বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে কী নাম হবে, কোন দেশ করেছে নামকরণ
সাম্প্রতিক অতীতে দখা গিয়েছে প্রত্যেক বছরই চার-পাঁচটি করে ঘূর্ণিঝড় ভারতীয় উপকূলে হানা দিতে। সেদিক দিয়ে ২০২২ কিন্তু ব্যতিক্রম। মাত্র তিনটি ঘূর্ণিঝড় বয়ে ধেয়ে এসেছে ভারতীয় উপকূলে। তার মধ্যে কোনোটিই আম্ফান বা ইয়াসের মতো সাংঘাতিক রূপ নেয়নি।
এবার এপ্রিল মাস যেতে না যেতেই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০২২-এ ভারতের উপকূলে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড় অশনি, সিতরাং ও ম্যান্ডোস। এবার নতুন যে ঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা, সেই ঝড়ের নাম হবে মোখা। উত্তর ভারত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের যে তালিকা রয়েছে তা থেকেই এই নাম বরাদ্দ হয়েছে।

নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে ইয়েমেন। ভারত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশ ১৩টি করে নাম দিয়েছে ঝড়ের। সেইমতো ১৬৯টি নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে ২০২০ সালে। সই নামের তালিকায় প্রথম সারির ১৩টি ঝড়ের মধ্যে ১২টি ঝড় ইতিমধ্যে বয়ে গিয়েছে।
প্রথম সারির শেষ ঝড় হিসেবে বয়ে যাবে মোখা। এর আগে যে ঝড় বয়ে গিয়েছিল সেই ঘূর্ণিঝড় ম্যান্ডোসের নামকরণ করেছিল আরব আমীরশাহী। ১৩টি দেশকে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে এই নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ রয়েছে সবার আগে আর শেষ দেশ ইয়েমেন।
মাঝের ১১টি দেশ পর্যায়ক্রমে ভারত, ইরান, মালদ্বীপ মায়ানমার, ওমান পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও আরব আমীরশাহী। ইয়েমেনের দেওয়া নাম মোচার পর ফের বাংলাদেশ থেকে শুরু হবে। বাংলাদেশের দেওয়ার পরের ঝড়টির নাম বিপর্যয়।

ঝড়ের নামকরণের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম নেনে ঝড়ের নাম দেবে ১৩টি দেশ। উত্তর ভারত মহাসাগরের ৪৫ ডিগ্রি পূর্ব থেকে ১০০ ডিগ্রি পূর্ব পর্যন্ত এলাকায় তৈরি হওয়া গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণ করে এই দেশগুলি। যে সমস্ত ঘূর্ণিঝড় কমপক্ষে তিন মিনিট বাতাসে স্থায়ী হয় এবং গতিবেগ সর্বনিম্ন ঘন্টায় ৬৩ কিলোমিটার হয়, সেই ঝড়েরই নামকরণ করা হয়।
এখানে উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম শুরু হয় মার্চ মাস থেকে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের মোক্ষম সময় এপ্রিল ও মে মাস। এপ্রিল মাস শেষ হতে চলেছে। এবার মে মাসে ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা সূত্রে।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্তর্বর্তী বঙ্গোপাসাগর বা আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা থাকে। এবার মার্চ ও এপ্রিল কেটে যাওয়ার পর মে মাসে বঙ্গোপসাগরে বাসা বাঁধার সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের।
এরপর জুন, জুলাই অগাস্ট তেমন সম্ভাবনা থাকে না। আবার সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়প্রবণ থাকে ভারত মহাসাগরীয় ক্রান্তীয় অঞ্চল। কোনো কোনো সময় ডিসেম্বরেও ঝড়ের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে সেই ঝড়ের ভেদশক্তি খুভই সামান্য থাকে।












Click it and Unblock the Notifications