কেন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন থেকে রাশিয়াকে সরানোর ভোটে বিরত থাকল ভারত?
শুধুমাত্র ইঁট-কাঠ-পাথর দিয়ে গড়া শহর নয়। যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোটা সভ্যতা, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। সম্প্রতি ইউক্রেনের রাজধানী শহর বুচাতে রাশিয়ার সৈন সরে যাওয়ার পর রাস্তার পাশে স্তুপাকৃত আধপোড়া মৃতদেহের স্তুপ দেখা গিয়েছে৷ ইউক্রেনের দাবি এই মৃতদেহগুলির তাদের অসামরিক নাগরিকদের। এরপরই পুরো বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার নিন্দা শুরু হয়েছে৷ এমনকি ভড়তও এই ঘটনার কড়া নিন্দা করে তদন্তের দাবি করেছে৷ বুচার গণহত্যার ইস্যুতেই সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে রাশিয়াকে সাসপেন্ড করা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ ভোটাভুটি চলছে৷ তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই ভোটাভুটিতে কোনও পক্ষ নেয়নি ভারত। সরাসরি ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে তারা। এর আগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন ভোটাভুটিতেও ভোটদানে বিরত থেকেছে ভারত৷

ন্যাটো জোটের অন্তর্গত দেশগুলি তো বটেই, তাছাড়াও সবমিলিয়ে ৯৩টি দেশ ভোট দিয়েছে এই রাশিয়াকে সাসপেন্ড করার পক্ষে। বিপক্ষেও ভোট পড়েছে ২৪টি দেশের। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চিন সরকার রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা রাশিয়াকে সাসপেন্ড করার বিপক্ষে গিয়েছে। ভোটাভুটি থেকে বিরত থেকেছে মোট ৫৮টি দেশ৷ যার মধ্যে অন্যতম হল ভারত৷ কিন্তু কেন কোনও পক্ষেই ভোট দেয়নি ভারত? নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকেই ভারত শান্তি, বৈঠকের মাধ্যমে মিটমাটের পরামর্শ দিয়ে এসেছে৷ আমরা মনে করি, সাধারণ মানুষের রক্ত, প্রাণের বিনিময়ে কোনও সমাধান হতে পারে না। যদি ভারতকে কোনও পক্ষ নিতেই হয়, তা শান্তির পক্ষ, সত্বর এই হিংসা রুখে দেওয়ার পক্ষে আমরা।'
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি আরও বলেন, 'ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরাও চিন্তিত৷ আমরা চাই এই সংঘর্ষ শেষ হোক। নিরপরাধ মানুষের প্রাণ সংকট হলে কূটনীতিই একমাত্র পথ৷' এর আগেও অবশ্য রাশিয়া কিংবা ইউক্রেন কারুরই পক্ষ নেয়নি ভারত। যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই শান্তিরক্ষার কথা বলে আসছে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও এই বিষয়ে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। ইউক্রেন বনাম রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময়ই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মোদী। সেখানে শান্তির বাণী শোনা গিয়েছিল মোদীর মুখে। সাম্প্রতিককালেও একইভাবে শান্তির পক্ষ নিয়েছে ভারত।
শান্তির পক্ষ নেওয়ার পাশাপাশি যদিও ক্রুরতার সমালোচনাও করেছে ভারত। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের বুচা শহরে নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল ভারত। সেখানে নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে সওয়াল করেছেন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি।












Click it and Unblock the Notifications