Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

কেন এমন করলেন মমতাদেবী? মানুষ তো আপনার পাশেই ছিল

mamata-rally
তিনি ছিলেন সততার প্রতীক | ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর সুদীর্ঘ ৩৪ বছর বঙ্গদেশের রাজনীতিতে অবাম বলে যেটুকু ছিল, তা তাঁরই দৌলতে | একটি রেজিমেন্টেড পার্টিকে ক্ষমতা থেকে সরানো মুখের কথা নয় আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে একাই তা করে দেখিয়েছেন তাও নয়, সে যতই তাঁর পার্টি এবং সমর্থককূল সে কথা বলুক, কিন্তু একথা নিঃসন্দেহে সত্যি যে শ্রীমতি বন্দ্যোপাধ্যায় একাই একটি শক্তিশালী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে বিরোধিতা তুলে ধরেছিলেন বছরের পর বছর, সেরকম নজির স্বাধীন ভারতে বিশেষ নেই |

২০১১ সালে বামফ্রন্ট ধরাশায়ী হওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ ছিল যা মমতাদেবীর তৃণমূল কংগ্রেসকে সেবছরের বিধানসভা ভোটে সাহায্য করেছিল, কিন্তু বামফ্রন্টের বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তিনিই যে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম পছন্দ , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ কারও মনেই ছিল না|

২০১১ সালের ২০শে মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাই সবাই মনে করেছিলেন যে সত্যি বোধহয় এবার পরিবর্তন এলো রাজ্যে |

প্রথমদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু তত্পরতাও দেখিয়েছিলেন | বিভিন্ন হাসপাতাল কিংবা সরকারী দফতরে আচমকা হানা দেওয়া এবং কাজকর্মের গতিপ্রকৃতি প্রত্যক্ষ করা, মহাকরণে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া, প্রেসিডেন্সি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা এবং তার উত্কর্ষসাধনে বিশেষ প্যানেল গঠন করা --- শ্রীমতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসমস্ত উদ্যোগকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছিলেন প্রথমে | মনে করা হয়েছিল, তিনি সত্যিই আম জনতার নেত্রী | বিরোধী মমতা আর শাসক মমতার মধ্যে কোনো পার্থক্য লক্ষ্য তখনও পর্যন্ত করা যায়নি |

কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেই উদ্যোগগুলি নিয়েছিলেন তার কোনওটাকেই তিনি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি | তার সবচেয়ে বড় কারণ, তিনি প্রশাসক হিসেবে কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ | এর সর্বপ্রথম বড় উদাহরণ ২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট রেপ কাণ্ড | শ্রীমতি বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি কিনা অতীতে ধর্ষিতা নারীর স্বার্থে খোদ মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দফতরের বাইরে বিশাল কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, নিজে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি নিজেই আঙ্গুল তুললেন এক পীড়িত নারীর প্রতি | একজন সৎ এবং জননেত্রীর পক্ষে এই দ্বিচারিতা প্রচণ্ডরকম ক্ষতিকারক এবং মমতার ক্ষেত্রেও এই রেপ কাণ্ড সেটাই প্রমাণ করল | কিন্তু নেত্রী, হয়ত ক্ষমতার অহংকারেই, প্রকৃত চিত্রটি ধরতেই পারলেন না এবং একের পর এক ভুল করেই চললেন | পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডে এক সৎ পুলিশ অফিসারকে কেস থেকে সরিয়ে দেওয়া তাঁর আরেক বিশাল ভুল |

শ্রীমতি বন্দ্যোপাধ্যায় ভুলের ঘনঘটায়ে যে ব্যাপারটি সবচেয়ে ট্র্যাজিক, তা হল - যেই জনগণ তাঁকে গত তিন দশক ধরে অনেক শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা দান করেছিলেন বামেদের বিরুদ্ধে তাঁর অদমনীয় লড়াই-এর জন্যে, মমতাদেবী ক্ষমতায়ে এসে তাঁদেরই আক্রমণ করে বসলেন | সে কলেজ ছাত্রী হোক কিংবা অধ্যাপক কিংবা গরিব কৃষক, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী যে কোনও সাধারণ মানুষকেই ধমকানো শুরু করলেন | কারণ: এঁরা সবাই তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন | একজন সৎ এবং জনপ্রিয় নেত্রীর পক্ষে এটি আবারও একটি বড় ধাক্কা | অন্য অনেক নেতা-নেত্রী, যাঁরা বিভাজনের রাজনীতি করেন, তাঁরা এমন আচরণ করলেও কেউ হয়তো বিশেষ কিছু বলত না, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি কিনা একা ক্রমাগত লড়াই করে নিজের আজকের জায়গাটি বানিয়েছেন, এরকম করলে মানুষ তা নিশ্চিতভাবেই মানতে পারবে না | বাস্তবেও তাই হয়েছে |

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মমতাদেবীর এই দ্বিচারিতা, যা এই লেখকের মতে তিনি জেনেবুঝেই করেছেন কারণ তিনি জানেন তাঁর পক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মতো কোমর-ভাঙ্গা রাজ্যের মানুষের বিশাল প্রত্যাশা মেটানো এক কথায় অসম্ভব, এরপর প্রবেশ করে অর্থনীতির ক্ষেত্রেও | মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী হয়তো সারদা প্রসঙ্গে ভেবেছিলেন যে সুদীপ্ত সেন নামক টাকার কুমিরটি তাঁকে রাজনৈতিক এবং অবশ্যই অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করবেন | রাজনৈতিকভাবে, সুদীপ্ত সেনের অফুরন্ত ধন তাঁর পার্টির নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে এবং অর্থনৈতিকভাবে তাঁর রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের মতো সমস্যাকে সামলাতে সাহায্য করবে, এটাই হয়ত ছিল মমতাদেবীর হিসেব | কিন্তু, তাঁর অর্থনৈতিক জ্ঞান যে ফুলপ্রুফ ছিল না, সেটা প্রমাণিত হয় অচিরেই |

প্রশাসক মমতা কোনদিনই ধরতে পারেননি রোগের উত্স এবং এগিয়ে গিয়েছেন ভুল পথে

সমস্যা যে, মমতাদেবী তো অর্থনীতির নিয়ম বোঝেনি নি (ঘরের পয়সা যে আমদানি নয় সেটা কি তিনি জানতেন না?), উল্টে তাঁর হ-য-ব-র-ল পার্টির অনেক নেতাই নিজেদের বিশাল কেউকেটা মনে করে তাঁর সততাকে ঢাল বানিয়ে তাঁরই সরকারকেই বেআব্রু করে দেন | মমতাদেবীর উত্থান যেমন তাঁর ব্যক্তিকেন্দ্রিক সাফল্য, তাঁর পতনের মূলেও থাকবে তাঁর পার্টির ব্যক্তিকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতা |

সারদার জল শেষমেষ কোথায়ে গিয়ে দাঁড়াবে কেউ জানে না | এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৬ সালে কুর্সি খোয়াবেন কিনা তাও এই মুহুর্তে বলা কঠিন | বিজেপি কতটা এই কেলেঙ্কারির ফায়দা তুলতে পারবে তার অপেক্ষাকৃত দুর্বল সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে, অন্তত পরের বিধানসভা নির্বাচনে সেটাও প্রশ্ন কারণ রাজনীতিতে দু'বছর বেশ লম্বা সময় | গেরুয়া শিবিরের লোকেরা যতই হাঁকডাক করুক, গ্রামবাংলায় রাতারাতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গা দখল করা খুব সহজ কাজ নয়, অন্তত এখনও পর্যন্ত | কিন্তু যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নিজের সমর্থকদের প্রতি অন্যায় করলেন, তাঁর কোনও ক্ষমা নেই |

কেন মমতাদেবী হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেললেন, ভগবানই জানেন | সততার এমন পরিণামও ভূ-ভারতে বিশেষ আছে বলে মনে হয় না |

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+