আমতার মুক্তিরচকে গণধর্ষণ-কাণ্ড, আটজনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ
আমতার মুক্তিরচকে গণধর্ষণ-কাণ্ড দোষীসাব্যস্ত আটজনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করল আদালত। শনিবার আমতা মহকুমা আদালতের দায়রা বিচারক রাকেশ সিনহা ৮ জনের সাজা ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।
হাওড়ার আমতার মুক্তিরচক গ্রামে ৯ বছর আগে একই পরিবারের দুই মহিলাকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ৮ জন দোষীসাব্যস্ত হয়। তাদেরকে নজিরবিহীনভাবে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন আমতা আদালতের অতিরিক্ত দায়েরা বিচারক।

বিচারক নির্দেশ দেন, জরিমানার টাকা আদায় হলে দুই নির্যাতিতার মধ্যে তা সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। এই মামলার সাজা প্রাপ্তরা হল বরুণ মাকাল, বংশী গায়েন, নব গায়েন, সৈকত মণ্ডল, সুকান্ত পাত্র, গৌতম মাকাল, গৌরহরি মাকাল ও শঙ্কর মাকাল।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৯ (অবৈধ জমায়েত), ৩২৩ (অস্ত্র ছাড়া শারীরিক নিগ্রহ ও মারধর), ৪৫০ (বেআইনিভাবে প্রবেশ) ও ৩৭৬ডি (গণধর্ষণ) ধারায় অভিযুক্তদের দোষীসাব্যস্ত করা হয়েছিল। এই মামলায় ১১জন চিকিৎসক-সহ ৪৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মাঝরাতে অভিযুক্তরা মুক্তিরচক গ্রামে একটি বাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূ ও তাঁর জেঠি শাশুড়িকে গণধর্ষণ করে। ঘটনার তদন্তে নেমে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ২ জনকে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়। বাকি ৮ জনের সাজা হয়।
নির্যাতিতার পরিবার এই সাজাপ্রাপ্তিতে খুশি নয়। তারা আরও কঠোর শাস্তির আশা করেছিল। তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোরতম শাস্তির দাবিতে উচ্চ আদালতে আবেদন করবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। নিম্ন আদালত গণধর্ষণকাণ্ডে ২০ বছরের সাজা ঘোষণা করে। নির্যাতিতার পরিবার আরও বড়ো সাজা চাইছে।













Click it and Unblock the Notifications