তাপপ্রবাহের মুখে ভারত একা নয়, নজিরবিহীন তাপ অনুভব করছে পৃথিবীর উভয় মেরুই

তাপপ্রবাহের মুখে ভারত একা নয়, নজিরবিহীন তাপ অনুভব করছে পৃথিবীর উভয় মেরুই

জলবায়ু সঙ্কট প্রবল হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে। এর প্রভাব শুধু ভারতেই নয়, সারা বিশ্বে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমনকী পৃথিবীর মেরুপ্রদেশেও পরিস্থিতি ভিন্ন নয়। আর্কটিক এবং অ্যান্টার্কটিক উভয়ই উষ্ণ হচ্ছে এবং তাপ অনুভব করছে। বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন।

রেকর্ড তাপমাত্রা পৃথিবীর দুই মেরুতে

রেকর্ড তাপমাত্রা পৃথিবীর দুই মেরুতে

মঙ্গলবার অ্যান্টার্কটিক মালভূমির কনকর্ডিয়া স্টেশনের যে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, তা আশঙ্কার। এই সময় সাধারণত আন্টার্কটিক এলাকায় মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। কিন্তু মঙ্গলবার সেখানে থেকে তাপমাত্রা বেড়ে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। তাপমাত্রার এই আকস্মিক বৃদ্ধিতে স্পষ্ট তাপের প্রভাব পড়ছে এই মেরু এলাকাতেও। রাশিয়ার ভোস্টক স্টেশনেও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

বর্তমান তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে বেশি

বর্তমান তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে বেশি

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পৃথিবীর মেরু অঞ্চলও অদ্ভুতভাবে চরম উত্তাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অ্যান্টার্কটিকার কিছু অংশের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে বেশি। যেখানে গড় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেখানে বর্তমান তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আর্কটিক অঞ্চলগুলি গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি, সেখানে বর্তমান ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত উষ্ণ।

আগের মার্চের রেকর্ডকে চমকে দেওয়ার মতো

আগের মার্চের রেকর্ডকে চমকে দেওয়ার মতো

বার্কলে আর্থের প্রধান বিজ্ঞানী ডক্টর রবার্ট রোহডে একটি টুইট বার্তায় বলেন, ডোম সি-এর দূরবর্তী গবেষণা কেন্দ্র বছরের এই সময়ের জন্য স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে, যা আগের মার্চের রেকর্ডকে চমকে দেওয়ার মতো। তুলনায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি এই এলাকার তাপমাত্রা।

তাপমাত্রার বৃদ্ধি এবং বরফ গলন, অত্যাশ্চর্য

তাপমাত্রার বৃদ্ধি এবং বরফ গলন, অত্যাশ্চর্য

জাতীয় তুষার ও বরফ ডেটা সেন্টারের বিজ্ঞানী ওয়াল্ট মেয়ার বলেন, এই সময় আর্কটিক ধীরে ধীরে শীত থেকে বেরিয়ে গ্রীষ্মে প্রবেশ করে। আর অ্যান্টার্কটিক শীতল হয়ে যায়। কিন্তু উভয় মেরু একসঙ্গে গলে যাওয়ায় বিস্মিত বিশেষজ্ঞরা। এতদিন বিপরীত ঋতু দেখা গিয়েছে দুই মেরুতে। এর আগে উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু উভয়ে একই সময়ে তাপমাত্রার বৃদ্ধি এবং বরফ গলন দেখা যায় না। এটা বেশ অত্যাশ্চর্য।

সমুদ্রের জলস্তর ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিপদ

সমুদ্রের জলস্তর ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিপদ

বিজ্ঞানীরা উভয় মেরুতে তাপমাত্রার দ্রুত বৃদ্ধিকে পৃথিবীর জলবায়ু একটি অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার লক্ষণ বলে অভিহিত করেছেন। ক্রমাগত বরফ গলে যাওয়া মানুষের জন্য নতুন সমস্যা নিয়ে আসতে পারে। কারণ সমুদ্রের স্তর প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বাড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে উপকূলরেখা নিমজ্জিত হবে সমুদ্রের জলস্তর ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায়।

শক্তিশালী মেরুমুখী বাতাস তৈরিতে বিপদের শঙ্কা

শক্তিশালী মেরুমুখী বাতাস তৈরিতে বিপদের শঙ্কা

বিজ্ঞানীরা বলেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা শক্তিশালী বাতাস অ্যান্টার্কটিকার অস্বাভাবিক তাপমাত্রা কারণ। নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক অ্যালেক্স সেন গুপ্তা বলেন, "আমাদের অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগরে শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থার সংমিশ্রণ রয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়া থেকে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা পর্যন্ত প্রসারিত অত্যন্ত শক্তিশালী মেরুমুখী বাতাস তৈরি করেছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+