সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া যতি নরসিংহানন্দের পড়াশুনো মস্কোয়, কর্ম লন্ডনে
বিতর্ক তো আর কম হয়নি! নবি মহম্মদকে অশালীন বাক্য, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়ার ডাক! একাধিকবার বিতর্কের ভরকেন্দ্রে থেকেছেন যতি নরসিংহানন্দ সরস্বতী। এবার সেই তিনিই আরও এক বিতর্কিত মন্তব্য করলেন।

২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের আগে জীবনটা একেবারে অন্যরকম ছিল নরসিংহানন্দের৷ গাজিয়াবাদের দসনা দেবী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত নরসিংহানন্দকে গুটিকয় ভক্ত ছাড়া কেউই বিশেষ চিনত না। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় হিন্দু সমাজের নেতা কমলেশ তিওয়ারির মৃত্যুর পর। সেই ঘটনার পর দেশ থেকে মুসলিমদের মুছে দেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন নরসিংহানন্দ।
যতি নরসিংহানন্দ বর্তমানে ৫০ বছর বয়স স্পর্শ করেছেন৷ তবে এরই মধ্য একাধিক পুরো এফআইআরে তাঁর নাম আছে। সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে ধর্ম সংসদে আরেকটি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের জন্য তিনি অভিযুক্ত। সম্প্রতি হওয়া তিন দিনের ধর্ম সংসদের অন্যতম সংগঠক ছিলেন যতি, যেখানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল!
২০২৯ সালে একজন মুসলিম যেন দেশের প্রধানমন্ত্রী না হন তা নিশ্চিত করার জন্যও অস্ত্র তুলে নেওয়ার ডাক দিয়েছেন যতি। তিনি জানিয়েছেন যদি কোনো যুব কর্মী হিন্দু প্রভাকরণ হতে প্রস্তুত হয় তাহলে তিনি ১ কোটি টাকা দেবেন। হিন্দু প্রভাকরণ বলতে যতি, লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলামের (এলটিটিই) প্রতিষ্ঠাতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণকে উল্লেখ করেছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যার জন্য প্রভাকরণকে দায়ী করা হয়।
অন্য একটি ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ দেখা গিয়েছিল, তিনি একটি মুসলিম ছেলেকে দাসনা মন্দির প্রাঙ্গনে প্রবেশ করে আক্রমণের পূর্বের রেইকি করার কাজে অভিযুক্ত করছেন৷ গত অক্টোবরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল এই ভিডিও৷ এরপর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ পরে যতির উপর গুন্ডা আইন চাপিয়ে দেয়। মার্চ মাসে, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল যেখানে দেখানো হয়েছে যে তার সহযোগী একটি মুসলিম ছেলেকে মারধর করছে যে একটি কল থেকে 'জল পান' করতে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছিল।
একটি মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যতি জানিয়েছিলেন তিনি পশ্চিম উত্তর প্রদেশের মিরাটে জন্মপ্রহণ করেছিলেন৷ তার পিতৃদত্ত নাম দীপক ত্যাগী। তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর বাবা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাজ করতেন এবং স্বাধীনতার আগে কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। যতি নরসিংহানন্দ আরও বলেছেন যে তিনি ১৯৮০-র দশকে উত্তরপ্রদেশের হাপুরের চৌধুরী তারা চাঁদ ইন্টার-কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ১৯৮৯ সালে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের জন্য রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলে যান। ১৯৯৪ সালে মস্কো ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল মেশিন বিল্ডিং-এ কোর্স শেষ করার পর, তিনি মস্কোতে একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। পরে তিনি লন্ডনেও কাজ করেন।
১৯৯৭ সালে মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ফিরে আসার পর, যতি নরসিংহানন্দ ১০-১২ শ্রেণীর ছাত্রদের গণিত পড়াতেন। এ সময় তাঁর রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়! তিনি দাবি করেছেন যে তিনি প্রথমে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এ যোগ দিয়েছিলেন। তবে সমাজবাদী পার্টির কোনো নেতা যতির সপা যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। সন্ন্যাস, রাজনীতি এবং জনজীবনে তার নতুন মত তৈরির জন্য তিনি কৃতিত্ব দিয়েছেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা বৈকুণ্ঠ লাল শর্মাকে, যিনি দিল্লির দু'বারের লোকসভা সাংসদ ছিলেন। যিনি প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইয়ে ১৯৯১ সালে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এইচকেএল ভগতকে পরাজিত করেছিলেন। যতি নরসিংহানন্দ বলেছিলেন যে ১৯৯৮ সালে শর্মার সঙ্গে দেখা হওয়া তাঁর জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করেছিল। তিনি যতি নরসিংহানন্দ নামে স্থিতু হওয়ার আগে সন্ন্যাস (সংসার ত্যাগ) গ্রহণ করেছিলেন এবং একটি নতুন নাম নিয়েছিলেন দীপেন্দ্র নারায়ণ সিং।
প্রথম থেকেই মুসলিম বিদ্বেষী ছিলেন না যতি নরসিংহানন্দ, এমনটাই সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন তিনি! গাজিয়াবাদের একজন হিন্দু মহিলাকে মুসলিম পুরুষরা হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করার একটি ঘটনা তাঁকে এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে এরকমটাই দাবি করেন তিনি৷
তিনি সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন যে গাজিয়াবাদের মেয়েটিকে তার এক মুসলিম মহিলা বন্ধু একজন মুসলিম পুরুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করিয়েছিল। যখন তাঁরা দেখা করত , তখন সেই মুসলিম মহিলাটি দুজনের ছবি তুলে রাখে এবং সে যে কলেজে পড়াশোনা করেছিল সেখানে সেগুলি ছড়িয়ে দেয়।
পরে সেই মুসলিম মহিলাটি নানান প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং অন্যান্য মুসলিম পুরুষদের যৌন সুবিধা দেওয়ার জন্য হিন্দু মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করে। মহিলাটি ইয়াতি নরসিংহানন্দের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং তাঁকে নিজের দুর্দশার কথা জানিয়েছিলেন!
সন্ন্যাস গ্রহণের পর, যতি নরসিংহানন্দ দাসনা মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত হন, যেখানে তিনি ২০০৭ সালে এর প্রধান পুরোহিত হন। এই বছরের শুরুর দিকে, তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন যেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি প্রভাবশালী জুনা আখড়ার প্রধান নিযুক্ত হয়েছেন। ২০১৬-১৭ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার কার্যকলাপ লোকের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করতে শুরু করলে তিমি ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি 'ধর্মসেনা' চালু করার জন্য তাঁর অনুসারীদের একত্রিত করেছিলেন। পশ্চিম উত্তর প্রদেশে ৮-২৫ বছর বয়সী হিন্দু ছেলেদেরপ্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৫০ টি কেন্দ্র স্থাপন করেছেন বলে যতি দাবি করেছেন।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications