সিবিআই চাইলে আনিসের বাবা-দাদাকে খুন! হুমকি ফোনের তিনদিন পর অভিযোগ দায়ের
সিবিআই চাইলে আনিসের বাবা-দাদাকে খুন! হুমকি ফোনের তিনদিন পর অভিযোগ দায়ের
হাওড়ার আমতার ছাত্র নেতা আনিস খান হত্যার তদন্তে সিবিআই চেয়ে সরব হয়েছিলেন তাঁর বাবা-দাদারা। তাঁরা মানতে চাননি পুলিশ বা সিটকে। তারই প্রেক্ষিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে হুমকি ফোন পেয়েছিলেন আনিসের দাদা। সিবিআই তদন্ত দাবি করলে তাঁকে প্রাণে মেরে দেওয়া হবে, এমনকী পরিবারের সবাইকেই মেরে ফেলা হবে হবে হুমকি ফোন এসেছিল।

কিন্তু সেই হুমকি ফোনের পরও পুলিশের দ্বারস্থ হয়নি আনিসের দাদা বা বাবা। তিনদিন পর শনিবার আমতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন আনিসের দাদা সাবির খান। সাবির জানান, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১টায় হুমকি ফোন আসে তাঁর ফোনে। তারপর তাঁর কাছে আরও একটি ফোন আসে। তবে তা ভুল করে করা হয়েছে বলে ক্ষমা চান এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি।
আনিসের দাদা জানান, দ্বিতীয় ফোনটি যখন আসে, তখন তিনি পুলিশ স্টেশনে বসেছিলেন। বাইয়ের মৃত্যুর ব্যাপারে কথা বলতে পুলিশ তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিল। থানার ওসির পরামর্শেই তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এখন দেখার এই অভিযোগ দায়েরের পর সামনে আসে কি না, কে বা কারা সেদিন হুমকি ফোন করেছিল।
২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে খুনের হুমকি ফোন করে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বলেন, সিবিআই তদন্ত দাবি থেকে পিছু না হটলে আনিসের পুরো পরিবারকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এই ফোন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে ভয় পেয়ে পিছু হটেনি আনিসের পরিবার। আনিসের বাবা সালেম খানা বা দাদা সাবির খান অনড় থাকেন সিবিআই তদন্তের দাবিকে।
আনিসের বাবা প্রথম থেকেই রাজ্য সরকারের গড়ে দেওয়া সিট বা পুলিশের তদন্তে অনাস্থা প্রকাশ করে এসেছেন।। তাঁদের কথায়, অভিযুক্ত যখন পুলিশ, তখন পুলিশকে দিয়ে তদন্তের কোনও মানে হয় না। তাঁরা সিবিআই তদন্ত চান। নতুবা আদালত যদি নির্দেশ দেয়, তখন সিটের তদন্তে সহযোগিতা করবেন তাঁরা।
তারপর অবশ্য হাইকোর্ট সিটের তদন্তে আস্থা রেখেছে। সেইমতো আনিসের বাবা, দাদা বা পুরো পরিবার তদন্তে সহযোগিতা করছেন। শুক্রবার উলুবেড়িয়া উপ-সংশোধনাগারে গিয়ে ধৃতদের টিআই প্যারেডে অংশ নেন আনিসের বাবা সালেম খান। আইনজীবীর গাড়িতে করে তিনি উপসংশোধনাগারে যান দোষীদের চিহ্নিত করতে। কিন্তু কাউকেই চিহ্নিত করতে পারেননি তিনি।
আনিসের পরিবারের পক্ষের আইনজীবী জানান, আনিসের খোয়া যাওয়া মোবাই ছাদ থেকেই পাওয়া গিয়েছিল। তা প্রথমে পুলিশ বা সিটকে দিতে সম্মত ছিলেন না আনিসের পরিবারের সদস্যরা। হইকোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পর এদিন সেই মোবাইল তুলে দেওয়া হয় সিটের হাতে। এরই মধ্যে এদিন শনিবার ভোরে কবর থেকে আনিসের দেহ তোলা নিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে।












Click it and Unblock the Notifications