মার্কিন নির্বাচন ২০১৬: আসল সময়ে ট্রাম্পের "মিরাকল"ই ভরসা?
একদিকে অব্যর্থ নিশানাবাজ মুডি এনালিটিক্স বলছে হিলারি জিতবেন, অন্যদিকে এক অধ্যাপক যিনি একবারই ব্যর্থ হয়েছেন বলছেন ট্রাম্পই জয়ী হবেন; তাহলে?
গত দেড়বছরে তিনি মার্কিন রাজনীতিতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। প্রতিপক্ষ, সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক মিত্রদেশ এমনকি নিজের রিপাবলিকান পার্টিকেও নাজেহাল করে ছেড়েছেন। কিনতু শেষলগ্নে এসে সেই ধনকুবের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে "মিরাকল"-এর দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে প্রতিপক্ষ হিলারিকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসতে।
হোয়াইট হাউসের দৌড়ে শেষদিকে ব্যাপার-স্যাপার মোটেই ট্রাম্পের অনুকূলে যায়নি। তিনটির একটি রাষ্ট্রপতি বিতর্কতেও তিনি প্রতিপক্ষকে ওড়াতে পারেননি, বিভিন্ন জমসমীক্ষায় দেখা গিয়েছে নানা গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে তিনি পিছিয়ে পড়েছেন এবং যে এফবিআই হিলারি ক্লিন্টনকে তাঁর ইমেল-সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে ফের চেপে ধরার উদ্যোগ নিয়েছিল, তারাও তাঁকে ছেড়ে দিল। আর এখন নির্বাচনের দিনের প্রাথমিক প্রবণতাও ট্রাম্পের বিপক্ষেই চলেছে।

পলিটিকো পত্রিকা জানাচ্ছে, যে এনার্জি ট্রাম্প তাঁর প্রচারে খরচ করেছেন, তা প্রকৃত জয়ে রূপান্তরিত করতে তাঁকে এখন "মিরাকল"-এর দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।
সোমবারের (নভেম্বর ৭) খবর অনুযায়ী, ক্লিন্টন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে এগিয়ে থেকেই শুরু করছেন। বা বলতে গেলে, ২০১২ সালে বর্তমান রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা যতটা না সুবিধেজনক অবস্থায় ছিলেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মিট রোমনির থেকে, তার থেকেও হিলারির অবস্থা ভালো!
তাছাড়া, ভোটদানের প্রবণতা দেখেও হিলারি শিবিরের যথেষ্ট আশাবাদী হওয়ার কারণ রয়েছে। এক তো নির্বাচনের দিন আসতে আসতেই মত্দান দিয়ে দিয়েছেন ৪৬০ লক্ষ মার্কিন নাগরিক, যা পুরো ভোটার সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। পাশাপাশি, হিস্প্যানিক বা ল্যাটিনো ভোটার, যাঁদের ডেমোক্র্যাট-বান্ধব বলা হয়, তাঁরাও এবারে ব্যালট দিতে ছুটে আসছেন অনেক বেশি সংখ্যায়।
রাজ্যস্তরে অবশ্য কে জিতবেন তা এখুনি বলা যাচ্ছে না। পলিটিকো জানাচ্ছে, ফ্লোরিডা এবং নর্থ ক্যারোলিনার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ দু'টি রাজ্যে লড়াই চলছে কাঁটায় কাঁটায়। কে সেখানে শেষ হাসি হাসবেন তা এখনও মহাকালই জানেন। এই দু'টি পূর্ববর্তী রাজ্যের মোট ইলেক্টর সংখ্যা ৪৪ যা প্রয়োজনীয় অঙ্ক ২৭০-এ পৌঁছতে খুবই দরকারি।
এই নির্বাচনের প্রচারে হিলারি পক্ষে আরও একটি বড় সুবিধা হয়েছে রাষ্ট্রপতি ওবামা এবং তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামার সমর্থন। এই দুই ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন ভোটার গোষ্ঠীর (যেমন মহিলা, কৃষ্ণাঙ্গ, কমবয়সী) কাছে যেভাবে আবেদন রেখেছেন হিলারি ভোট দিয়ে ট্রাম্পকে হারাতে, তাতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর কাছে উপরি পাওনা।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের পক্ষে বিশেষ কাউকে পাওয়া যায়নি, কারণ তিনি নিজেই। উল্টে, তাঁকে সমর্থন জানানো নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির এমন ছত্রভঙ্গ অবস্থা যে তিনি জিতলেও সেই দলের অবস্থা কতটা ফিরবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।












Click it and Unblock the Notifications