রাজ্যে বিজেপি হোক বা কংগ্রেস সরকার, দুর্নীতি ইস্যুতে গর্জে ওঠা মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের হাল একই
দেশের দুই প্রান্তের দুই ভিন্ন রাজনৈতিক পরিকাঠামোতে বেড়ে চলা আইনবিরুদ্ধ কাজ নিয়ে সরব হন দুই মহিলা পুলিশ আধিকারিক। আর তার জবাবে দুজনের হাতেই একই ভাবে ধরিয়ে দেওয়া হল বদলির চিঠি ।
দেশের দুই প্রান্তের দুই ভিন্ন রাজনৈতিক পরিকাঠামোতে বেড়ে চলা আইনবিরুদ্ধ কাজ নিয়ে সরব হন দুই মহিলা পুলিশ আধিকারিক। আর তার জবাবে দুজনের হাতেই একই ভাবে ধরিয়ে দেওয়া হল বদলির চিঠি । একজন উত্তর প্রদেশের পুলিশ আধিকারিক শ্রেষ্ঠা ঠাকুর। অন্যজন কর্ণাটকের আইপিএস ডি রূপা। তা সে উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকারই হোক বা কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা মহিলা পুলিশ আধিকারিক তথা 'হুইসেল ব্লোয়ার্স'দের একই ভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হল এই রাজ্যগুলির প্রশাসনের তরফে ।

হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে, বেঙ্গালুরুর জেলে বন্দি AIADMK প্রধান শশীকলা 'ভিআইপি' পর্যায়ের 'সুখ' বিলাস ভোগ করে চলেছেন । এই অভিযোগ নিয়ে কিছুদিন আগে সরব হন কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকের পুলিশ আধিকারিক ডি রূপা। তাঁর অভিযোগ ছিল,কর্ণাটকের কারা বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে থাকা সত্যানারায়ণ রাওকে ২ কোটি টাকার ঘুষ দিয়ে শশীকলা এই সুখ বিলাস ভোগ করে যাচ্ছেন জেলের বন্দি হয়েও। রূপার অভিযোগ ছিল, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত শশীকলা জেলের ভিতরে আলাদা রান্নাঘর থেকে শুরু করে পাচ্ছেন একাধিক সুবিধা। যা একজন বন্দির পাওয়ার কথা নয়।
এই ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হওয়ায় রীতিমত ব্যাকফুটে চলে যায় সিদ্দারমাইয়া শাসিত কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার। তড়িঘড়ি সমস্যা ধামাচাপা দিতে, ওই মহিলা পুলিশ আধিকারিককে সততার 'পুরস্কার' হিসাবে বদলির চিঠি হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে, জেলের ভিতরের এই দুর্নীতি ইস্যু নিয়ে সরব হয় কর্ণাটকের রাজ্য় বিজেপি। ক্রমাগত কংগ্রেস সরকারের সমালোচনায় মুখর হন কর্ণাটকের বিজেপি নেতারা। তবে উল্লেখ্য, এই বিজেপিরই নেতা যোগী আদিত্যনাথ শাসিত উত্তর প্রদেশেই আবার আইন বিরুদ্ধ কাজ নিয়ে সরব হওয়া আরেক মহিলা পুলিশ আধিকারিককে একই ভাবে বদলির চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হয়।
উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের পুলিশ আধিকারিক ছিলেন শ্রেষ্ঠা ঠাকুর। যিনি সরকারের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করেন ৫ বিজেপি নেতাকে। এরপর বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রেদেশে , বিজেপি নেতাদের জেলে ঢোকানোর মাশুল গুণতে হয় শ্রেষ্ঠাকে। কিছুদিনের মাথাতেই শ্রেষ্ঠাকে নেপাল সীমান্তের বাহারেইচ জেলায় পুলিশ আধিকারিক হিসাবে বদলি করে দেওয়া হয়।
সরকারের দায়িত্বে কংগ্রেসই হোক বা বিজেপি, প্রশাসনিক দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে যে একই রণকৌশল ব্যবহার করে থাকে দুই ভিন্ন পার্টির নেতৃত্ব তা ডি রূপা ও শ্রেষ্ঠা ঠাকুরের ঘটনা থেকেই স্পষ্ট। দুই ভিন রাজ্যে দুই সৎ মহিলা আধিকারিককে যেভাবে মুখ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে , তা রাজনৈতিক দুর্নীতির ছবিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।












Click it and Unblock the Notifications