নবিকে আবমাননা: প্রতিবাদে বিজেপি অফিসে আগুন, তৃণমূলের অফিস ভাঙচুর! জ্বলছে হাওড়া
নবি হজরত মহম্মদকে নিয়ে আবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্রমেই হিংসাত্মক হয়ে উঠছে। বিজেপির নূপুর শর্মার মন্তব্যের প্রতিবাদে তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে হাওড়ার জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় মুসলিম সমাজ।
নবি হজরত মহম্মদকে নিয়ে আবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্রমেই হিংসাত্মক হয়ে উঠছে। বিজেপির নূপুর শর্মার মন্তব্যের প্রতিবাদে তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে হাওড়ার জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় মুসলিম সমাজ। শুক্রবার তা হিংসার রূপ নিল। বিক্ষোভকারীরা বিজেপি ও তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে শুরু করে থানা, ট্রাফিক পুলিশের কিয়স্ক কিছুই ছাড়ল না। কোথায় ভাঙচুর, কোথাও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের রোষ গিয়ে পড়ে বিজেপি ও তৃণমূলের পার্টি অফিসে। বিজেপির পা্র্টি অফিসে ঢুকে ভাঙচুরের পর আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূলের পার্টি অফিসেও ভাঙচুর চালানো হয়। এদিন রাস্তার ধারে ট্রাফিক পুলিশের কিয়স্কে আগুন ধরিয়ে দেয়, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরপর ডোমজুড় থানায় ঢুকে হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা। এই অতর্কিতে হামলায় ১২ জন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যে বি৭ভ অবরোধ শুরু হয়েছিল শুক্রবার তা হিংসাত্মক আকার নেয়। আগুন জ্বলতে থাকে সলপ থেকে ছ'নম্বর জাতীয় সড়ক বরাবর উলুবেড়িয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ।
এদিন বিজেপি নেতা অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যাতে দাবি করা হয়েছে যে হাওড়ার দলীয় কার্যালয় শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দিয়েছে। হাওড়ার উলুবেড়িয়া এলাকায় ভারতীয় জনতা পার্টির একটি কার্যালয় শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের দ্বারা ভাঙচুর করার পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপি নেতা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পোড়া পার্টি অফিসের একটি ভিডিও টুইট করেছেন৷
অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় টুইটে জানিয়েছেন, "যেহেতু বিক্ষোভকারীরা তাঁর কথা শোনেন এবং তাঁর পক্ষে ভোট দেন, তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র-পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত এই দাঙ্গাবাজদের চিহ্নিত করা এবং তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হওয়া। শুক্রবার বিকেলে হাওড়া গ্রামীণ জেলায় বিজেপির পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে, তারপরও তিনি চুপ কেন?"
তবে শুধু বিজেপির পার্টি অফিসই নয়, ভাঙচুর করা হয়েছে তৃণমূলের অফিসও। রোষানলের আগুন জ্বলেচে পুলিশের গাড়িও। থানায় ঢুকে হামলা করা হয়েছে পুলিশের উপর। মুসলিম সমাজের প্রধানরা এই হামলার বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা হিংসাত্মক ঘটনা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁদের আবেদন ইসলাম হিংসার কথা বলে না, শান্তির কথা বলে। এই মর্মে মুসিলম ধর্মগুরু থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা শান্তির পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার করা নবি মহম্মদ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ করে। হিংসার মোড় নেয় বিক্ষোভ-অবরোধ। শুক্রবার হাওড়ার বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। এদিকে, বিক্ষোভকারীরা সড়কের পাশাপাশি রেলপথ অবরোধ করে রাখে। হাওড়া-খড়গপুর লাইনের চেঙ্গাইল স্টেশনে বিক্ষোভ শুরু করায় দক্ষিণ-পূর্ব রেলের পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসনের তরফে জেরা ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন রাত ১২টা থেকে ১৩ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকছে।












Click it and Unblock the Notifications