আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল - জঘন্য ফুটবল, একবারে শেষ মুহূর্তের গোল গড়ে দিল ব্যবধান
মঙ্গলবার সৌদি আরবে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে মিরান্ডার ৯৩ মিনিটের গোলে কোনরকমে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল।
ম্যাচের একেবারে শেষে (৯৩ মিনিটে) হেড থেকে গোল করলেন মিরান্ডা। আর তাতেই আমেরিকার সুপার ক্লাসিকোতে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারালো।

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা - বিশ্ব ফুটবলের সম্ভবত সবচেয়ে উত্তেজক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আর এই দুই দলই মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল্লা স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে। তবে ম্যাচের মান কিন্তু প্রত্যাশিত স্তরে উঠল না। সত্যি বলতে দুই দলই জঘন্য ফুটবলের নিদর্শন রাখল।
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই কিন্তু দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রথম থেকেই অত্যন্ত শারীরিক ফুটবল খেলেছে দুই দলই। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের অত্যন্ত কড়া ট্যাকলের মুখে পড়তে হয় ব্রাজিলের ফুটবলারদের। বিশেষ নিশানা ছিলেন অবশ্যই ব্রাজিলিয় সুপারস্টার নেইমার। তবে ব্রাজিলও চোরাগোপ্তা পা চালিয়েছে।
এই লাথালাথি আর রেফারির সঙ্গে উত্যপ্ত বাক্য বিনিময়ের কারণে অনেকসময়ই ম্যাচ থেকে ফুটবল হারিয়ে গিয়েছে। মউরো ইকার্দি ও রবার্তো ফিরমিনহো - ইউরোপের বর্তমান দুই অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে ম্যাচে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। প্রথমার্ধে দুই দলই বিশেষ গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। আর্জেন্টিনাই একবার গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল। দুরন্ত ফ্রিকিক নিয়েছিলেন পাওলো দিবালা। কিন্তু একটুর জন্য তা তিনকাঠির বাইরে দিয়ে চলে যায়।
০-০ ফলেই শেষ হয়েছিল প্রথমার্ধ। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ছক কিছুটা বদলে নেমেছিল। দিবালাকে আরও একটু উপরে তুলে তাঁর সঙ্গে ইকার্দির দূরত্ব কমিয়ে আনা হয়। এই কৌশল কাজে দিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের সময় আগের থেকে আর্জেন্টিনার অনেক বেশি সংখ্যক ফুটবলার ভিড় জমাচ্ছিলেন ব্রাজিলিয় রক্ষণে। এই সময় কিন্তু সেলেকাওদের ডিফেন্সকে যথেষ্ট বিব্রত দেখাচ্ছিল।
উল্টোদিকে ব্রাজিলের যাবতীয় আক্রমণের ছিল নেইমার বা কুটিনহোর ব্যক্তিগত দক্ষতা নির্ভর। দলগত প্রয়াসে আক্রমণ খুব কমই দেখা গিয়েছে। কিন্তু দুজনকেই কড়া মার্কিংয়ে রেখেছিল আলবিলেস্তেরা। ফলে ম্যাচের ৬০ মিনিটের পর থেকে কার্যত তাঁরা ম্যাচে কোনও চাপই ফেলতে পারেননি।
শেষের এই আধঘন্টা জঘন্য খেলা হয়েছে। দুইদলই একেবারে অগোছালো ফুটবল খেলেছে। না ছিল কোনও পরিকল্পনা, না ছিল সৌন্দর্য। একটানা তিনটি পাসও খেলতে পারছিল না দুই দলই। সবাই যখন ধরেই নিয়েছিলেন ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হতে চলেছে, ঠিক তখনই ম্যাচের শেষ কর্ণার থেকে হেডে গোল করে তফাত গড়ে দেন জোয়াও মিরান্ডা।












Click it and Unblock the Notifications