জঙ্গি হামলার চেয়েও এই বিষয়টি বেশি ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে
গুলশনের রেস্তরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনা সারা বিশ্বকে নড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেশী ভারতেও এই আতঙ্কের আবহ প্রশস্ত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিকেরাই। [জঙ্গি হামলা নিয়ে ঢাকাকে সতর্ক করেছিল নয়াদিল্লি, আমল না দিয়েই ডুবল বাংলাদেশ!]
১৬ কোটির দেশে নব্বই শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মের। আর সেখানে কমবয়সীদের ভুলিয়ে ধর্মের নামে বর্বরতা, সন্ত্রাসবাদের উদ্বুদ্ধ করার প্রবল সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে কট্টরপন্থীরা। হোলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় যেভাবে হামলা হয়েছে, আর যারা হামলা চালিয়েছে, এই দুটির মধ্যে থাকা নৃশংসতা ভাবিয়ে তুলছে সরকারকে।

গত কয়েকবছর ধরে বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের হাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা খুন হয়েছেন। মৌলবাদী চিন্তাভাবনায় যারা আঘাত হেনে মুক্তচিন্তার আমদানি করার চেষ্টা করেছেন, তাদের প্রকাশ্য রাস্তায় কুপিয়ে, গুলি করে খুন করে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। হয় ইসলাম গ্রহণ কর, নাহলে বাংলাদেশ ছাড়।
এতটা পর্যন্ত ঠিক ছিল। দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে গরিব ঘরের ছেলেদের নানা মোহে ভুলিয়ে দলে ভেড়ানোর কাজ চলছিল কট্টরপন্থীদের। এবারের গুলশন হামলা দেখাল, শুধু গরিব ঘরের ছেলেদেরই নয়, উচ্চবিত্ত তথা শিক্ষিত ঘরের যুবকদেরও ধর্মের নামে ফুঁসলে দলে ভিড়িয়ে জঙ্গিপনাকে উসকানি দিচ্ছে জামাত, আইএসের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি।
বাংলাদেশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারী মৃত জঙ্গিদের সকলের বয়স ২০-২৮ বছরের মধ্যে। এবং সকলেই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। শুধু তাই নয়, গোয়েন্দা সূত্রে খবর, চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত যে সব জঙ্গি যুবকদের নাম রয়েছে, এরা প্রত্যেকেই ধনবান, অবস্থাপন্ন এবং উচ্চশিক্ষিত।
ফলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের যে নয়া সমীকরণ তৈরি হয়েছে তার সমাধান সূত্র বের করাই এখন শেখ হাসিনা সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ সরকার পূরণ করতে পারে কিনা তার উপরে নির্ভর করবে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই।












Click it and Unblock the Notifications