বিজেপিতে ভাঙন, পঞ্চায়েতের আগে উন্নয়ন-প্রশ্নে এক ঝাঁক কর্মীর যোগদান তৃণমূলে
বিজেপিতে ভাঙন, পঞ্চায়েতের আগে উন্নয়ন-প্রশ্নে এক ঝাঁক কর্মীর যোগদান তৃণমূলে
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী তথা দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। গরু পাচার-কাণ্ডে সিবিআইয়ের জালে আটক বীরভূমের হেভিওয়েট অনব্রত মণ্ডল। তৃণমূলের উপর একের পর এক চাপ বাড়ছে। তারপরও তৃণমূলে যোগদানের ঢেউ লেগেই রয়েছে। বিজেপি ও সিপিএম-সহ বিরোধী দলগুলি থেকে দলে দলে তৃণমূলে যোগদান করছেন নেতা-কর্মীরা।

আজব সমীকরণ তৈরি হচ্ছে পঞ্চায়েত ভোটের আগে
তৃণমূলের উপর চার বাড়ছে উত্তরোত্তর। নানা দুর্নীতিতে পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাওয়ার জোগাড়। এই অবস্থাতেও দল বাড়ছে। বিজেপি ভেঙে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে। বাংলার শাসক দল তৃণমূলকে লাগাতার তোপ দেগে চলেছে বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস। তৃণমূলের অস্বস্তিও বাড়ছে, দলও বাড়ছে। এ এক আজব সমীকরণ তৈরি হচ্ছে পঞ্চায়েত ভোটের আগে।

যখন তৃণমূলের ঘর ভাঙার কথা, ঘর ভাঙছে বিজেপির
বছর ঘুরলেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলায়। তার আগে শাসক ও বিরোধীরা সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে চাইছে। বুথভিত্তিক সংগঠনে জোট দিয়েছে তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস-সহ সব দলই। এই অবস্থায় হুগলির সিঙ্গুরের মল্লিকপুরে দেখা গেল বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন এক ঝাঁক নেতা-কর্মী। যখন তৃণমূলের ঘর ভাঙার কথা, তখন দেখা যাচ্ছে বিজেপির ঘর ভেঙে তৃণমূল শক্তি বাড়াচ্ছে।

কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর সংগঠনিক বার্তা, তারপরই বিজেপিতে ভাঙন
বৃহস্পতিবার সিঙ্গুরের নসিবপুরে বিজেপির একটি পথসভায় যোগ দিতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় আইন ও ন্যায়বিচার দফতরের প্রতিমন্ত্রী সত্যসিং পাল বাঘেল। তিনি বিজেপির বুথ সংগঠন জোরদার করার বার্তা দিয়ে যান দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে। তার অদ্যাবধি পরেই দেখা যায়। সিঙ্গুরে মল্লিকপুর গ্রামে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা দল ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূলে। এই দলবদল নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।

বিজেপি ছেড়ে সিঙ্গুরে তৃণমূলে যোগদান কর্মী ও সমর্থকদের
সিঙ্গুর ২ আঞ্চলিক তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সভাপতি কার্তিক চন্দ্র মাঝির উপস্থিতিতে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন ১৫ জন বিজেপি কর্মী। আরও ৬০ জন বিজেপি কর্মী যোগদান করার জন্য আবেদন করেছেন বলে দাবি করা হয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে। এই যোগদানে বিজেপি স্থানীয় নেতৃত্ব অস্বস্তিতে পড়ে।

বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে কী বললেন দলত্যাগীরা
দলত্যাগী বিজেপি কর্মীদের দাবি, এলাকায় বিজেপি জিতলেও কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেনি। ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্যদের মধ্যে কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না মানুষের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করার। তাই আমরা উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে শামিল হতে দলবদলের সিদ্ধান্ত নিলাম। আমরা কাজ করতে চাই, মানুষের পাশে থাকতে চাই। কিন্তু বিজেপিতে থেকে সেটা করা সম্ভব হচ্ছিল না।

বিজেপি ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া
বিজেপির পাল্টা দাবি, এই দলবদলে তাঁদের কোনও ক্ষতি হবে না। দলের কোনও কার্যকর্তা দলত্যাগ করেনি। দু-চারজন কর্মী-সমর্থক গিয়েছেন। এই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপির। কিন্তু তৃণমূল কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করতে দিচ্ছে না বলে বিজেপির দাবি। তৃণমূলের পক্ষেও জানানো হয়, সিঙ্গুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতেক মল্লিকপুর ও নতুন বাজারে দুজন বিজেপি সদস্য রয়েছে। তাঁরা কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করে না। মানুষের পাশে থাকে না। তাই মানুষও তাঁদের পাশে নেই।












Click it and Unblock the Notifications