স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আমলে কি মমতার সঙ্গে কেন্দ্রের সংঘাত কি তীব্রতর হতে চলেছে?
সর্বভারতীয় রাজনীতিতে অমিত শাহের আগমনের পরে তিনি সিঁড়ি ভেঙে স্রেফ উপর দিকেই উঠেছেন।
সর্বভারতীয় রাজনীতিতে অমিত শাহের আগমনের পরে তিনি সিঁড়ি ভেঙে স্রেফ উপর দিকেই উঠেছেন। দু-দু'টি সাধারণ নির্বাচন এবং একাধিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রশ্নাতীত ভালো ফল করার পিছনে থেকেছেন তিনিই, দলের সর্বময় কর্তা হিসেবে। আর এবারে, নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তিনি হয়েছেন নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাজনাথ সিংকে (তিনি গিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে) সরিয়ে চুয়ান্ন বছরের অমিতকে গৃহমন্ত্রী করে মোদী একদিকে যেমন নিজের উত্তরসূরির বিষয়টিকে সাজাচ্ছেন, পাশাপাশি অতীতের গুজরাত মডেলের মতো নয়াদিল্লির মসনদেও তিনি একই ফর্মুলা প্রতিষ্ঠিত করছেন। অর্থাৎ, সরকারে তিনি এক, অমিত দুই। অতীতে গুজরাতেও মোদী যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, অমিত ছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাজনাথের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক ভালো ছিল; কিন্তু অমিতের সঙ্গে তা নয় একেবারেই
তবে অমিতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার দরুন একজন রাজনীতিবিদের যে অদূর ভবিষ্যতে মাথাব্যথা বাড়বে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই আর তিনি হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে মমতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রেই সেই সুসম্পর্ক রাজ্য-কেন্দ্রের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু অমিত যে জাতীয় সুরক্ষার ব্যাপারে তাঁর পূর্বসূরির মতো নরমপন্থী হবেন না, তা বুঝতে বিশেষ জ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আর এখানেই মমতার চ্যালেঞ্জ।
সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের উপরে অমিতের বিশেষ নজর থাকবে
বিজেপির আদর্শ এবং মমতার পপুলিস্ট রাজনীতির মধ্যেকার সংঘাত তীব্র হতে পারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আমলে। একে তো বিগত কয়েক বছরে অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কপালে গভীর ভাঁজ ফেলেছে। যত্রতত্র বোমা বিস্ফোরণ এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশের কট্টরপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের শাসনকে। তার উপরে বাংলাদেশ থেকে সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়েও বিজেপি বরাবরই সোচ্চার এবং আসামে যে নাগরিকপঞ্জী নিয়ে ইতিমধ্যে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে গিয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে, তা অমিত শাহের সময়ে পশ্চিমবঙ্গে লাগু করার প্রচেষ্টা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আর সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে আরও অবনতি নিশ্চিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যপালের মাধ্যমেও রাজ্যের শাসনকার্যে প্রভাব ফেলার চিরাচরিত কৌশলকেও এই সময়ে প্রশ্রয় দেবে বলেই সাধারণ বুদ্ধি বলে আর তাতে নয়াদিল্লি-কলকাতার মধ্যে দূরত্ব বাড়ার আশু সম্ভাবনা।












Click it and Unblock the Notifications