সুপার লিগ নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি জুভেন্টাসকে, অনিশ্চয়তায় রোনাল্ডোরা
ইউরোপীয় ফুটবলের উন্নতির স্বার্থে প্রাথমিকভাবে যে ১২টি দল সুপার লিগ চালুর পক্ষে ছিল তার মধ্যে থেকে ৯টি দলই পিছিয়ে এসেছে। এখন প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবগুলির মধ্যে পড়ে রয়েছে বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের জুভেন্টাসকে এবার পড়তে হলো চরম হুঁশিয়ারির মুখে।

চরম হুঁশিয়ারি
ইতালিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়ম সকলের জন্য সমান। জুভেন্টাস যদি সুপার লিগ থেকে নাম প্রত্যাহার না করে তাহলে আগামী মরশুমেই সিরি আ-তে আর অংশ নিতে পারবে না। এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে জুভেন্টাসের সমর্থকদের উদ্দেশে আমি বলব, আমি দুঃখিত। কিন্তু নিয়ম নিয়মই, সবাইকেই তা মেনে চলতে হবে। আশা করি, এই বিতর্কের দ্রুতই অবসান ঘটবে। উয়েফার সঙ্গে এই তিন ক্লাবের সংঘাত দেখতে দেখতে আমরাও ক্লান্ত। তবে জুভেন্টাস আলোচনার মাধ্যমে উয়েফার সঙ্গে বিষয়টি মিটিয়ে নেবে বলেই আমার আশা। তবে যা চলছে তা আন্তর্জাতিক ফুটবল, ইতালির ফুটবল এবং জুভেন্টাসের পক্ষেও মোটেও ভালো নয়। আমাদের দেশের ফুটবল সংস্থা নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করবে না। উয়েফা ও ফেডারেশনের নির্দেশিকা অমান্য করলে দেশের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে না।

এখনও অনড়
তবে এখনও অনড়ই রয়েছে জুভেন্টাস। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেয়া আগনেলি বলেছেন, আমরা আমাদের সমর্থকদের সঙ্গেই রয়েছি। আমরা এমন একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাইছি যা ফুটবলের পিরামিডকেই অনেক সুবিধা প্রদান করবে। আর্থিকভাবে ক্লাবগুলিও লাভবান হবে। যুব ফুটবল যেমন উপকৃত হবে, তেমনই ফুটবলে স্থিতাবস্থাও আনবে সুপার লিগ। চলতি বছর সিরি আ খেতাব জিতে নিয়েছে জুভেন্টাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার মিলান। এই জটিল পরিস্থিতিতে আন্দ্রে পির্লো বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আর জুভেন্টাসের সঙ্গে থাকবেন কিনা তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলগুলির পাশাপাশি এসি মিলান ও ইন্টার মিলানও সুপার লিগ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

যৌথ বিবৃতি
গত শনিবারই রিয়াল, বার্সালোনা ও জুভেন্টাসের তরফে যৌথ বিবৃতিতে উয়েফার বিরুদ্ধে তোপ দেগে দাবি করা হয়, সুপার লিগের প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবগুলির উপর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অসহনীয় চাপ দেওয়া হচ্ছে। সুপার লিগের প্রকল্পটি বাতিল করতে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। যদিও এই তিন ক্লাব এখনও সুপার লিগ আয়োজনে অনড়। তাদের সাফ কথা, প্রাথমিক যে ধাক্কা খেয়েছে সুপার লিগে তাতে এ সম্পর্কে গঠনমূলক আলোচনা বা পরামর্শের রাস্তা খোলা রয়েছে। তবে প্রকল্প বাতিলের কোনও প্রশ্নই নেই, কারণ তা বাতিল করা ফুটবলের পক্ষেই দায়িত্বহীন একটা কাজ হবে।

বেআইনি কাজ
তিন ক্লাবের তরফে দাবি করা হয়েছে, যেভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে তা পুরোপুরিভাবে বেআইনি। কারণ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই সুপার লিগের সপক্ষেই মত দিয়ে ফিফা ও উয়েফাকে নির্দেশ দিয়েছে, যতদিন না মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে ততদিন অবধি ফুটবল নিয়ামক কোনও সংস্থাই কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না ক্লাবগুলির বিরুদ্ধে। সুপার লিগ আয়োজকদের দাবি, সুপার লিগ বিশ্ব ফুটবলে আরও আকর্ষণ বাড়াবে। ক্লাবগুলির আয় বাড়বে। সেই অর্থ ফুটবলের পিছনেই খরচ করা হবে। মহিলা ফুটবলকেও বিশ্বে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এই সুপার লিগ। সবমিলিয়ে বিশ্ব ফুটবলের বাস্তুতন্ত্রকে এই সুপার লিগ শক্তিশালী করবে বলেই দাবি আয়োজকদের।

উয়েফার দাবি
যদিও ইতিমধ্যেই অন্তত ৯টি ক্লাব প্রাথমিকভাবে সুপার লিগে অংশ নিতে সম্মত হলেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পিছু হঠেছে। উয়েফার সুরে সুর মিলিয়ে ওইসব ক্লাব ও সমর্থকদের সংগঠন পাল্টা দাবি করেছে, সুপার লিগ হলে বড় ক্লাবগুলিই লাভবান হবে। এলিট ক্লাবগুলির শক্তি ও সম্পত্তি বাড়বে। ছোট ক্লাবগুলির কোনও উপকারেই লাগবে না সুপার লিগ। সুপার লিগের প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবগুলির মধ্যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ৬টি নামি ক্লাব-সহ ৯টি ক্লাব ইতিমধ্যেই পিছু হঠেছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সুপার লিগে অংশ নেবে না। ক্লাব কমিটমেন্ট ডিক্লারেশনে সইও করেছে এই ক্লাবগুলি। উয়েফার শাস্তি মেনে তারা সম্মিলিতভাবে ১৫ মিলিয়ন ইউরো দিতেও সম্মত হয়েছে। একে বলা হচ্ছে গুডউইল কন্ট্রিবিউশন। ইউরোপে তৃণমূলস্তর ও যুব ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি বিদ্রোহী ক্লাবগুলিকে বড় শাস্তি, এমনকী নির্বাসনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। উয়েফা জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications