাকে।
আর বাড়ি র ছেলেরাই পুজো করে বাইরের পুরোহিত আসে না। পুজোর চার দিন বিভিন্ন ভোগ নিবেদন করা হয় যা বাড়ির বৌ রা করে থাকেন এবং আমাদের আলাদা ভোগের ঘর আছে । পুজোর জোগাড় বাড়ির মেয়ে রা করে থাকেন। পুজোর মূল আকর্ষণ আমাদের বাড়ির কাদা মাটি খেলা আর কুমারী পুজো আর ধুনো পড়ানো।
দশমী তে বাড়ির মেয়ে বৌ রা মাছ ভাত খেয়ে নতুন শাড়ি পরে বারণ করে এটা এখনো হয়ে আসছে। দুর্গা পুজো ছাড়া ও আমাদের বাড়ি তে কালী ,জগধাত্রি ,রাস পুজো ,অন্নপূর্ণা পুজো হয়ে থাকে খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে।
আপনাদের সাথে কিছু বাড়ির গল্প ভাগ করে নিলাম। ধন্যবাদ

আবার হাওড়া জেলার অন্তর্গত বীরশিবপুর স্টেশন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে দামোদর নদীর তীরে অবস্থিত বোয়ালিয়া গ্রাম। মনোরম এই গ্রামেই তৈরি হয় মা দুর্গার অস্ত্র। এই গ্রামের বিভিন্ন মানুষ সারা বছর ধরে মা দুর্গার সহ বিভিন্ন দেবদেবীর অস্ত্র তৈরি করে থাকে। যা পরে কুমারটুলি হয়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের কর্ম দক্ষতা আর গুননৈপুণ্যের জোরেই অসাধারণ সমস্ত মা দুর্গার অস্ত্র তৈরি হয়ে থাকে, যা আমরা বিভিন্ন পূজা মন্ডপে মা দুর্গা হাতে দেখতে পাই।
দক্ষিণ-পূর্ব শাখার রেলে বীরশিবপুর স্টেশন নেমে অটো বা টোটোতে পৌঁছে যান বোয়ালিয়া ৷স্টেশন থেকে দূরত্ব 9কিমি ৷বাসও পাবেন ৷এন এইচ ৬ ধরেও বীরশিবপুর হয়ে বোয়ালিয়ায় আসতে পারেন ৷ নিরন্তর বয়ে চলেছে দামোদর ৷বর্ষায় সে যেন পরিপূর্ণ ৷ ঝাউ,বট,কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় বসে ভুটভুটিতে স্থানীয় লোকজনের পারাপার আর জেলে নৌকার আনাগোণা দেখতে দেখতে কখন যে সূর্যাস্তের সময়ে পৌঁছে যাবেন ,বুঝতেই পারবেন না ৷

ইচ্ছে হলে নিজেও ওই ভুটভুটি চেপে এ ওপার করতেই পারেন কিংবা আস্ত নৌকা ভাড়া করে নদীবক্ষে ঘুরে বেড়াতে পারেন ৷ চলে যেতে পারেন গড়চুমুক বা ৫৮ গেট ৷ নদীপথে না যেতে চাইলে টোটো বা অটো রিজার্ভ করেও গড়চুমুক বা ৫৮ গেট যেতে পারেন ৷
নদীর বাঁধে ও বাসস্ট্যান্ডে রয়েছে ছোট ছোট অনেক খাবার দোকান কিংবা নদীর ধারে যেকোন মনোমত জায়গা দেখে পিকনিক করতেও পারেন। রয়েছে নদীর ধারে একটা ছোট্ট কালীমন্দির ৷ নিত্য পুজো চলে ৷দিনশেষে গ্রামের চাষীদের থেকে সস্তায় টাটকা সব্জি কিনে বাড়ি ফিরতে পারেন ৷












Click it and Unblock the Notifications