নোটবন্দি সিদ্ধান্ত কার, কবে ও কেন নেওয়া হয়েছিল, কী বলছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বয়ান
কেন, কবে ও কে নোটবাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই প্রশ্ন করা হয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়াকে। সেই সমস্ত প্রশ্নের জবাবে তারা কী বলেছে তা আজ একবছর পরে বেশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটি আরবিআই গভর্নর উর্জিত প্যাটেল ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের কাছে নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়ে জানতে চেয়েছিল। তার জবাব দেওয়ার জন্য এবছরের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কেন, কবে ও কে নোটবাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই প্রশ্ন রাখা হয়। সেই সমস্ত প্রশ্নের জবাবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া কী বলেছে তা আজ একবছর পরে বেশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

আরবিআই ও কেন্দ্রের যৌথ সিদ্ধান্ত
নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন্দ্র সরকার ও ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একসঙ্গে মিলে নিয়েছিল। যার মাধ্যমে দেশের মোট নগদের ৮৬ শতাংশ যা ৫০০ ও ১ হাজারের নোট বাজারে ছিল তা বাতিল করা হয় একবছর আগে।

জাল টাকার কারবার কমানো
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের যুক্তি, নোটবন্দি করার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা জাল নোটের কারবারকে বন্ধ করা। যদিও কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী মূলত ডিজিটাল লেনদেনকে ছড়িয়ে দিতেই নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে কালো টাকা ও দুর্নীতির বিষয়গুলিও রয়েছে।

নতুন নোট বাজারে আনা
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক চেয়েছিল ৫ ও ১০ হাজার টাকার নোট বাজারে আনতে। সেইমতো কেন্দ্রকে সুপারিশও করে। সেই সুপারিশ করা হয় ২০১৪ সালে কেন্দ্রে নতুন সরকার আসার পরে।

২ হাজারের নোট
৫০০ ও ১ হাজারের নোট যেমন বাতিল করা হয়। তেমনই নোটের সমতা ঠিক রাখতে ২ হাজার টাকার নতুন নোট ছাপানো হয়। প্রথমে এই নোট ছাপানোর কোনও পরিকল্পনা ছিল না। তবে অর্থনীতির হাল হকিকত যাচাই করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি নতুন একটি নোট আসায় চমকও দেওয়া গিয়েছিল।

জুন থেকে শুরু নোট ছাপার কাজ
নতুন ৫০০ ও ১ হাজারের নোট ছাপা ২০১৬ সালের জুন মাস থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। অনেক নোট মজুত করার পরে ৭ নভেম্বর কেন্দ্র রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে চিঠি লেখে যা দেখে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল বোর্ড বৈঠকে বসে নোট বাতিলের জন্য গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে। তারপরের দিন প্রধানমন্ত্রী মোদী নোট বাতিলের ঘোষণা করেন।

ভরসা ছিল ডিজিটাল ইকোনমি
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানত, এভাবে দেশের পুরো নগদ তুলে নিয়ে এত সহজে তা ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে ভরসা রাখা হয়েছিল ডিজিটাল লেনদেনের উপরে। নগদ না পেয়ে অনেকেই ডিজিটাল মাধ্যম আপন করে নেবেন যার ফলে নোট বাতিল প্রক্রিয়ায় ততোধিক চাপ পড়বে না বলেই ভেবেছিল আরবিআই।












Click it and Unblock the Notifications