আস্তিনের শেষ তাস প্রিয়াঙ্কাকে নামিয়েও বিপর্যয় এড়াতে পারলেন না রাহুল গান্ধী
আস্তিনের শেষ তাস প্রিয়াঙ্কাকে নামিয়েও বিপর্যয় এড়াতে পারলেন না রাহুল গান্ধী; তবে কি তাঁর সরে দাঁড়ানোই শ্রেয়?
বিপুল জনাদেশ নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরছেন নরেন্দ্র মোদী। দু'হাজার চোদ্দ সালের চেয়েও বড় জয় নিয়ে টানা দু'বার সরকার গঠন করে ইন্দিরা গান্ধীর কৃতিত্বকে ছুঁতে চলেছেন বিজেপি প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, প্রায় ২০১৪ সালের মতোই ফলাফল করে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ এলায়েন্স-এর ভবিষ্যৎ এখন বেশ কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন।
যদিও কংগ্রেসের ঝুলিতে পাঁচ বছর আগের থেকে বেশি আসন এবারে আসতে পারে কিন্তু তাতে শেষ ফলাফলে কিছু পরিবর্তন ঘটবে না। অন্যদিকে, দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী যেভাবে কোমর বেঁধে নেমেছিলেন এবারে মোদীকে হারানোর লক্ষ্যে -- রাফালে কান্ড বা কর্মসংস্থান বিষয়ক ইস্যুগুলির উপরে জোর দিয়েছিলেন, ময়দানে নামিয়েছিলেন বোন প্রিয়াঙ্কাকেও, তার পরেও এই ফলাফলে স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের প্রবল হতাশা গ্রাস করারই কথা। এখানে উল্লেখ্য যে গত ডিসেম্বরেই হিন্দি বলয়ের তিনটি বড় রাজ্য -- রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীসগঢ়ে ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। আর তার কিছু মাস আগে কর্ণাটকেও বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে ঠেকিয়ে রাখতে জোট বাঁধে কংগ্রেস ও জনতা দল (সেকুলার)।
যখন ভাবা হচ্ছিল যে কংগ্রেস বুঝি এবারে ঘুরে দাঁড়াবে, তখনই এই বিপর্যয়। কীভাবে বিশ্লেষণ করা যায়?

কোথাও জোট করতে পারেননি রাহুল গান্ধী
প্রথমত, রাহুল গান্ধী এবারে নিঃসন্দেহে লড়েছিলেন জান লাগিয়ে। পরিশ্রম, নিষ্ঠা কিছুই কম দেখাননি। কিন্তু যেটা তিনি পারেননি তা হল জোট তৈরী। পশ্চিমবঙ্গে বামেদের সঙ্গে হোক বা উত্তরপ্রদেশে মহাজোট বা দিল্লিতে আম আদমি পার্টি -- কংগ্রেস কোথাও সুবিধে করতে পারেনি আর সেটা নিঃসন্দেহে শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যর্থতা। গত বছর গো-বলয়ে জেতার সময়ই এবারের লোকসভা নির্বাচনের জোট তৈরির কাজ করে রাখা উচিত ছিল রাহুল গান্ধীর যা তিনি করেননি। হয়তো ভেবেছিলেন ওই রাজ্য নির্বাচনের ফলাফলের পরে আপনা আপনিই বিজেপি এবারে হেরে যাবে যা বাস্তবে হয়নি।

মোদীর বিকল্প হিসেবে রাহুলকে এখনও ভাবতে রাজি নয় মানুষ
দ্বিতীয়ত, রাহুলের নেতৃত্বের উপরে মানুষের বিশ্বাস যে এখনও মজবুত হয়নি, এটা তারই পরিচয়। হয়তো তিনি সাক্ষাৎকার আগের চেয়ে ভালো দিচ্ছেন, নির্ধিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে কথা বলছেন কিন্তু নিজেকে মোদীর যোগ্য বিকল্প হিসেবে তৈরী করতে এখনও সফল হননি। তার জন্যে যেভাবে তৃণমূলস্তরে দলকে চাঙ্গা করার প্রয়োজন, সেটা তিনি এখনও করে উঠতে পারেননি। রাহুল মোদীকে সরাসরি নিশানা করলেও বিভিন্ন রাজ্য স্তরে কংগ্রেসের কোনও পোক্ত নেতৃত্ব এবং সংগঠনই নেই যা বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। সলিলসমাধি।

প্রিয়াঙ্কাকে নামিয়েও কোনও লাভ হল না কংগ্রেসের
কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ যে এই নির্বাচনে আস্তিনের শেষ তাসটি, অর্থাৎ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরাকে নির্বাচনের সাংগঠনিক কাজে নামিয়েও কোনও কাজ হল না। রাহুল নিজের কেন্দ্র আমেথিতেও লড়ছেন জয়ের জন্যে, পিছিয়েও পড়ছেন স্মৃতি ইরানির বিরুদ্ধে যার অর্থ যে গান্ধী পরিবারের গণ আবেদন এবারে নিম্নমুখী এবং তা কংগ্রেসের অস্তিত্বের পক্ষে বেশ সঙ্কটের কারণ হতে পারে আগামী দিনে। এই পরাজয়ে অন্তত এই কথাটি পরিষ্কার যে মুখ নয়, মোদীর বিরুদ্ধে সফলভাবে লড়তে গেলে কংগ্রেসের চাই নতুন ভাবনাচিন্তা।
কংগ্রেসের এই শোচনীয় পরাজয়ের পরে দলের মনোবল ও বাঁধন আলগা হয়ে হাতছাড়া হতে পারে মধ্যপ্রদেশ এবং কর্ণাটকের মতো দু'টি বড় রাজ্য কারণ সেখানে কংগ্রেসের (জোট) সরকার বেশ টলমল করে চলছে। আর সেই দুঃস্বপ্ন যদি সত্যি হয় তাহলে হয়তো রাজনীতি থেকে অকালে সন্ন্যাস নেওয়া ছাড়া রাহুলের আর কোনও উপায় থাকবে না।












Click it and Unblock the Notifications