ভারতের শেষ গ্রাম কোথায় অবস্থিত জানেন, তারপর থেকেই শুরু ‘স্বর্গে’ যাওয়ার রাস্তা

ভারতের এই শেষ গ্রামের পরত পরতে ছড়িয়ে রয়েছে অ্যাডভেঞ্চার। খুঁজে পাবেন স্বর্গের পথও!

আপনি কি জানেন, কোথায় আছে ভারতের শেষ গ্রাম। উত্তরে বিশাল হিমালয়, দক্ষিণে সমুদ্র দিয়ে ঘেরা আমাদের মহান ভারত। কিন্তু এই ভারতেই আছে এমন একটি গ্রাম, যাকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে 'শেষ গ্রাম' বলে। এই গ্রামের পরই শুরু 'স্বর্গ'-এ যাওয়ার পথ!

‘ভারতের শেষ গ্রাম’

‘ভারতের শেষ গ্রাম’

গ্রামের প্রবেশদ্বারে লেখা- 'ভারতের শেষ গ্রাম'। অবস্থান উত্তরাখণ্ডে। আর এই গ্রামের নামটি- মানা। উত্তরাখণ্ডের এই মানা গ্রাম থেকে পাহাড়ি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাস্তা চলে যাচ্ছে 'স্বর্গ'-অভিমুখে। আসলে বদ্রীনাথ মন্দিরে যেতে গেলে এই গ্রাম পেরিয়েই যেতে হবে। এই গ্রাম পেরোলেই আপনি পাবেন পুণ্যের খোঁজ।

জানেন, শেষ গ্রামের কী নাম

জানেন, শেষ গ্রামের কী নাম

যদি প্রশ্ন করা হয়- ভারতের শেষ গ্রাম কোনটি। তবে আপনি নিঃসঙ্কোচে বলতে পারেন, শেষ গ্রামের নামটি হল মানা। শুধু স্বর্গের পথের খোঁজ দেয় না এই গ্রাম। এই গ্রামের পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে অ্যাডভেঞ্চার। তাই অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী মানুষজন ভ্রমণের জন্য বেছে নিতে পারেন মানা গ্রামটিকে।

প্রবেশদ্বারে সাইনবোর্ডে লেখা

প্রবেশদ্বারে সাইনবোর্ডে লেখা

স্বাভাবিকভাবে মনে হতেই পারে শেষ গ্রাম তো প্রত্যেক সীমান্তেই রয়েছে। আর একটি কেন একটি দেশে একাধিক শেষ গ্রাম থাকবে, যার অবস্থান সীমান্তবর্তী। কিন্তু না উত্তরাখণ্ডের মানাই একমাত্র গ্রাম, যাকে সরকারিভাবে শেষ গ্রামের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাই সাইনবোর্ডে লিখে দেওয়া হয়েছে- 'ভারতের শেষ গ্রাম'।

বিতর্ক ভারতের শেষ গ্রাম নিয়ে

বিতর্ক ভারতের শেষ গ্রাম নিয়ে

ভারতের শেষ গ্রাম কোনটি তা নিয়ে বিতর্কের থেকেও বেশ রয়েছে বিভ্রান্তি। উত্তরাখণ্ডের মানা নাকি হিমাচল প্রদেশের চিতকুল ভারতের শেষ গ্রাম তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল। চলত তর্কবিতর্কও। সেই বিভ্রান্তি দূর করে সরকারি তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চিতকুল হল ইন্দো-তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত শেষ জনবসতিপূর্ণ গ্রাম। আর ভারতের শেষ গ্রাম হিসেবে স্বীকৃত উত্তরাখণ্ডের মানা।

কোথায় ঠিকানা শেষ গ্রামের

কোথায় ঠিকানা শেষ গ্রামের

ভারতের এই শেষ গ্রাম অবস্থিত উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই গ্রামের উচ্চতা প্রায় ৩২০০ মিটার ঊর্ধ্বে। আর এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে সরস্বতী নদী। এই গ্রাম থেকে বদ্রীনাথের দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। আর চিন সীমান্ত মাত্রা ২৪ কিলোমিটার দূরে।

ট্যাগ লাইনে ‘ভারতের শেষ’ কথাটি

ট্যাগ লাইনে ‘ভারতের শেষ’ কথাটি

সরকারিভাবে মানা গ্রামটি 'ভারতের শেষ গ্রাম' হিসেবে আখ্যা পেয়েছে। আর এই লাইনটিকে এখানকার ব্যবসায়ীরা ট্যাগ লাইন হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। কেউ লেখে ভারতের শেষ দোকান, কেউ লেখে ভারতের শেষ কফি কর্ণার, ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ ভারতের শেষ কথাটিকে ট্যাগ লাইন হিসেবে ব্যবহার করে প্রায় সবাই।

কীভাবে পৌঁছবেন মানা গ্রামে

কীভাবে পৌঁছবেন মানা গ্রামে

হৃষিকেশ বা হরিদ্বার থেকে উত্তরাখণ্ডের মানা গ্রামে পৌঁছনো যায়। বদ্রীনাথ দর্শন সেরেও অনেকে যায় মানা গ্রামে। মানার নিকটতম রেল স্টেশন হল হরিদ্বার। হরিদ্বার থেকে থেকে দূরত্ব প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার। হরিদ্বার স্টেশনের বাইরে মানা গ্রামে যাওয়ার বাস বা ট্যাক্সি পাওয়া যায়। দেরাদুন থেকে দূরত্ব ৩১৫ কিলোমিটার। দেরাদুন স্টেশনের বাইরেও রয়েছে বাস ও ট্যাক্সি।

পাণ্ডবরা স্বশরীরে স্বর্গের পথে

পাণ্ডবরা স্বশরীরে স্বর্গের পথে

মহাতীর্থ বদ্রীনাথের নিকটবর্তী পাহাড়ি গ্রাম মানার সঙ্গে রয়েছে মহাভারতের যোগ। ধর্মীয় বিশ্বাস, মহাভারতের সময় পাণ্ডবরা স্বশরীরে স্বর্গের পথে রওনা দিয়েছিলেন এই গ্রাম দিয়েই। এই গ্রাম পেরিয়েই স্বর্গের পথ ধরেছিলেন তাঁরা। তারপর পৌঁছেছিলেন স্বর্গের দ্বারে।

স্বর্গের পথে ভীম কর্তৃক সেতু

স্বর্গের পথে ভীম কর্তৃক সেতু

মানা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে সরস্বতী নদী। এই নদী স্বর্গ থেকে প্রবাহিত বলে বিশ্বাস মানুষের। আর এই নদীর কাছেই রয়েছে পাথরের সেতু। এই সেতুর নাম 'ভীম পুল'। কথিত আছে, স্বর্গে যাওয়ার পথে এই সেতুটি তৈরি করেছিলেন দ্বিতীয় পাণ্ডব ভীম। তা থেকেই সেতুটির নাম 'ভীম পুল' হয়েছে।

প্রধান আকর্ষণ নীলকণ্ঠ শৃঙ্গ

প্রধান আকর্ষণ নীলকণ্ঠ শৃঙ্গ

স্বর্গের প্রবেশদ্বার মানার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। নান্দনিক সৌন্দর্যের অধিকারী এই গ্রামের দর্শনীয় স্থানগুলিও মনোরম ও আকর্ষণীয়। আর এই অঞ্চলের প্রধান আকর্ষণ হল নীলকণ্ঠ শৃঙ্গ। মানা গ্রাম থেকে পাহাড়ি পথ পেরিয়ে ৬৯৫৭ ফুট উঁচুতে এই শৃঙ্গের উপরই অবস্থিত বদ্রীনাথ মন্দির।

এ গ্রামে রয়েছে ব্যাস গুহা

এ গ্রামে রয়েছে ব্যাস গুহা

এ গ্রামে একটি গুহা রয়েছে। যেখানে মহাকবি বেদব্যাস থাকতেন। তাঁর নামেই গুহাটির নাম হয়েছে ব্যাস গুহা। কথিত আছে, এর ভিতরে বসেই তিনি রচনা করেছিলেন মহাভারত। এই গুহায় রয়েছে একটি ছোটো মন্দির। মন্দিরের পূজিত হন ঋষি বেদব্যাস। প্রায় ৫০০০ বছর প্রাচীন এই মন্দিরটি।

ট্রেকিংয়ের আদর্শ জায়গা

ট্রেকিংয়ের আদর্শ জায়গা

মানা গ্রামে শুধু আধাত্মিকতা নয়, অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য তা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে অতি প্রিয়। ট্রেকিংয়ের আদর্শ জায়গা বলেও মনে করেন অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা। মানা গ্রাম থেকে বসুন্ধরা, মানা পাস ও চরণপাদুকা যাওয়া যায়। এখানে ট্রেক করার মজাই নাকি আলাদা বলে থাকেন ট্রেকার-রা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+