Durand Derby: শৈলেন মান্নার জন্মশতবর্ষে ডার্বি উত্তাপ, তাল কাটলেন সুব্রত, ডুরান্ড ফাইনালের রেজাল্ট আউট টুটুর
Durand Cup 2023: শৈলেন মান্নার জন্মশতবর্ষ উদযাপনেও ডার্বি উত্তাপ। আজ ১ সেপ্টেম্বর কিংবদন্তি শৈলেন মান্নার জন্মদিন। বিগত কয়েক বছর ধরে সাড়ম্বরে এই দিনটি উদযাপন করে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপনের কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন।
শৈলেন মান্নার জন্মশতবর্ষ উদযাপনে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল মোহনবাগান। ক্লাবের সচিব দেবাশিস দত্ত তাঁর ব্যাখ্যাও দিলেন। আজ শৈলেন মান্নার জন্মশতবর্ষ বছরভর উদযাপনের সূচনায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে দেখা গেল চাঁদের হাট।

দেবাশিস দত্তের কথায়, মোহনবাগানের তরফে শৈলেন মান্নার জন্মদিনের অনুষ্ঠান বড় করে করা হয়নি। এবার তাঁর জন্মশতবর্ষ। মোহনবাগান একাই জন্মশতবর্ষের নানা অনুষ্ঠান করতে পারে। কিন্তু এত বছর ধরে কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনকে তার সঙ্গে সামিল করা না হলে তা ঠিক হতো না। সে কারণেই আমরা যৌথভাবে এই আয়োজন করেছি।
সুব্রত ভট্টাচার্য, প্রদীপ চৌধুরী, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মানস ভট্টাচার্য, বিদেশ বসু, নিমাই গোস্বামী থেকে দীপেন্দু বিশ্বাস, রহিম নবিরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ শান্তনু সেন, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীরা। চন্দ্রিমা ও কৃষ্ণা ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। তাঁদের সঙ্গে মজাদার কথোপকথন চলল বাগান সভাপতি স্বপনসাধন বসুর।
চন্দ্রিমার কথায়, আমি ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। ডার্বিতে চাইব যে দল ভালো খেলবে, সে জিতুক। কৃষ্ণার বক্তব্যও তেমনই। তাঁর স্বামী তথা প্রাক্তন বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী লাল হলুদ সমর্থক, ছেলে রাজদীপ মোহনবাগানের। উপস্থিত সব্যসাচী দত্তও জানালেন তিনি ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক। বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় আবার সবুজ-মেরুন ভক্ত। শৈলেন মান্নাকে স্মরণ করে একাধিক কর্মসূচিও ঘোষণা করলেন।
বাগান সভাপতি টুটু বসু থেকে সচিব দেবাশিস দত্ত, সকলের কথাতেই উঠে এলো রবিবাসরীয় ডুরান্ড কাপ ডার্বিতে শৈলেন মান্নার আশীর্বাদ নিয়েই জিতবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময়ও টুটু বসু চেনা মেজাজে বললেন, আমরাই জিতব। সবমিলিয়ে শৈলেন মান্নার জন্মদিনে মূর্তিতে মাল্যদান, কেক কাটা,আকাদেমিগুলিকে ফুটবল প্রদানের মধ্যেও দাপট দেখাল ডার্বিই।

স্বপনসাধন বসু বললেন, শৈলেন মান্নার কন্যা নীলাঞ্জনার মান-অভিমান হয়েছিল। বাবা যখন মৃত্যুশয্যায় সেটা স্বাভাবিক। ইস্টবেঙ্গল সমর্থক-সহ কারও কথা শুনে শৈলেন মান্নার মরদেহ মোহনবাগান ক্লাবে পাঠাননি তিনি। তখন তাঁর বয়স অল্প। সেই মান-অভিমানের পালা ভাঙিয়েছেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মান্নাদার অনুষ্ঠান করে না ইস্টবেঙ্গল। নীলাঞ্জনাকে মোহনবাগান সদস্য করার নির্দেশও দেন টুটু বসু।
প্রাক্তন ফুটবলাররা স্মৃতিচারণ করছিলেন সদাহাস্যময় শৈলেন মান্নার। ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য গলায় মোহনবাগানের উত্তরীয় পরে বললেন, আমি ইস্টবেঙ্গলে খেললেও শৈলেন মান্নাকে শ্রদ্ধা করতাম। তখন আমি পুলিশ দলে খেলি। বাবুঘাটে যাচ্ছিলাম বেলঘরিয়ার বাস ধরব বলে। সঙ্গে ছিলেন এক সাংবাদিক। তখন তুমুল বৃষ্টি নামে।
মনোরঞ্জনের কথায়, ওই সাংবাদিক বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মোহনবাগান তাঁবুতে যেতে বললেন। আমি পুলিশে খেলি, মোহনবাগানে কীভাবে যাব, এটা ভেবে যখন বৃষ্টিতে ভিজছি, তখন খবর পেয়ে ভিতরে নিয়ে গিয়েছিলেন শৈলেন মান্না। তিনি এমনই।
যদিও আয়োজক বা বাগান সভাপতি টুটু বসুর হাজারো অনুরোধ সত্ত্বেও মঞ্চে উঠলেন না সুব্রত ভট্টাচার্য। প্রথমে দূরে বসে ছিলেন। পরে টুটু বসে পাশে ডেকে নেন। শৈলেন মান্নাকে নিয়ে কিছু বলতেও রাজি হলেন না। তাল কাটল এটুকুই।












Click it and Unblock the Notifications