সুদীপের জামিনে কী প্রতিক্রিয়া বাংলার রাজনৈতিক মহলের?
তৃণমূল সাংসদের জামিনে রাজনৈতিক মহলে পাওয়া গিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জামিন মানেই দোষমুক্তি নয়। দোষীদের শাস্তি পেতেই হবে, মত বিরোধীদের।
রোজভ্যালিকাণ্ডে ধৃত তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামিন মঞ্জুর হয়েছে সাড়ে চার মাস পর। স্বভাবতই লোকসভার দলনেতার জামিনে স্বস্তিতে শাসকদল। সিবিআইয়ের যুক্তি আর ধোপে টেঁকেনি। তৃণমূল সাংসদের জামিনে রাজনৈতিক মহলে পাওয়া গিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শাসকদল এই মর্মে ফের বলতে শুরু করেছে তাঁদের সাংসদকে জোর করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। নোটকাণ্ডে সরব হয়েছিলেন বলেই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে প্রবীণ তৃণমূল সাংসদকে জেলে যেতে হয়েছিল। এই জামিন প্রসঙ্গে কী বলছেন বাংলার রাজনৈতিক নেতারা? জেনে নিন একনজরে।
সুধাংশুশেখর রায়, তৃণমূল কংগ্রেস : সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের দলের একজন গুরুত্বূপূর্ণ নেতা। তাঁর জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আমরা খুব খুশি। আমরা ওড়িশা হাইকোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। সেইসঙ্গ দ্রুত তাঁর আরোগ্য কামনা করছি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। তবু তাঁকে প্রভাবশালী তত্ত্ব খাটিয়ে জোর করে আটকে রাখা হয়েছিল। অবশেষে তিনি জামিন পেলেন।

অধীররঞ্জন চৌধুরী, কংগ্রেস : জামিন পেলেন মানেই দোষমুক্তি নয়। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। সতা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সেইসব দিকে যাচ্ছি না। সুদীপদা প্রবীণ নেতা। তিনি অসুস্থ ছিলেন। এতদিন তাঁর জামিন মঞ্জুর হচ্ছিল না। এদিন তিনি জামিন পাওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আমি খুশি। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন। আবার রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ শুরু করুন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেস : আমি খুব খুশি। সুদীপদার বিরুদ্ধে সিবিআই যে পরিকল্পনা করে আটকে রেখেছিল, তা নজিরবিহীন। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে এভাবে চার মাস পাঁচমাস জেলে আটকে রাখা যায় না। গ্রেফতার করা খুব বড় বীরত্বের ব্যাপার নয়। তাঁর অপরাধ প্রমাণ করাটাই বড় ব্যাপার। সাড়ে চার মাসে কোনও কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি মোদীর সরকার। ওড়িশা হাইকোর্ট প্রমাণ করে দিয়েছে, সিবিআই কতটা যুক্তিহীনভাবে তাঁকে আটকে রেখেছিল।
রাহুল সিনহা, বিজেপি : জামিন পাওয়াটা একটা বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই পড়ে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সুদীপবাবু জামিন পেয়েছেন। তিনি জামিন পেলেন মানেই দোষমুক্ত হয়ে গেলেন তা তো নয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। বিচারপক্রিয়া এগোবে। রোজভ্যালিকাণ্ডে তাঁর অভিযোগ উঠেছিল, তা একইরকমই আছে। সেখানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। সেগুলো প্রমাণসাপেক্ষ্য। আগামী দিনে সেই পথেই তদন্ত এগোবে। প্রমাণ হয়ে যাবে তিনি নির্দোষ কি না। দোষীদের শাস্তি পেতেই হবে।
নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেস : যা প্রতিক্রিয়া দল দেবে। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, আমি খুশি হয়েছি। তবে খুশির পাশাপাশি চিন্তিতও। কেননা, ওঁর অসুস্থতা। ছাড়া পাওয়ার পর সঠিক চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে হবে। তা নিয়ে দলের সঙ্গে কথা বলব। আজই বৈঠক রয়েছে দলের। দলের নেতাদের পরামর্শ মতোই ব্যবস্থা করব, যাতে ও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
মহম্মদ সেলিম, সিপিএম : ওড়িশা হাইকোর্টের নির্দেশ জামিন। লোকসভার সাংসদ হিসেবে দীর্ঘদিন একসঙ্গে সংসদীয় রাজনীতির করার কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁর সুস্থতা কামনা করি। পাশাপাশি এই প্রশ্নও তিনf তোলেন, এই ধরনের প্রতারণা মামলায় রাজনৈতিক দলের বড় নেতারা গ্রেফতার হওয়ার সময় যেমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্ব খাড়া করা হয়, তেমনই ছাড়া পাওয়ার সময়ও বলতে হবে রাজনৈতিক প্রশ্রয় রয়েছে।
আসলে কলকাতা-ভুবনেশ্বর-দিল্লি যোগ রয়েছে। তার কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুকুল রায়ের সঙ্গে রোজভ্যালি কর্ণধারের বৈঠক নিয়ে জানা সত্ত্বেও সিবিআই কিছু করেনি। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সাধারণ মানুষের টাকা ফেরতেরও কোনও বন্দোবস্ত করা হয়নি।
{promotion-urls}












Click it and Unblock the Notifications