ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন দ্বন্দ্বে বরাবর এসেছে জঙ্গি সংগঠন হামাসের নাম

ইসরায়েল ও প্যালেস্তাইনের মধ্যে ফের শুরু হয়েছে সংঘাত। যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। গাজা ভূখণ্ড নিয়ে ফের দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। প্যালেস্তাইনের জঙ্গিরা দক্ষিণ ও মধ্য ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় ৭ অক্টোবর৷ ২২ জন মারা গিয়েছেন ওই হামলায়। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে উত্তেজনা। কোনওভাবেই ইসরায়েল পিছিয়ে আসতে চায় না।

ইসরায়েল ও প্যালেস্তাইনের মধ্যে এই হামলা, সংঘাত আজকের ঘটনা নয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলছে এই ঘটনা। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হামাস। প্যালেস্তাইনের এই গাজা ভূখণ্ড হামাসদের শাসনে রয়েছে। এই হামাসরা অত্যন্ত কট্টরপন্থী। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কও অত্যন্ত তলানিতে। এখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে হামলা চলে৷ এমনই অভিযোগ দীর্ঘ সময় ধরে চলছে।

ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন দ্বন্দ্বে বরাবর এসেছে জঙ্গি সংগঠন হামাসের নাম

হামাসের কাছে অস্ত্র পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিন্তু ইসরায়েল কিছুতেই এই অস্ত্র হামাসের কাছে পৌঁছাক, তা চায় না। মিশর ও ইসরায়েল সীমান্তে রীতিমতো তীব্র নজরদারি চলে৷ প্যালেস্তাইন সেই নিয়েও বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেছে। বহুবার দুই দেশ এই ইস্যুতেই অস্ত্র তুলে নিয়েছে। ক্ষেপনাস্ত্র হানায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এই দুই দেশের অনেক অংশ। কিন্তু তারপরেও স্থির কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি।

হামাস কী?

এই প্রশ্নের উত্তরে বলাই যায়, প্যালেস্তাইনের বৃহত্তম জঙ্গি সংগঠন হল হামাস। ২০ লক্ষেরও বেশি প্যালেস্টিনীয়কে এই হামাস সংগঠন শাসন করে। অস্ত্রতেই কথা বলতে তারা বিশ্বাসী। এমনও শোনা যায়। জঙ্গি কার্যকলাপের জন্যও হামাস দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত। ইসরায়েলের উপর জঙ্গি কার্যকলাপ তো বটেই। প্রথম বিশ্বের অন্যান্য দেশেও হামাস তাদের শাখা ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ।

কবে তৈরি হল এই হামাস?

কীভাবে উৎপত্তি হল এই জঙ্গি সংগঠনের? সেই জানতে হলে ফিরে যেতে হবে গত শতাব্দীর ১৯৬৭ সালে। ইসরায়েল - আরব যুদ্ধের সময় প্যালেস্তাইনের দুটি অঞ্চল দখল করা হয়। ইসরায়েলের সঙ্গে তারপর থেকে উত্তেজনার পারদ দফায় দফায় দেখা গিয়েছে। ১৯৮০ দশকের শেষের দিকে এই সংঘাত চরমে ওঠে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দখলদারির অভিযোগ উঠতে শুরু করে। প্রথম প্যালেস্টিনীয় বিদ্রোহ শুরু হয়। পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা নিয়ে শুরু হয় গোলা- বারুদের লড়াই।

ইসলামিক এই জঙ্গি সংগঠনের লক্ষ্যই হল ইসরায়েলের নজর থেকে প্যালেস্তাইনকে বার করা। গাজা ভূখণ্ডের উপর যাতে ইসরায়েল কোনও নজরদারি না করতে পারে। নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আল হারুব একটি বই লিখেছিলেন। সেখানে হামাসের উৎপত্তির উল্লেখ পাওয়া যায়। হামাস মূলত প্যালেস্তাইন মুসলিম ব্রাদারহুডের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর। এটি মূলত জেরুজালেমে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

১৯৮০ দশকের আগে পর্যন্ত সেভাবে এই সংগঠন সশস্ত্র হয়ে ওঠেনি। তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বরাবরই তারা প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাবের। ১৯৮৭ সালে প্যালেস্টিনীয় বিদ্রোহের সময় তারা মনোভাব আরো উগ্র করে তোলে। ইসরায়েলের দখলের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে নামে।

হামাস কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে?

ইসরায়েল ও পিএলওর মধ্যে অসলো শান্তি চুক্তি হয়েছিল। ১৯৯০ এর দশকে সেই চুক্তির বিরোধিতা করা হয়। এর ফলে হামাসের ভূমিকা বাড়তে থাকে। প্যালেস্তাইন দেশে হামাস তাদের প্রভাব বাড়াতে শুরু করে।

প্যালেস্তাইনের শরণার্থী সমস্যা বহু দশকের। সেই স্মৃতিকেও উসকে দিয়েছে হামাস। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েল ও প্যালেস্তাইনের মধ্যে লড়াই চলেছে। আর বরাবর এই হামাসের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এবারও যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, উসকে দিয়েছে পুরনো স্মৃতি। হামাসকে নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+