লাগামছাড়া দুর্নীতি হয়েছে মেসির কর্মসূচি ঘিরে! উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছেন ভক্তরা
লিওনেল মেসির গোট কনসার্টকে ঘিরে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী স্টেডিয়ামে। অভিযোগ, লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা রক্ষা করা হয়নি।
ফলে বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে টিকিট কিনেও দর্শকরা মেসিকে দেখতে না পেয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মেসি সতীর্থ সুয়ারেজ ও রডরিগো দে পলকে নিয়ে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছান। তিনি হাত নাড়লেও ভিআইপি, আয়োজক ও নিরাপত্তা কর্মীরা ঘিরে রাখায় গ্যালারি থেকে মেসিকে দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সকাল থেকে অপেক্ষা করেও মেসিকে তাঁরা সরাসরি বা জায়ান্ট স্ক্রিনেও দেখতে পাননি। "উই ওয়ান্ট মেসি" স্লোগানে স্টেডিয়াম মুখরিত হলে দর্শকদের হতাশা চরমে পৌঁছায়।
মেসির পাশে হাঁটতে দেখা যায় রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। এমনকী সরকারি কিছু আধিকারিকও মেসির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তাঁর গা ঘেঁষে হাঁটতে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, শাহরুখ খানরা মাঠে প্রবেশের আগেই মেসি বিরক্ত হয়ে মিনিট ২২ থেকেই যুবভারতী ছাড়েন। এরপরই পরিস্থিতি আরও তেতে ওঠে। ক্ষুব্ধ সমর্থকরা বোতল ছুড়ে এবং ব্যানার, হোর্ডিং-সহ গ্যালারির চেয়ার ভাঙচুর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু দর্শক ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশকে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। মাঠের ভিতর উন্মত্ত জনতা ঢুকে ভাঙচুর চালাতে থাকে। গোলপোস্ট ভাঙচুরের চেষ্টা চলে। পুলিশকে অবস্থা সামাল দিতে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয় বলেও জানা যাচ্ছে।
মেসির নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রস্থান ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে দেয়নি। তবুও এই অশান্তি ফুটবল বিশ্ব আইকনকে বরণ করার উচ্চ-স্তরের আয়োজনকে কালিমালিপ্ত করল।
ফুটবলপ্রেমী কলকাতায় তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির এই সফরকে বছরের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যেখানে ভক্তরা অধীর আগ্রহে ছিলেন তারকাকে দেখার জন্য। কিন্তু যা ঘটলো তা ছিল চরম বিশৃঙ্খলা; ভক্তরা তারকার এক ঝলকের জন্য তৃষ্ণার্তই রয়ে গেলেন। মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদদের ভিড়ে দর্শকরা ছিলেন কার্যত বঞ্চিত।
মেসির একজন ভক্ত বলেন, "এই চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা, ব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের কাজ ছিল একেবারে জঘন্য। এখানে যত মানুষ এসেছেন, সবাই ফুটবল ভালোবাসেন। আমরা মেসিকে দেখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এটা সম্পূর্ণ প্রতারণা। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই... ব্যবস্থাপনা এতটাই খারাপ ছিল। কলকাতার জন্য এটা একটা কালো দিন। কলকাতা ফুটবলের জন্য পরিচিত, আমরা ফুটবল ভালোবাসি, আর্জেন্তিনা ভালোবাসি, কিন্তু এই অভিজ্ঞতাটা নিছকই এক ধাপ্পাবাজি। মন্ত্রীরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে সেখানে ছিলেন, আর বাকিরা কিছুই দেখতে পারল না... আমরা খুব আঘাত পেয়েছি।"
অন্য এক মেসি ভক্ত প্রতারিত বোধ করে ভিআইপিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে তাঁরা মেসির বেশিরভাগ সময় দখল করে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ৫ হাজার টাকা, অথচ ভিভিআইপিরা মেসির চারপাশে কেন জড়ো হয়েছিলেন? আমরা তাঁকে দেখতেও পারিনি... পুলিশ কেন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি? আমি কিছুই জানি না। সবাই ক্ষুব্ধ ছিল... আমরা টাকা ফেরত চাই।"
মেসির আরেকজন ভক্ত, যিনি বল নিয়ে কৌশল দেখার আশা করেছিলেন, তিনি হতাশ হয়ে বলেন: "পুরো ইভেন্টটাই ছিল ভয়ংকর। তিনি মাত্র ১০ মিনিটের জন্য এসেছিলেন। সব নেতা ও মন্ত্রীরা তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন। আমরা কিছুই দেখতে পারিনি। তিনি একটিও কিক বা একটিও পেনাল্টি নেননি। তিনি ১০ মিনিটের জন্য এসে চলে গেলেন। এত টাকা, আবেগ আর সময় সব নষ্ট হলো। আমরা কিছুই দেখতে পারিনি।"
অব্যবস্থাপনার জেরে ক্ষুব্ধ ভক্তরা স্টেডিয়ামের কিছু অংশ ভাঙচুর করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, "অন্য কোথাও এমন সমস্যা হয়নি, এখানে যা ঘটেছে তা দেখায় বাংলায় কী হচ্ছে। তৃণমূল এই ইভেন্টকে হাইজ্যাক করেছে। তৃণমূল মন্ত্রীরা ইভেন্ট আয়োজনের অংশীদার, তারা খুব চড়া দামে টিকিট বিক্রি করেছে এবং দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে।"
এই ঘটনার জেরে ক্রীড়া আয়োজন ক্ষমতার উপর একটি বড় কালো দাগ লেগে গেল, বিশেষ করে যখন মেসিকে আরও কয়েকটি শহর সফর করতে হবে।
মেসির এক অনুরাগী জানান, "এত অর্থ ব্যয় করার পর এটা হতাশাজনক। তাঁকে ঘিরে ৫০ জন লোক ছিল, আমরা এক ঝলকও তাঁর দেখা পাইনি... তিনি শুধু দু'বার হাত নাড়িয়েছিলেন, ব্যস।"
এক উত্তেজিত ভক্ত বলেন, "আমরা এই অনুষ্ঠানের জন্য এত টাকা দিয়েছি, আর মেসি এখানে এসেছেন, তাঁকে আমরা কী বার্তা দিলাম? ক্রীড়ামন্ত্রী মেসির সাথে ছবি তুলছেন, সবাই ভিড় সামলাতে ব্যস্ত... শাহরুখ খান এসেছিলেন কিনা জানি না... ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও সরকারের জন্য এটা খুবই লজ্জাজনক।"
দার্জিলিং থেকে আসা এক ভক্ত গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "এটা সত্যিই হতাশাজনক ছিল, আমরা এত দূর এসেছি শুধু তাঁকে দেখতে। আমরা তাঁকে ঠিকমতো দেখতেও পারিনি, আমার দেখা সবচেয়ে হতাশাজনক ঘটনা এটাই।"
তারকা ফুটবলার মেসির এক অনুরাগী বেদনা প্রকাশ করে বলেন, "আমরা খুবই হতাশ... আমার সন্তান মেসিকে দেখতে মুখিয়ে ছিল... এটা সাধারণ মানুষের সঙ্গে বড় প্রতারণা বলে মনে হয়। মেসি যখন এলেন, সবাই তাঁকে ঘিরে ধরলো।"
এক ক্ষুব্ধ সমর্থক বলেন, "নেতা ও অভিনেতারাই মেসিকে ঘিরে রেখেছিলেন... তাহলে কেন ডাকা হয়েছিল আমাদের? ১২ হাজার টাকার টিকিট কেটেও আমরা তাঁর মুখ দেখতে পাইনি।"
-
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা












Click it and Unblock the Notifications