Slowest train of India: ঘণ্টায় ৯ কিমি বেগে চলে ট্রেন! হাঁটার মতো গতিতেও বিরক্তি নেই যাত্রাপথে
দেশের সবথেকে ধীর গতির ট্রেন এটি। গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ৯ কিলোমিটার। হাঁটার মতো গতিতে ট্রেন চললেও কোনও বিরক্তি নেই যাত্রাপথে! বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো সেমি হাইস্পিড ট্রেনের যুগেও দেশের বুকে এমন ট্রেন চলে যে, সাইকেলও পেরিয়ে যেতে পারে অবলীলায়।
দেশ এখন বুলেট গতিতে এগোচ্ছে। শীঘ্রই বুলেট ট্রেন চালু হবে দশে। এই সময়েও দেশে এমন ট্রেন চলে! যে ট্রেন পাঁচ ঘণ্টায় মাত্র ৪৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। জানেন কোথায় চলে সেই ট্রেন, আর সেই ট্রেনের যাত্রায় কেনই বা বিরক্ত হয় না মানুষ?

এমন একটি ট্রেন রয়েছে নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ের হাতে। এই ট্রেনটি দেশের সবথেকে ধীরগতির ট্রন বলে আখ্যায়িত হয়েছে। দেশের দ্রুততম ট্রেন এই ট্রেনের থেকে ১৮ গুণ বেশি গতিতে চলে। বন্দে ভারতেপর গতি যেখানে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার, সেখানে দশের সবথেকে ধীর গতির ট্রেনের গতি মাত্র ৯ কিলোমিটার।
এই ট্রেনটি কোথায় চলে, তা জানলেই আপনি আশ্চর্য হয়ে যাবেন। আপানার গতির দুনিয়ায় ধীরগতির ট্রেন নিয়ে বিরত্তি কেটে যাবে, উল্টে আপনার ইচ্ছা হবে, একবার এই ট্রেনের সওয়ারি হওয়ার। নীলগিরি পর্বতমালার মধ্য দিয়ে চলে এই ট্রেন। খাড়া পাহাড়ি পথে নীলগিরি পাহাড়ে পাদদেশের শহর মেট্টুপালায়ম থেকে চলে যায়।
খাড়াই পথে পাহাড়ি শহর উটি পর্যন্ত চলে এই ট্রেনটি। একেবারে স্বপ্নের মতো মনে এই এই ট্রেন পথটিকে। তবে সড়কপথে অনেক কম সময়ে লাগে মেট্টুপালয়ম থেকে উটি যেতে। কেন ট্রেনে এত বেশি সময় লাগে? আসলে ট্রেনটি যেমন খাড়াই পথে যায়, তেমনই ১৬টি সুড়ঙ্গ, ২৫০টি সেতু ও ২০৮টি বক্ররেখা অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছতে হয় ট্রেনটিকে।
এই ট্রেনটিতে চড়তে গেলে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে মেট্টুপালায়ম থেকে ছেড়ে ১২টায় উটিতে পৌঁছয়। ফিরতি যাত্রায় উটি থেকে ছাড়ে ২টোয়। বিকেল ৫.৩৫ মিনিটে মেট্টপালায়মে পৌঁছয়। এই যাত্রাপথে ট্রেনটি কুনুর, ওয়েলিংটন, আরাভানকাডু, কেটি ও লাভডেলের মধ্য দিয়ে যায়।
ইউনেস্টোর ওয়েবসাইট অনুযায়ী নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে প্রথম ১৮৫৪ সালে প্রস্তাবিত হয়েছিল। কিন্তু কটিন ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এর কাজ শুরু করতে দেরি হয়। কাজ শুরু হয় ১৮৯১ সালে। ১৯০৮ সালে এই মিটারগেজ সিঙ্গল রেলপথটি সম্পন্ন হয়। ট্রেনটিতে প্রথম শ্রেণির ১৬টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ২১৪টি আসন রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications