কেমন হতে চলেছে ২০২০-র পর জন্ম নেওয়া শিশুদের ভবিষ্যৎ, জানাল IPCC
করোনা মহামারীর সঙ্গে লড়ছে বিশ্ব, কিন্তু শুধু কি করোনা? ভবিষৎ-এ আরও কি অপেক্ষা করে আছে মানব সভ্যতার জন্য৷ আগামীর পৃথিবীটা কি সুখের? বিজ্ঞানের অগ্রগতি কি আমাদের পৌঁছে দেবে স্বাচ্ছন্দ্যের সর্বোচ্চ শিখরে নাকি বড় সড় চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে মানব সভ্যতা! এই সমস্ত প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করল IPCC।

জলের সহজালভ্যতা, খাদ্য উৎপাদন এবং লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বিশ্বের সমস্ত অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে অনুভূত হচ্ছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন যদি হ্রাস না হয় তবে এই প্রভাবগুলি বাড়তেই থাকবে বলে জানাচ্ছে আইপিসিসি। আগামীকালের পৃথিবী আজকের শিশুদের এবং তাদের শিশুদের জীবন আমাদের থেকে অনেক বেশি প্রভাবিত করবে। তাই এখনই অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে, কঠোর প্রভাবগুলি এখনও প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
ডব্লিউজিআইআই রিপোর্টে পরিবেশের উপর তিন ধরনের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন করা হয়েছে, নিকট-মেয়াদী (২০৪০ পর্যন্ত), মধ্য-মেয়াদী (২০৩-২০৬০) এবং দীর্ঘমেয়াদী (২০৮১-২১০০)। এই রিপোর্টে ব্যাখা করা হয়েছে ২০২০ সালে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা ২০৪০ সালে ২০ বছর এবং ২১০০ সালে ৮০ বছর বয়সী হবে। এই শতাব্দীর শেষ ২০২০-র শিশুদের জীবনকালের চেয়েও আগে হতে পারে অনেকক্ষেত্রে। যে শিশুরা এখন ১০ বছর বয়সী, তারা আগামীতে চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখতে পাবে। ২০২০ সালে দশ বা তার কম বয়সী শিশুরা ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্ব উষ্ণায়নের ১.৫ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়া অনুভব করবে৷
অন্যদিকে ২০২০ সালে ৫৫ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি তাদের অবশিষ্ট স্বাভাবিক জীবদ্দশায় সেই অর্থে কোনও ভয়ঙ্কর তাপ বৃদ্ধি অনুভব করবে না। গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমনকে মারাত্মকভাবে কমাতে এবং পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এখন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইপিসিসি৷ যা আগামীতে আজকের শিশুদের জীবন এবং ভবিষ্যতের শিশুদের জীবনের মান, সেইসঙ্গে তাদের স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং নিরাপত্তার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে।
আইপিসিসি রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে আমাদের এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে যে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ শহরাঞ্চলে বসবাস করবে যা অনেকগুলি অপরিকল্পিত বসতি নির্মাণ করাবে৷ ফলস্বরূপ, আজকের শিশু এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জলবায়ু পরিবর্তন এবং বন্যা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলের অভাব, দারিদ্র্য এবং ক্ষুধা-এর মতো বিষয়গুলির সঙ্গে বেশি যুঝতে হবে৷












Click it and Unblock the Notifications