Teachers Day 2023: ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের সম্পর্কে এই অজানা তথ্যগুলি কি আপনার জানা?
প্রতিবছর আড়ম্বরের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীরা পালন করেন 'শিক্ষক দিবস’। সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখ পালিত হয় শিক্ষক দিবস। কেন ৫ তারিখ শিক্ষক দিবস পালিত হয় জানেন? ভারতের প্রথম সহ-রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনে পালন করা হয়। একজন প্রখ্যাত পণ্ডিত, দার্শনিক, এবং ভারতরত্ন প্রাপক ছিলেন তিনি, ডঃ রাধাকৃষ্ণন ১৮৮৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখ জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
তিনি চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়- সহ অনেক কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তিনি অন্ধ্র প্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম সহ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিযুক্ত হন, তাঁর ঠিক ১০ বছর পর ১৯৬২ সালে ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন ।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতেন তিনি
রাধাকৃষ্ণন একজন মহান রাজনীতিবিদ ছিলেন, তাঁর অধ্যাপনা ও দর্শনে তিনি সর্বদাই মুগ্ধ থাকতেন। তার জন্মদিনকেই শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন ছাত্র ছাত্রীরা। রাধাকৃষ্ণান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের কাজ করেছেন। মাদ্রাজ-খ্রিস্টান কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ও ডিগ্রি নিয়েছিলেন তিনি, তাঁর দর্শনশাস্ত্রের প্রশংসা জগৎজোড়া।
কী কী বই লিখেছেন তিনি
শুধু তাই নয়, রাধা কৃষ্ণন ছিলেন একজন লেখক। তার চিন্তাভাবনার ধারণাই ছিল অন্যরকম। ১৯০৯ সালে রাধাকৃষ্ণাণ মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজে তাঁর শিক্ষক জীবন শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছিলেন। এসময় তিনি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য পত্রিকায় লিখতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন, ভারত দর্শন, সমসাময়িক দর্শন, ধর্মের রাজত্ব , সত্যের সন্ধান, ধর্ম বিজ্ঞান সংস্কৃতি উপর থেকে অনেক বই লিখেছিলেন তিনি, যে বইগুলি ছাত্রদের অনুপ্রেরণামূলক হিসাবে কাজ করে থাকে এখনও।

কী কী মর্যাদায় সম্মানিত হয়েছিলেন তিনি
ডক্টর রাধাকৃষ্ণনের পড়ুয়াদের জন্য রেখেগেছেন অনেক অবদান। পাশ্চাত্য পাশ্চাত্য দর্শনের উপর খুব ভালো কাজ করেছিলেন তিনি, ১৯২৬ সালের জুন মাসে ডক্টর রাধাকৃষ্ণন বুদ্ধি ভিত্তিক দক্ষতার কারণে মর্যাদাও পেয়েছিলেন। ১৯২৯ সালে তিনি ম্যানচেস্টার কলেজের অধ্যাপক হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, তাঁকে সম্মানিতও করা হয়েছিল সেখানে। ১৯৩৬ সালে ডক্টর রাধা কৃষ্ণন অক্সফোর্ড বিদ্যালয় ইস্টার্ন রেলিজিয়ন একজন প্রফেসর হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৩৬ ও ৩৭ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান তিনি।
কোথা থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছিলেন তিনি
তিনি মাদ্রাজ ক্রিশ্চিয়ান কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন এবং তাঁর বিষয় ছিল দর্শন। বই কেনার টাকা ছিল না। আর্থিক অভাবে মনে কাটাতেন তিনি। তাই, তাঁর এক দাদার কাছ থেকে দর্শনের বই নিয়ে পড়াশুনা করতেন। তিনি একাধারে ছিলেন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, দার্শনিক ও অধ্যাপক। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন অতি মেধাবী। জীবনে কোনও পরীক্ষায় দ্বিতীয় হননি তিনি। ১৯০৫ সালে তিনি মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছিলেন।
ভারতের দূত হয়েও কাজ করেছিলেন তিনি
সালটা ১৯৫২, সেই সময়ে তিনি উপরাষ্ট্রপতি হন। ১৯৪৬ সালে ইউনেস্কোর দূত হয়েছিলেন তিনি। সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের দূত হয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। আবার ১৯৬২ সালে রাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন। তাঁর পরিচয় বিশ্বজুড়ে। বিশ্বের দরবারে তিনি অতি জনপ্রিয় দার্শনিক অধ্যাপক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৩১ সালে তাঁকে 'British knighthood' উপাধিতে সম্মানিত করা হয়। ১৯৫৪ সালে তাঁকে 'ভারতরত্ন' উপাধি-তে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দেখানো পথে আজও হাঁটেন ছাত্রসমাজ।












Click it and Unblock the Notifications