আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোন স্ট্র্যাটেজিতে রবিবার বাজিমাত করতে পারে দেখে নিন এক নজরে
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোন স্ট্র্যাটেজিতে রবিবার বাজিমাত করতে পারে দেখে নিন এক নজরে
বিশ্বকাপের ফাইনালের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গোটা ফুটবল সার্কিট। একদিকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসি এবং তাঁর দল আর্জেন্টিনা এবং অপর দিকে 'ওয়ান্ডার কিড' কিলিয়ান এমবাপে এবং ফ্রান্স। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কী স্ট্র্যাটেজি নিতে পারে ফরাসি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেই বিষয়েই আলোচনা করা হবে এই প্রতিবেদনে।

অপরীক্ষিত ডিফেন্স:
আর্জেন্টিনার ডিফেন্স খুব বেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়নি এই বারের বিশ্বকাপে। তবে, যখন কড়া পরীক্ষার সামনে পড়েছে তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভেঙে পড়েছে আর্জেন্টিনার ডিফেন্সি। লাতিন আমেরিকার দলটি চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের সম্মুখীন হয়েছিল সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও ২-১ গোলে হারতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে এবং নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল হজম করে আর্জেন্টিনা। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে যদিও ক্লিনশিট রাখতে পেরেছিল লিওনেল মেসির দল। তা ছাড়া গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচ ক্লিনশিট রেখেছিল আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সের আক্রমণ ভাগ চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। ফ্রান্স এত দূর পর্যন্ত এসেছে আক্রমণ লাইনের কারণেই। কিলিয়ান এমবাপে, অলিভার জিরু, অ্যান্টোয়াইন গ্রিজম্যানরা যদি আক্রমণের ঝাঁঝ বজায় রেখে পর পর আক্রমণ শানাতে পারেন তা হলে নব্বই মিনিটের মধ্যেই লাতিন আমেরিকার দলটির রক্ষণ ভেঙে ফেলার দারুণ সুযোগ থাকবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের কাছে।

দলের হৃদপিণ্ড মেসি:
আর্জেন্টিনার হৃদপিণ্ড দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাঁর উপর নির্ভর করেই এই দলটা তেল খাওয়া মেশিনের মতো খেলে। মেসির পা থেকে একের পর এক আক্রমণ তৈরি হয়। গোল করা হোক কিংবা গোলের বল তৈরি করা সবটাই মেসি। ফলে আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখতে হলে লিওনেল মেসিকে বোতলবন্দি করতে হবে ফ্রান্সকে। যদিও মেসি, রোনাল্ডো, পেলে, মারাদোনার মতো বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ফুটবলারের আটকানোর স্বপ্ন দেখা যায় বাস্তবে সেটা করা সম্ভব নয়। এই মানের ফুটবলারদের আটকানোর কোনও উপায় হয়না। ফ্রান্স যদি নিজেদের দক্ষতার শীর্ষে উঠতে পারে তা হলে মাঝমাঠে কিছুটা সুবিধা তারা পাবে।

অ্যাটাকিং থার্ডে ক্লোজ মার্কিং:
এই বারের আর্জেন্টিনা দলের প্রাণকেন্দ্র লিওনেল মেসি হলেও গোল করার ক্ষেত্রে লা আলবিসিলেস্তা শুধু মেসির উপরই নির্ভরশীল নয়। আর্জেন্টিনার তরুণ ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজ দারুণ ছন্দে রয়েছেন। ফলে মেসিকে আটকানোর জন্য পুরো দল লেগে গেলে অন্য দিক দিয়ে গোল করে চলে যেতে পারেন এই দুই ফরোয়ার্ড। এ ছাড়া অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া মাঠে নামলে চাপে পড়তে পারে ফ্রান্স। ফলে টাইট জোনাল মার্কিং প্রয়োজন।

আক্রমণে বিবিধতা:
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স অপরীক্ষিত। যার ফলে সেটপিসে বৈচিত্র যদি ফ্রান্স আনতে পারে তা হলে আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে সহজেই ভাঙতে পারবে। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে দেখা গিয়েছিল কী ভাবে সেট পিস থেকে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার ডিফেন্স। তৃতীয় বারের জন্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে নিশ্চিত ভাবে ফ্রান্সের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক নোট বুকে তুলে রেখেছে আর্জেন্টাইন ডিফেন্সের দুর্বলতার কথা।












Click it and Unblock the Notifications