Year Ender 2022: মাঙ্কিপক্স থেকে সোয়াইন ফ্লু, করোনার বাইরেও বছরভর আতঙ্ক বাড়িয়েছে যে রোগগুলি
Year Ender 2022: মাঙ্কিপক্স থেকে সোয়াইন ফ্লু, করোনার বাইরেও বছরভর আতঙ্ক বাড়িয়েছে যে রোগগুলি
করোনা নিয়ে যুদ্ধ করতে করতে আমরা এখন অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। কিন্তু হত এক বছরে অনেকটাই সংক্রমণ কম ছিল গোটা দেশে। স্কুল-কলেজ স্বাভাবিক ভাবেই হয়েছে গোটা দেশে। অনেকটাই জনজীবন স্বাভাবিক ভাবেই কাটিয়েছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু গত এক বছরে করোনা ভাইরাস ছাড়াও একাধিক সংক্রামক রোগ ভয় ধরিয়েছে। তারমধ্যে মাঙ্কি পক্স, হাম, সোয়াইন ফ্লু অন্যতম।

মাঙ্কি পক্সের সংক্রমণ
করোনার অন্তরালেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছিল মাঙ্কিপক্স। আফ্রিকা থেকে ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল এই মাঙ্কি পক্সের সংক্রণম। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যেই এই মাঙ্কি পক্সের সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে বেশি। অনেক শিশু মারাও গিয়েছিল মাঙ্কি পক্সে। যদিও ভারতে সেরকম ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি। করোনার মতই মারাত্মক হতে পারে মাঙ্কি পক্স এমনই সতর্কতা জারি করেছিল বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। এই নিয়ে সব দেশকেই সতর্ক করেছিল মাঙ্কিপক্স। গোটা বিশ্বে প্রায় ৮৮,০০০ মানুষ মাঙ্কি পক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই তালিকায় ভারতও ছিল। স্মল পক্সের মতই ছিল এই মাঙ্কিপক্স। মূলত ইউরোপের দেশগুলিতেই মাঙ্কি পক্সের সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছিল। ভারতে ২৩ জনের মধ্যে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল।

হামের সংক্রমণ
মাঙ্কি পক্সের মতই সংক্রামক হাম। ভারতের একাধিক রাজ্যে হঠাৎ করেই হাম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল। মহারাষ্ট্র, কেরল, গুজরাত, কেরল, ঝাড়খণ্ডে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছিল হাম। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে ভারতে মোট ১০,৪০০ জনের মধ্যে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। তার মধ্যে মারা গিয়েছিলেন ৪০ জন। মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মাঙ্কি পক্সের সংক্রমণ ছড়ায়। আক্রান্ত হয়েছিলেন মোট ৩০৭৫ জন। তারপরেই ঝাডখণ্ড সেখানে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৬৮৩ জন। করোনার কারণে গত ১ বছরে শিশুদের টিকাকরণ ব্যহত হয়েছে তার জেরেই েই সংক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সোয়াইন ফ্লু
গত এক বছরে আরও একটি সংক্রামক রোগ ভয় ধরিয়েছে গোটা বিশ্বে। সেটা সোয়াইন ফ্লু। ভারত সহ বিশ্বের একাদিক জায়গায় থাবা বসিয়েছে সোয়াইন ফ্লু। ভারতে মোট ১১,৫৫০ জন সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে মারা গিয়েছেন ৩০০ জন। ভারতের একাধিক ভিভিআইপিও সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনার মতই উপসর্গ থাকে সোয়াইন ফ্লুয়ে। জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যাথা। তার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট আর গায়ে ব্যাথা। যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় রোগীকে। করোনার মত উপসর্গ থাকার কারণে প্রাথমিক ভাবে করোনার থেকে সোয়াইন ফ্লুকে আলাদা করা কঠিন।

টমোটো ফ্লু
আরেক সংক্রামক ভাইরাল ইনফেকশন টমোটো ফ্লু। তামিলনাড়ু, কর্নাটক, কেরল, অসম, ওড়িশায় ছড়িয়ে পড়েছিল এই সংক্রামক ব্যধি। সাধারণত জ্বরের সঙ্গে হাত-পা,গলা এবং মুখের মধ্যে লাল অ্যালার্জি বেরিয়ে যাওয়া ছিল এই রোগের উপসর্গ। তারপরে গোটা শরীরে সেই অ্যালার্জি ছড়িয়ে পড়ত। করোনার মতই ফ্লুয়ের উপসর্গ দেখা যেত প্রথম পর্যায়ে। পরিচ্ছন্নতাই এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা ছিল বলে জানায় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

ডেঙ্গি, জিকা, ম্যালেরিয়া
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মাঝেই মশা বাহিত একাদিক সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ আকার নিয়েছিল ডেঙ্গির সংক্রমণ। পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি সংক্রমণে মৃত্যু মিছিল শুরু হয়ে গিয়েছিল। ভারতে গত ১ বছরে ১.১ লক্ষ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ২০২০ সালে সেই সংখ্যাটা ছিল ৪০,০০০-র কাছাকাছি। মারা গিয়েছেন ৯০ জন। তেলঙ্গানা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে ডঙ্গি। একই সঙ্গে চিকুনগুনিয়াও ছড়িয়েছে গোটা দেশে। ৫৪০০ জন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে।












Click it and Unblock the Notifications