Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

টাইব্রেকারে গোয়ার কাছে হেরে সুপার কাপ হাতছাড়া ইস্টবেঙ্গলের

ইস্টবেঙ্গলের সুপার কাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে এফসি গোয়ার কাছে টাইব্রেকারে ৬-৫ গোলে হেরে গেল লাল-হলুদ ব্রিগেড। এই জয়ের সুবাদে এফসি গোয়া প্রথম দল হিসেবে সুপার কাপ ধরে রাখার পাশাপাশি এশীয় মঞ্চে খেলার আরও একটি সুযোগ নিশ্চিত করল।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোলের দেখা পায়নি। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের সংঘর্ষেও কেউই একে অপরের জালে বল জড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারক টাইব্রেকারে। দুই দলই ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিলেও গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

ম্যাচের শুরু থেকেই এফসি গোয়া মাঝমাঠে ফুটবলারদের ভিড় জমিয়ে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ রুখতে চেয়েছিল। মাত্র তিন মিনিটের মাথায় বোরজা হেরেরার লম্বা পাসে জেভিয়ার সিভেরিয়ো গোলের একটি সুযোগ তৈরি করেন, তবে কেভিন সিভিলের সময়োচিত ক্লিয়ারেন্সে তা ব্যর্থ হয়।

কিছুক্ষণ শারীরিক ফুটবল চলার পর গোয়া আরও একটি সুযোগ পায়। বাঁ দিক থেকে আকাশ সাঙ্গোয়ানের ক্রস সিভেরিয়োর কাছে পৌঁছানোর আগেই আনোয়ার তা কেড়ে নেন। দুই দলের মধ্যে চলতে থাকা এই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের খেলায় প্রথমার্ধে উত্তেজনা ছড়ায়।

ইস্টবেঙ্গলও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে মিগুয়েল দ্রুত গতিতে বিপক্ষের গোলকিপারের সামনে চলে আসেন। সামনে সতীর্থ বিপিন সিংকে পাস দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি নিজেই গোল লক্ষ্য করে শট নেন, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

২০ মিনিটের মাথায় প্রভসুখন গিলের থেকে বল পেয়ে হিরোশি ইবুসুকি তা বাড়িয়ে দেন বিপিনের উদ্দেশে। বিপিন নওরেম মহেশের দিকে ক্রস করলেও মহেশ বল ধরতে পারেননি। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গল গোয়ার ওপর অবিরাম চাপ সৃষ্টি করে এবং তাদের থেকে স্পষ্টতই এগিয়ে ছিল, কিন্তু কোনও সুযোগই গোলে পরিণত হয়নি।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে গোয়ার দুই ফুটবলার চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন – রনি এবং বরিস সিং। কোচ মানোলো মার্কেজ তাদের তুলে নিম দোরজি এবং উদান্তা সিংকে নামান। এই পরিবর্তন দলের শক্তিকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করে।

জলপানের বিরতির পর দুই দলই খেলার গতি হারিয়ে ফেলে। শুরুর দিকে যে দ্রুত গতির ফুটবল দেখা যাচ্ছিল, তা আচমকাই উধাও হয়ে যায়। কোনও দলই টানা পাঁচ-ছয়টি পাসও খেলতে পারছিল না, যা খেলার মান অনেকটা কমিয়ে দেয়।

তবে, প্রথমার্ধের শেষের দিকে গোয়া আবার চাপ বাড়াতে শুরু করে। ডান দিক থেকে ব্রাইসন ফার্নান্দেসের ভাসানো বল আনোয়ার ক্লিয়ার করেন। এর মিনিট দুয়েক পর ডেজ়ান ড্রাজিচ ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের কাটিয়ে বক্সের কাছে পৌঁছে ডেভিড টিমরকে পাস দেন, কিন্তু গোল আসেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ভালো করে এফসি গোয়া। বল বেশিরভাগ সময় ইস্টবেঙ্গলের অর্ধে ঘোরাফেরা করছিল। আয়ুষ ছেত্রী ৩০ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শট নিলেও সফল হননি। ডেভিড টিমরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন।

গোয়ার হয়ে ব্রাইসন খেলা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। বোরজার সাথে জুটি বেঁধে তারা ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করছিলেন, তবে আনোয়ার এবং কেভিন সিভিলের দৃঢ় রক্ষণভাগের সামনে গোয়ার আক্রমণ বারবার আটকে যায়। ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্স এদিন ছিল অটল।

অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গলের বিপিন সিং লাগাতার বাঁ দিক থেকে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বল পেয়েই তিনি গোয়ার গোলের কাছে পৌঁছে যাচ্ছিলেন এবং তাঁকে সামলাতে গোয়ার ডিফেন্ডারদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছিল। ৬৩ মিনিটে তার একটি ক্রস থেকে হিরোশির দুর্বল শট গোলকিপার হৃতিক তিওয়ারির ধরতে অসুবিধা হয়নি।

ম্যাচে কিছু উত্তপ্ত পরিস্থিতিও তৈরি হয়। বল নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে মিগুয়েলের সাথে ঝামলায় জড়ান বোরজা। রেফারি দু’জনকেই শান্ত করেন। বোরজার পাশাপাশি রাগ দেখানোর জন্য ড্রাজ়িচকেও হলুদ কার্ড দেখানো হয়, যা খেলার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।

৬৫ মিনিটে কোচের দায়িত্ব সামলানো বিনো জর্জ নওরেম মহেশকে তুলে পিভি বিষ্ণুকে নামান। বিষ্ণু মাঠে আসার পর ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ধার বাড়ে। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১৫ মিনিটে দুই দলের মধ্যে টান টান লড়াই দেখা যায়, কারণ কেউই ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিতে চায়নি।

৭৪ মিনিটে মিগুয়েলের পাস পেয়ে গোয়ার বক্সে ঢুকে পড়েন বিষ্ণু। তার শট আটকে দিলেও হৃতিকের হাত থেকে বল পিছলে যায়। গোললাইন অতিক্রম করার ঠিক আগে গোয়া গোলকিপার তা বার করেন। ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা প্রতিবাদ জানালেও লাইন্সম্যান গোল দেননি এবং ধারাভাষ্যকাররাও নিশ্চিত করেন যে গোল হয়নি।

এর চার মিনিট পরেই ব্রাইসনের শট পোস্টে লাগে। বোরজা সেই বল পেয়ে বক্সে ড্রাজ়িচের উদ্দেশ্যে ভাসিয়েছিলেন, কিন্তু ড্রাজ়িচ নাগাল পাননি। এর তিন মিনিট পর আরও একটি আক্রমণ ক্রস বারে প্রতিহত হয়, যখন প্রভসুখন পল মোরেনোর ভাসানো শট কোনোমতে বাঁচান যা বারে লেগে বেরিয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে কেউ গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে বল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গোয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্লান্তির কারণে সেভাবে কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। কোচেসরা ব্রাইসন ও আয়ুষের বদলে রাবিহ ও তাভোরাকে নামান, আর বিপিনের জায়গায় হামিদ আহদাদ মাঠে আসেন।

তবে খেলার গতিপথে খুব একটা বদল আসেনি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধেও ইস্টবেঙ্গলের মহম্মদ রাকিপের ভুলে একটি সুযোগ পেয়েছিলেন সিভেরিয়ো, কিন্তু বলের নাগাল পাননি। দুই দলই চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে কেভিন সিবিলে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে প্রথম শট থেকে গোল করেন। তবে গোয়ার বোরজা হেরেরা প্রথম শট মিস করেন। এরপর সাউল ক্রেসপো গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোয়ার হয়ে জেভিয়ার সিভেরিয়ো গোল করে।

মিগুয়েল গোল করলেও, ইস্টবেঙ্গলের চতুর্থ শটে মহম্মদ রশিদ বল বারের অনেক উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন, যা তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। অন্যদিকে, গোয়ার ফুটবলাররা প্রতিটি শটেই গোল করতে সক্ষম হচ্ছিল; সিভেরিয়োর পর ডেজান ড্রাজিচ, মহম্মদ নেমিল এবং ডেভিড টিমরও সফল হন।

ফলস্বরূপ খেলা সাডেন ডেথে গড়ায়। হামিদ আহদাদ ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দিলেও উদন্ত সিং গোল করে সমতা ফেরান। সপ্তম শটে পিভি বিষ্ণুও বল বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দিলে গোয়ার সাহিল তাভোরা গোল করে সুপার কাপ জেতা নিশ্চিত করেন। ইস্টবেঙ্গলের স্বপ্নভঙ্গ হয়।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+