শ্রীলঙ্কায় জঙ্গিহানা : সন্ত্রাসবাদীরা আজকাল বিলাসবহুল হোটেলগুলিকে নিশানা করছে কেন?
গত রবিবার, ২১ এপ্রিল, ইস্টার উপলক্ষ্যে যখন প্রচুর মানুষ জমায়েত হয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন গির্জায়; ছুটির আমেজে মজেছেন তাঁরা, তখনই একের পর এক ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ছবির মতো সাজানো দেশটি।
গত রবিবার, ২১ এপ্রিল, ইস্টার উপলক্ষ্যে যখন প্রচুর মানুষ জমায়েত হয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন গির্জায়; ছুটির আমেজে মজেছেন তাঁরা, তখনই একের পর এক ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ছবির মতো সাজানো দেশটি। গির্জা, হোটেল বিভিন্ন স্থানে ঘটতে থাকা বিস্ফোরণগুলিতে মারা যান প্রায় ৩০০ মানুষ; আহত ৫০০-রও বেশি। এই বেনজির জঙ্গিহানার পরে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রচণ্ড ক্ষোভের মুখে পড়ে কারণ গোয়েন্দা সূত্রে নাকি এমন ঘটনার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল দিন দশেক আগেই আর তার পরেও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি তারা।

শ্রীলঙ্কার এই হানাগুলি প্রধানত ঘটেছে গির্জা ও পাঁচতারা হোটেলে। তিনটি হোটেলে আক্রমণ চালানো হয় গত রবিবার এবং তাতেও প্রাণ হারান প্রচুর মানুষ।
জঙ্গিহানার ক্ষেত্রে এখন দেখা যাচ্ছে পাঁচতারা হোটেল এক অন্যতম বড় লক্ষ্য হয়ে উঠছে। ২০০৮ সালে মুম্বই হানার সময়ে তাজমহল প্যালেস হোটেল ও ওবেরয় ট্রাইডেন্ট হোটেলকেও নিশানা করে জঙ্গিরা আর তাতে মারা যান ৬০জন মানুষ। ২০০৮-০৯ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের ম্যারিয়ট হোটেল এবং পেশোয়ারের পার্ল কন্টিনেন্টাল হোটেলেও ঘটানো হয় ভয়াবহ জঙ্গিহানা যাতে একজন কূটনীতিক সহ বেশ কিছু বিদেশি প্রাণ হারান।
গতবছর জানুয়ারি মাসে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের ইন্টার-কন্টিনেন্টাল হোটেলেও আক্রমণ চালায় কিছু বন্দুকবাজ যাতে প্রাণ যায় ৪২জন মানুষের। এছাড়াও কাবুলের বিভিন্ন হোটেলে সময়ে সময়ে ঘটেছে আততায়ী হানা যাতে মারা গিয়েছেন বহু নির্দোষের।

এখন ঘন ঘন আক্রমণ চলছে হোটেলগুলির উপরে
শ্রীলঙ্কার পাঁচতারা হোটেলে জঙ্গি আক্রমণ ঘটার পরেই প্রশ্ন উঠছে এই নতুন ধরনের মারণখেলা নিয়ে। হোটেলের মতো সফ্ট টার্গেটে আঘাত হানার ঘটনা নতুন নয় কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এতবার আক্রমণের পরেও এই 'সফ্ট টার্গেট'গুলি সফ্টই থেকে যাচ্ছে কারণ হোটেলে রাতারাতি সুরক্ষা নিশ্ছিদ্র করা বেশ কঠিন কাজ। হোটেলের মতো খোলামেলা জায়গায় যেখানে মানুষের সমাগম সবসময়ই, সেখানে জঙ্গিহানা ঠেকানো সহজ নয়। তার ওপর হোটেল সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য ইন্টারনেট ইত্যাদির থেকে সহজলভ্য, হোটেল ব্যবসায়ীদের নিজেদের ব্যবসার কারণেই আর সেসব থেকে জঙ্গিহানার হোতাদের পরিকল্পনা তৈরী করা বিশেষ কঠিন কাজ নয়।
পাঁচতারা হোটেল নিশানা করলে মারা পড়বে বিদেশি, বিত্তশালীরা
তাছাড়া, পাঁচতারা হোটেল আক্রমণ করলে বিদেশি, বিত্তশালী মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি আর তেমন মানুষের মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে আরও বেশি করে জায়গা করে নেবে যেটা জঙ্গিরা চায়। একটি বিলাসবহুল হোটেলে হানা দিতে পারলে যে হারে মৃত্যু, আতঙ্ক ইত্যাদি ছড়াবে তাতে জঙ্গিবাদের নেতা-হোতাদের পেশা গৌরবান্বিত হবে এবং আরও নতুন সদস্যরা এই সমস্ত দলে প্রবেশের ইচ্ছে প্রকাশ করবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাল্টা ধাক্কা খেয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির এখন এটাই নতুন কৌশল পাখনা মেলার।












Click it and Unblock the Notifications