ফুটবলপ্রেমীদের উপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ, ডার্বি বাতিলে প্রতিবাদীদের আটক, বিক্ষোভের কাছে পুলিশের নতিস্বীকার
Football Fans Detained: নিরাপত্তা দিতে পারবে না বলে কলকাতা ডার্বিতে অনুমতি বাতিল করেছিল পুলিশ। যদিও বিশাল সংখ্যক পুলিশবাহিনী আজ ফুটবলপ্রেমীদের উপর নির্বিচারের লাঠি চালাল।
ডুরান্ড কাপে আজ ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের দ্বৈরথে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তার প্রতিবাদে দুই দলের সমর্থকরা যৌথভাবে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন।

যদিও তার আগেই ১৬৩ ধারা জারি করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। এরপর ফুটবলপ্রেমীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি চালাল পুলিশ। অনেককে আটক করে তোলা হলো প্রিজন ভ্যানে। ফুটবলপ্রেমীরা স্লোগান তোলেন, উই ওয়ান্ট জাস্টিস। মহিলাদের নিরাপত্তার দাবিও শোনা যায় তাঁদের মুখে। যেভাবে ফুটবলপ্রেমীদের উপর পুলিশি অত্যাচার নেমে এলো, তেমন সক্রিয় থাকলে আরজি কর হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটতো না বলেও মন্তব্য অনেকের।
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে জানানো হয়, কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অশান্তি করার পরিকল্পনা করছে জানতে পেরেই ডুরান্ড কাপে কলকাতা ডার্বির অনুমতি দেওয়া হয়নি। আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রতিবাদ জানানোর পরিকল্পনা ছিল বলে জানাচ্ছে পুলিশ।
এরপরই ভারতের নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করে আজ বিকেল থেকে মাঝরাত অবধি যুবভারতী ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। পুলিশের দাবি, ডার্বিতে হিংসাত্মক কর্মসূচির পরিকল্পনা রুখতেই ম্যাচের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ৬২ থেকে ৬৩ হাজার দর্শক হাজির থাকার কথা ছিল। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ।
এরই মধ্যে দুপুর থেকে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের পতাকা নিয়ে যুবভারতীর সামনে ভিড় জমাতে থাকেন ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের সমর্থকদের বিরল সৌজন্যের সাক্ষী থাকল কলকাতা। কিন্তু এর মধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের উপর চড়াও হয় পুলিশ।
বিশাল সংখ্যক পুলিশকর্মীর পাশাপাশি ছিল র্যাফ। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি চালায় নির্বিচারে। অনেকে আহত হয়েছেন। ক্লাবের জার্সি পরা সমর্থকদের টেনে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। মায়ের সমতুল্য ক্লাবের জার্সিকে অপমান করার অভিযোগ করেছেন আটক হওয়া অনেকেই।
ইএম বাইপাসের ব্যস্ত রাস্তা হয়ে ওঠে রণক্ষত্র। যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। প্রিজন ভ্যান আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ফুটবলপ্রেমীরা। দুই ক্লাবের সমর্থকদের যৌথ প্রতিবাদের সামনে নতিস্বীকার করে পুলিশ। একে একে ছেড়ে দেওয়া হয় আটক হওয়া সমর্থকদের। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। অভিযোগ, সামান্য শান্তিপূর্ণ মিছিল আটকাতেই যখন এত পুলিশ তাহলে ম্যাচের অনুমতি দেওয়া হলো না কেন? এর চেয়ে কম পুলিশ রেখেই তো সেনাবাহিনীর টুর্নামেন্ট করানো যেত। ঘটনাস্থলে গিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে।












Click it and Unblock the Notifications