আইএসএল ২০২০-২১ : ২ গোলে পিছিয়ে থেকেও প্রত্যাবর্তন, কেরলের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয় এটিকে মোহনবাগানের
আইএসএল ২০২০-২১ : ২ গোলে পিছিয়ে থেকেও প্রত্যাবর্তন, কেরলের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয় এটিকে মোহনবাগানের
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে তিন গোল দিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটল এটিকে মোহনবাগানের। কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে হারা ম্যাচ জেতা শুধু নয়, আরও একবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। সঠিক সময়ে আবারও নিজের সেরাটা উজাড় করে দিলেন রয় কৃষ্ণ। নজর কাড়লেন সবুজ-মেরুন জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামা মার্সেলিনহোও।

এই জয়ের ফলে ১৪ ম্যাচ খেলে ২৭ পয়েন্ট অর্জন করল এটিকে মোহনবাগান। লিগ তালিকার দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখল আন্টোনিও লোপেজ হাবাসের দল। ১৫ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আইএসএল তালিকার নবম স্থানে নেমে গেল কেরালা ব্লাস্টার্স।
জয়ের সরণীতে ফিরতে মরিয়া সবুজ-মেরুন প্রথমার্ধের শুরুর দশ মিনিট আক্রমণে ঝড় বইয়ে দেয়। ওড়িশা এফসি থেকে এটিকে মোহনবাগানে আসা মার্সেলিনহো এবং পরিচিত রয় কৃষ্ণকে সামনে রেখে উঠে আসতে থাকে কলকাতার ক্লাব। বেশ কয়েকবার গোলের কাছে পৌঁছেও যায় এটিকে মোহনবাগান। কেবল তেকাঠি চিনতে পারেননি সবুজ-মেরুনের পরিচিত জার্সিতে মাঠে নামা ফুটবলাররা।
অন্যদিকে মূলত প্রতি আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলেও খেলার গতির বিপরীতে গিয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটি করে কেরালা ব্লাস্টার্সই। ১৪ মিনিটের মাথায় দূরপাল্লার বিশ্বমানের শটে সবুর-মেরুন গোলরক্ষক অরিন্দম ভট্টাচার্যকে পরাস্ত করেন গ্যারি হুপার। এরপর খেলা ধরে নেয় কেরল। এটিকে মোগনবাগানের গোলমুখে একের পর এক আক্রমণ তুলে আনতে থাকে কিবু ভিকুনার দল। বেশ কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে ওঠে কলকাতার দলও। তবে কাঙ্খিত গোল পায়নি আন্টোনিও লোপেজ হাবাস শিবির। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে এটিকে মোহনবাগান।
দ্বিতীয়ার্ধে সুমিত রাঠির পরিবর্তে মনবীর সিং-কে নামান সবুজ-মেরুন কোচ। তবু আক্রমণে সেই ঝাঁঝ চোখে পড়ছিল না। উল্টে এটিকে মোহনবাগানের ডিফেন্সের ভুলে ম্যাচের ৫১ মিনিটে কেরালা ব্লাস্টার্সের হয়ে গোলের ব্যবধান বাড়ান কোস্টা। এরপর আচমকাই কলকাতার ক্লাবের ধরন পাল্টে যায়। মনবীর সিং, রয় কৃষ্ণ ও মার্সেলিনহোকে অস্ত্র বানিয়ে সাঁড়াশি আক্রমণ শানাতে থাকে এটিকে মোহনবাগান।
ম্যাচের ৫৯ মিনিটে মনবীর সিংয়ের দুর্দান্ত একটি থ্রু বল নিয়ে একাই কেরলের ডি বক্সে ঢুকে যান মার্সেলিনহো। গোলরক্ষক আলবিনো গোমসের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে দুর্দান্ত দক্ষতায় বল জালে জড়ান এটিকে মোহনবাগানের জার্সিতে প্রথম বার মাঠে নামা ব্রাজিলিয় স্ট্রাইকার। এরপর আক্রমণে আরও চাপ বাড়ায় সবুজ-মেরুন।
৬৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পেয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান। স্পট কিক থেকে গোল দিতে ভুল করেননি রয় কৃষ্ণ। ৮০ মিনিটে মার্সেলিনহোকে তুলে জ্যাভি হার্নান্ডেজকে নামান হাবাস। তাতে সবুজ-মেরুনের আক্রমণে আরও ঝাঁঝ বাড়ে। ৮৭ মিনিটে দুর্দান্ত দক্ষতায় নিজের দ্বিতীয় এবং এটিকে মোহনবাগানের তৃতীয় গোলটি করেন কৃষ্ণ। টুর্নামেন্টে এটি ফিজিয়ান স্টাইকারের নবম গোল।
ম্যাচে ৪৫ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে এটিকে মোহনবাগান। গোলমুখে ১৪টি শট নেয় আন্টোনিও লোপেজ হাবাসের দল। অন্যদিকে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেও হেরে মাঠ ছাড়তে হল কেরালা ব্লাস্টার্সকে।












Click it and Unblock the Notifications