মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল এবছর নির্বাচনে হেরে গেলে কী হতে পারে?
মমতা বন্দ্যোরাধ্যায় কী সত্যিই ভোটের উত্তাপ এবার বুঝতে পারছেন? বিধানসভা নির্বাচনে হেরে সিংহাসন হারানোর আশঙ্কা কী সত্যিই দিদিমণির ভিতর ঢুকেছে? যদি সত্য়িই এই বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারে তাহলে এই হারের সবচেয়ে বেশি আঁচ লাগবে তৃণমূল সুপ্রিমোর গায়েই।
তৃণমূলের হারে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে ৩৪ বছরের শানস ভেঙে পাঁচ বছর আগে পরিবর্তনের যে স্বপ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যে গেঁথে দিয়ে মমতা ক্ষমতায় এসেছিলেন তার মর্যাদা রাখতে তিনি অসফল। দলের হারের গোটা দায়টাই যাবে তাঁর কাঁধে। কারণ পাঁচ বছর আগের ঐতিহাসিক জয়ের শ্রেয়ও তো তিনি নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন।

নির্বাচনে হারলে যে বড়সড় ধাক্কা খাবেন তৃণমূল নেত্রী তা থেকে ঘুরে তাঁর পক্ষে এবং তাঁর দলের পক্ষে বেশ কষ্টসাধ্য হবে। ২০১৪ সালে বিচ্ছিরি ভাবে হারের পর কেন্দ্রে কংগ্রেসের অবস্থাটাও অনেকটা ভঙ্গুর। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে কংগ্রেসকে অনেক কসরত করতে হবে।
অন্যদিকে তৃণমূল হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্ভর করে গড়ে ওঠা একটি দল। সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারে ধসে পড়বে গোটা দলটাই। অন্তর্দ্বন্ধ এখনও রয়েছে। হারতে হলে ভবিষ্যতে তা কোন পর্যায়ে পৌছবে তা যে কেউ আঁচ করতে পারবেন।
রাজ্যে কংগ্রেস ও বামেদের কারণে দীর্ঘমেয়াদী সরকার দেখেছে বাংলা। কিন্তু ৫ বছরের মাথায় যদি গদিচ্যুত হয় মমতার তৃণমূল তবে আশঙ্কা করা যেতেই পারে এরাজ্যেও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটা বড়সড় পরিবর্তন হবে।
এবছর তৃণমূলের জন্য নির্বাচনের ফলে কোনও অঘটন ঘটলে অনায়াসেই বলা যাবে এতদিন ধরে চলে আসা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থগিতাবস্থা যাকে অনেকে স্থিতিশীলতা বলে ভুল করতেন, তার সময় গিয়েছে। বাংলার রাজনীতিতে আক্ষরিক অর্থেই পরিবর্তন এসেছে।












Click it and Unblock the Notifications