এমন এক 'অনলাইন গেম' যা খেললে করতেই হবে আত্মহত্যা, যার নেশায় আত্মহত্যা করছে স্কুল পড়ুয়া
অনলাইন গেম, 'ব্লু হোয়েল' যা খেললে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে হবে মৃত্যুর দিকে। আর এই মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়ার আগে , কয়েকটি সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে প্রতিযোগীকে।
এক অনলাইন গেম, যা খেললে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে হবে মৃত্যুর দিকে। আর এই মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়ার আগে , কয়েকটি সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে প্রতিযোগীকে। 'ব্লু হোয়েল' নামের এই গেম -এর নেশায় এখন বুঁদ ইওরোপ ,আমেরিকার বহু স্কুল পড়ুয়া। ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনাও।
মুম্বইয়ের অন্ধেরিতে এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে এই প্রথমবারের জন্য 'ব্লু হোয়েল' নামের ঘাতক অনলাইন গেমের কথা উঠে আসে খবরের শিরোনামে। এই গেমের ফাঁদে পা দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে বহু কিশোর। জেনে নেওয়া যাক ঠিক কীরকম এই আন্ডারগ্রাউন্ড অনলাইন গেমটি।

গেম-এর নিয়ম
মারক এই অনলাইন গেমটিতে প্রত্যেক প্রতিযোগীকে গেমটির প্রশাসকরা কয়েকটি করে চ্যালেঞ্জ দেন। ৫০ দিনের মাথায় সেই চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে হয়। যে খেলার সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ হয় আত্মহত্যা। প্রতিটি চ্যালেঞ্জ শেষ করার পর ঘটনাবলীর ছবি আর ভিডিও পোস্ট করার নিয়ম রয়েছে।

গেম-এর চ্যালেঞ্জ
প্রতিদিনের হিসাবে এই গেমটিতে চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয় । প্রথমে কিছু বিশেষ ধরনের গান শোনার কথা বলা হয় প্রতিযোগীদের। তারপর রাত-বিরাতে ঘুম থেকে উঠে পড়তে বলা হয়। উঠে ভয়ের কোনও সিনেমা বা ভূতের সিনেমা দেখার জন্য় চ্যালেঞ্জ করা হয়। তার পর বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেকে শেষ করার দিকে এগিয়ে যেতে বলা হয়। আর সবশেষে আত্মহত্যা করতে বলা হয়।

কীভাবে চলছে গেমটির ডাউনলোড
কেউ কেউ বলেন, এটার জন্য নিজের স্মার্টফোনে বিশেষ এক ধরনের অ্যাপ চাই। আবার অনেকে বলছেন, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেও নাকি ব্লু হোয়েল গেম টি ডাউনলোড করা যায়।

এই গেম-কে ঘিরে মৃত্যু
মূলত রাশিয়া থেকেই এই গেমটি প্রচার পেয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই গেমটিতে আসক্ত হয়েছেন অনেকে। প্রায় ১৩০ জনের আত্মহত্যার খবর সামনে এসেছে, যাঁদের মৃত্যুর সঙ্গে এই গেমটি জড়িত বলে দাবি পুলিশের। ইওরোপ ও আমেরিকার স্কুল গুলিতে ক্রামগত বাড়তে থাকছে এই গেম খেলার চরম নেশা।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
মনরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুল পড়ুয়াদের স্মার্টফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে প্রথমেই। তার জন্য বাবা মায়েদের সবচেয়ে বেশি সময় দিতে হবে ছেলে মেয়েদের। যাতে ছেলে মেয়েদের একাকীত্ব দূর করা যায়। কাল্পনিক দুনিয়া আর বাস্তবিক দুনিয়ার ফারাক সন্তানকে ধিরে সুস্থে বুঝিয়ে তুলতে হবে। তাহলেই এই ধরনের গেম-এর প্রতি ছেলেমেয়েদের আকর্ষণ কমাতে পারবেন অভিবাবকরা।












Click it and Unblock the Notifications